পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছেন ড. মিজান : ডিএমপি

বাংলার খবর২৪.কম untitled-1_57084 : জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান জঙ্গিবাদের পক্ষ নিয়ে দেশে জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে পুলিশের গুলিতে আহত নাফিস সালাম নামের এক তরুণকে দেখতে গিয়ে ড. মিজানুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে ডিএমপি।

বুধবার রাতে ডিএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ড. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ উস্কে দেয়ার এই অভিযোগ আনা হয়।

বিবৃতিতে ডিএমপি অভিযোগ করেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশের সক্রিয় সদস্য নাফিস সালামকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে পরোক্ষভাবে জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

ডিএমপির দাবি, হিযবুত তাহরীর একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন। নাফিস সালাম এই সংগঠনের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক পরামর্শক। ড. মিজানুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের একটি সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। তিনি এ পদে কর্মরত থেকে একজন আসামির সঙ্গে আদালতের অনুমতি ব্যতীত হাসপাতালে দেখা করতে গিয়েছেন। এতে আইন এবং শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়েছে। যা ভবিষ্যতে অন্যান্য নাগরিকদের মধ্যে আইন লংঘনের প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে। তদুপরি যাচাই বাছাই ব্যতীত নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সন্ত্রাসী সংগঠনের আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে একতরফাভাবে বক্তব্য প্রদান জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করতে পারে। এর মাধ্যমে তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

‘সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ড সম্পর্কে অনভিপ্রেত মন্তব্য করেছেন। যা পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দিতে পারে এবং এর ফলে জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়াও এ বক্তব্য পুলিশ বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা বিনষ্টের কারণ হতে পারে।

ডিএমপির দাবি গত বছর ডিসেম্বর মাসেও একটি নিদিষ্ট জেলাকে কটাক্ষ করে বক্তব্য প্রদান করেন ড. মিজানুর রহমান। এবারও একই সুরে কথা বলছেন।

ডিএমপির বিবৃতিতে আরো বলা হয়; ‘ড. মিজানুর রহমান এর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভুল ইঙ্গিত দিতে পারে। একটি সাংবিধানিক পদে থেকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দিয়ে তিনি কি অর্জন করতে চেয়েছেন তা বোধগম্য নয়। দায়িত্বশীল সকল ব্যক্তিকে এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য পরিহার করতে ডিএমপি অনুরোধ করছে।’

এর আগে বুধবার সকালে ড. মিজানুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাফিসকে দেখতে যান। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘একটি জেলার নাম ব্যবহার করে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করার চেষ্টা করছেন। একটি নির্দিষ্ট জেলার পুলিশ যেন আইনের ঊর্ধ্বে। সভ্য সমাজে তারা যে ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন তা মেনে নেওয়া যায় না।’

এসময় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে এই বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। অন্যথায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে তা রাষ্ট্রপতির নজরে আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর দুপুরে মোহাম্মদপুর ইকবাল রোড বায়তুস সালাম মসজিদের সামনে নাফিস সালামকে পুলিশ গুলি করে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছেন ড. মিজান : ডিএমপি

আপডেট টাইম : ০৬:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম untitled-1_57084 : জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান জঙ্গিবাদের পক্ষ নিয়ে দেশে জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে পুলিশের গুলিতে আহত নাফিস সালাম নামের এক তরুণকে দেখতে গিয়ে ড. মিজানুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে ডিএমপি।

বুধবার রাতে ডিএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ড. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ উস্কে দেয়ার এই অভিযোগ আনা হয়।

বিবৃতিতে ডিএমপি অভিযোগ করেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশের সক্রিয় সদস্য নাফিস সালামকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে পরোক্ষভাবে জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

ডিএমপির দাবি, হিযবুত তাহরীর একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন। নাফিস সালাম এই সংগঠনের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক পরামর্শক। ড. মিজানুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের একটি সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। তিনি এ পদে কর্মরত থেকে একজন আসামির সঙ্গে আদালতের অনুমতি ব্যতীত হাসপাতালে দেখা করতে গিয়েছেন। এতে আইন এবং শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়েছে। যা ভবিষ্যতে অন্যান্য নাগরিকদের মধ্যে আইন লংঘনের প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে। তদুপরি যাচাই বাছাই ব্যতীত নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সন্ত্রাসী সংগঠনের আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে একতরফাভাবে বক্তব্য প্রদান জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করতে পারে। এর মাধ্যমে তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

‘সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ড সম্পর্কে অনভিপ্রেত মন্তব্য করেছেন। যা পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দিতে পারে এবং এর ফলে জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়াও এ বক্তব্য পুলিশ বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা বিনষ্টের কারণ হতে পারে।

ডিএমপির দাবি গত বছর ডিসেম্বর মাসেও একটি নিদিষ্ট জেলাকে কটাক্ষ করে বক্তব্য প্রদান করেন ড. মিজানুর রহমান। এবারও একই সুরে কথা বলছেন।

ডিএমপির বিবৃতিতে আরো বলা হয়; ‘ড. মিজানুর রহমান এর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভুল ইঙ্গিত দিতে পারে। একটি সাংবিধানিক পদে থেকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দিয়ে তিনি কি অর্জন করতে চেয়েছেন তা বোধগম্য নয়। দায়িত্বশীল সকল ব্যক্তিকে এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য পরিহার করতে ডিএমপি অনুরোধ করছে।’

এর আগে বুধবার সকালে ড. মিজানুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাফিসকে দেখতে যান। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘একটি জেলার নাম ব্যবহার করে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করার চেষ্টা করছেন। একটি নির্দিষ্ট জেলার পুলিশ যেন আইনের ঊর্ধ্বে। সভ্য সমাজে তারা যে ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন তা মেনে নেওয়া যায় না।’

এসময় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে এই বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। অন্যথায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে তা রাষ্ট্রপতির নজরে আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর দুপুরে মোহাম্মদপুর ইকবাল রোড বায়তুস সালাম মসজিদের সামনে নাফিস সালামকে পুলিশ গুলি করে।