অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

নিখোঁজ যাত্রীর তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে

প্রত্যেক নিহতের পরিবার পাবে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা
image_91799_0ফারুক আহম্মেদ সুজন: পদ্মায় ডুবে যাওয়া এমএল পিনাক-৬ লঞ্চটির নিখোঁজ যাত্রীর তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। রাত ৩ টা পর্যন্ত ১১৮ জন নিখোঁজ যাত্রীর তালিকা তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ।

তালিকা তৈরি করতে স্থানীয় প্রশাসন মাওয়া ঘাটে তাবু টাঙিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সেখানে ভিড় জমানো স্বজনদের কাছ থেকে খোঁজ-খবর নিয়ে তালিকায় ১১৮ জনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহবুবুর রহমান নিখোঁজ ১১৮ জনের নাম তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, শ্রীনগর ও লৌহজং থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন পৃথকভাবে মৃতের তালিকা, নিখোঁজের তালিকা ও উদ্ধারের তালিকা তৈরি করছে।

মাওয়া ঘাটের উদ্দেশে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ এমএল পিনাক-৬ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত এবং বাতাসে পড়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।

দুর্ঘটনার পর মাওয়া ঘাট ও আশপাশে থাকা স্পিড বোট, লঞ্চগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া অর্ধশতাধিক যাত্রীকে উদ্ধার করে।

লাশ উদ্ধার
লাশ উদ্ধার বিষয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তখনো পর্যন্ত বিভিন্ন সুত্র থেকে প্রায় ১৫ টি লাশ উদ্ধারের কথা জানা গেলেও মাওয়ার নৌ পুলিশের ইনচার্জ এসআই খন্দকার খালিদ হোসেন ২টি লাশ উদ্ধারের কথা স্বীকার করেন। তিনি আর্থিক সহায়তা দিয়ে স্বজনদের কাছে একটি লাশ হস্তান্তরের কথা জানান।

তদন্ত কমিটি
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য চার জন। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে আছেন সংস্থার প্রকৌশলী (শিপ সার্ভেয়ার) নাজমুল হক। আর নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সাত সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে যুগ্ম সচিব নুরুর রহমানকে।

সোমবার সন্ধ্যায় নৌপরিবহণ মন্ত্রাণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই কমিটি আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

আর্থিক সহায়তা
নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসন। এ টাকার মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ যাত্রী কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ১ লাখ ৫ হাজার এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

লঞ্চডুবির খবর পেয়েই নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান মাওয়ায় ছুটে যান। কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন তিনি। পরে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীতে নৌকাডুবে আট জনের মৃত্যু হয়। তার দুই দিন আগে কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে নৌভ্রমণে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাণ ১১ জন।

গত ১৫ মে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার দৌলতপুরের কাছে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে এমভি মিরাজ-৪ নামে একটি লঞ্চ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় নদী থেকে মোট ৫৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

নিখোঁজ যাত্রীর তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে

আপডেট টাইম : ০৩:৪৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০১৪

প্রত্যেক নিহতের পরিবার পাবে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা
image_91799_0ফারুক আহম্মেদ সুজন: পদ্মায় ডুবে যাওয়া এমএল পিনাক-৬ লঞ্চটির নিখোঁজ যাত্রীর তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। রাত ৩ টা পর্যন্ত ১১৮ জন নিখোঁজ যাত্রীর তালিকা তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ।

তালিকা তৈরি করতে স্থানীয় প্রশাসন মাওয়া ঘাটে তাবু টাঙিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সেখানে ভিড় জমানো স্বজনদের কাছ থেকে খোঁজ-খবর নিয়ে তালিকায় ১১৮ জনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহবুবুর রহমান নিখোঁজ ১১৮ জনের নাম তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, শ্রীনগর ও লৌহজং থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন পৃথকভাবে মৃতের তালিকা, নিখোঁজের তালিকা ও উদ্ধারের তালিকা তৈরি করছে।

মাওয়া ঘাটের উদ্দেশে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ এমএল পিনাক-৬ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত এবং বাতাসে পড়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।

দুর্ঘটনার পর মাওয়া ঘাট ও আশপাশে থাকা স্পিড বোট, লঞ্চগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া অর্ধশতাধিক যাত্রীকে উদ্ধার করে।

লাশ উদ্ধার
লাশ উদ্ধার বিষয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তখনো পর্যন্ত বিভিন্ন সুত্র থেকে প্রায় ১৫ টি লাশ উদ্ধারের কথা জানা গেলেও মাওয়ার নৌ পুলিশের ইনচার্জ এসআই খন্দকার খালিদ হোসেন ২টি লাশ উদ্ধারের কথা স্বীকার করেন। তিনি আর্থিক সহায়তা দিয়ে স্বজনদের কাছে একটি লাশ হস্তান্তরের কথা জানান।

তদন্ত কমিটি
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য চার জন। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে আছেন সংস্থার প্রকৌশলী (শিপ সার্ভেয়ার) নাজমুল হক। আর নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সাত সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে যুগ্ম সচিব নুরুর রহমানকে।

সোমবার সন্ধ্যায় নৌপরিবহণ মন্ত্রাণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই কমিটি আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

আর্থিক সহায়তা
নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসন। এ টাকার মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ যাত্রী কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ১ লাখ ৫ হাজার এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

লঞ্চডুবির খবর পেয়েই নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান মাওয়ায় ছুটে যান। কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন তিনি। পরে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীতে নৌকাডুবে আট জনের মৃত্যু হয়। তার দুই দিন আগে কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে নৌভ্রমণে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাণ ১১ জন।

গত ১৫ মে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার দৌলতপুরের কাছে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে এমভি মিরাজ-৪ নামে একটি লঞ্চ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় নদী থেকে মোট ৫৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।