পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

‘টাকা না দেওয়ায়’ অক্সিজেন খুলে নিল কর্মচারী, রোগীর মৃত্যু

ডেস্ক : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলাকে কেন্দ্র করে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্মচারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (বুধবার উল্লেখিত) বিকেলে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। মৃত রোগী দিপালী সিকদার (৫০), বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর সিকদারের স্ত্রী।

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, দিপালী সিকদার তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে মেডিসিন ইউনিটে স্থানান্তর করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে দুই ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে শয্যা সংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে একটি ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল বলে স্বজনদের অভিযোগ।

নিহতের ভাই মিলন হাওলাদার অভিযোগ করেন, মেডিসিন ইউনিট-১ এর এক কর্মচারী সোহেল একটি ট্রলি সরিয়ে নেওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী এক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে অক্সিজেন লাইন বিচ্ছিন্ন করেন। এতে অক্সিজেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রায় দুই মিনিটের মধ্যে রোগীর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করলেও তিনি অক্সিজেন লাইন বিচ্ছিন্ন করেন। এটি একটি পরিকল্পিত অবহেলা ও হত্যাকাণ্ড।’

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে মারধর করলে হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীরা পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।

আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন জানান, ‘উত্তেজিত স্বজনরা অভিযুক্ত কর্মচারীকে মারধর করছিল। পরে আমরা হস্তক্ষেপ করে তাকে উদ্ধার করি।’

সংঘর্ষের পর অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিহতের পরিবার ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

‘টাকা না দেওয়ায়’ অক্সিজেন খুলে নিল কর্মচারী, রোগীর মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০১:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ডেস্ক : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলাকে কেন্দ্র করে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্মচারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (বুধবার উল্লেখিত) বিকেলে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। মৃত রোগী দিপালী সিকদার (৫০), বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর সিকদারের স্ত্রী।

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, দিপালী সিকদার তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে মেডিসিন ইউনিটে স্থানান্তর করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে দুই ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে শয্যা সংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে একটি ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল বলে স্বজনদের অভিযোগ।

নিহতের ভাই মিলন হাওলাদার অভিযোগ করেন, মেডিসিন ইউনিট-১ এর এক কর্মচারী সোহেল একটি ট্রলি সরিয়ে নেওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী এক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে অক্সিজেন লাইন বিচ্ছিন্ন করেন। এতে অক্সিজেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রায় দুই মিনিটের মধ্যে রোগীর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করলেও তিনি অক্সিজেন লাইন বিচ্ছিন্ন করেন। এটি একটি পরিকল্পিত অবহেলা ও হত্যাকাণ্ড।’

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে মারধর করলে হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীরা পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।

আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন জানান, ‘উত্তেজিত স্বজনরা অভিযুক্ত কর্মচারীকে মারধর করছিল। পরে আমরা হস্তক্ষেপ করে তাকে উদ্ধার করি।’

সংঘর্ষের পর অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিহতের পরিবার ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।