পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরণের আশঙ্কা : উৎকণ্ঠায় ৬৫০ পরিবার

সুনামগঞ্জ : ফের গ্যাস বিস্ফোরণের আশঙ্কায় রয়েছেন সুনামগঞ্জ দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড (পরিত্যক্ত) সংলগ্ন টেংরাটিলাসহ আশপাশের গ্রামবাসী। ফলে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে এখানকার প্রায় সাড়ে ছয় শতাধিক পরিবার।

জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরিত্যক্ত এই গ্যাসফিল্ডের আশপাশ দিয়ে প্রথমে একটু একটু করে গ্যাস উদগীরণ শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। এই সংবাদটি ইতিমধ্যে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নাইকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলেও তাদের ঘুম যেন ভাঙছে না।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন ফের দুর্ঘটনা ঘটলেই কি সংশ্লিষ্টদের ঘুম ভাঙবে ?

গত ২৭ অক্টোবর রোববার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সরেজমিনে গ্যাস ফিল্ড পরিদর্শন করেন। এর পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি আদায়ে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিমুদ্দিন জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত রিপোর্ট দিলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এর ফলে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে এখানকার প্রায় সাড়ে ছয় শতাধিক পরিবার।

তিনি আরো জানান, বাড়িঘর, জমি, পুকুর, রাস্তার পর গত দুইদিন ধরে গ্রামের রাশিদ মিয়ার নলকূপ দিয়ে পানির সঙ্গে অবিরাম গ্যাস বাহির হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে একাধিক পরিবার অন্যত্র চলে গেছেন। তাছাড়া বিশুদ্ধ খাবার পানি এখানে পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত অন্য গ্রাম থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন গত ১৫ নভেম্বর শুক্রবার পরিদর্শন করে বিষয়টি সরেজমিন দেখেছেন বলেও তিনি জানান।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর টেংরাটিলায় ‘গ্যাস উদগীরণ বাড়ছে আতঙ্কিত এলাকাবাসী’ শিরোনামে এ একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম ওইদিন বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, খণিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টার শনিবার সকালে জানান, বর্তমানে গ্যাস উদগীরণের চরম অবনতিসহ আরো ব্যাপক স্থানে এর বিস্তার লাভ করছে। এতে যেকোন সময়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা কিংবা ভূমি ধসের আশঙ্কায় ভুগছেন এখানকার মানুষ। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি নাইকোর ঢাকা অফিস সংশ্লিষ্টদের বার বার জানানোর পরেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি।

জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে ঘটনাস্থল দেখভালের তাগিদ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও একই বছরের ২৪ জুন দু’দফা বিস্ফোরণের ফলে গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন কূপের রিগ ভেঙে বিকট আওয়াজে ভয়াবহ কম্পনসহ আগুনের লেলিহান শিখায় কমপক্ষে ৫২ বিসিক গ্যাসের রিজার্ভ ধ্বংস হয়েছিল। এছাড়া টেংরাটিলাসহ আশপাশের আজবপুর, গিরিশপুর, কৈয়াজুরি ও শান্তিপুরে মানুষের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্তসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো। নাইকো কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীকে নামকাওয়াস্তে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মামলা জটিলতার কারণে গ্যাসফিল্ডের সকল যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেয়।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরণের আশঙ্কা : উৎকণ্ঠায় ৬৫০ পরিবার

আপডেট টাইম : ০৭:১৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৪

সুনামগঞ্জ : ফের গ্যাস বিস্ফোরণের আশঙ্কায় রয়েছেন সুনামগঞ্জ দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড (পরিত্যক্ত) সংলগ্ন টেংরাটিলাসহ আশপাশের গ্রামবাসী। ফলে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে এখানকার প্রায় সাড়ে ছয় শতাধিক পরিবার।

জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরিত্যক্ত এই গ্যাসফিল্ডের আশপাশ দিয়ে প্রথমে একটু একটু করে গ্যাস উদগীরণ শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। এই সংবাদটি ইতিমধ্যে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নাইকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলেও তাদের ঘুম যেন ভাঙছে না।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন ফের দুর্ঘটনা ঘটলেই কি সংশ্লিষ্টদের ঘুম ভাঙবে ?

গত ২৭ অক্টোবর রোববার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সরেজমিনে গ্যাস ফিল্ড পরিদর্শন করেন। এর পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি আদায়ে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিমুদ্দিন জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত রিপোর্ট দিলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এর ফলে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে এখানকার প্রায় সাড়ে ছয় শতাধিক পরিবার।

তিনি আরো জানান, বাড়িঘর, জমি, পুকুর, রাস্তার পর গত দুইদিন ধরে গ্রামের রাশিদ মিয়ার নলকূপ দিয়ে পানির সঙ্গে অবিরাম গ্যাস বাহির হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে একাধিক পরিবার অন্যত্র চলে গেছেন। তাছাড়া বিশুদ্ধ খাবার পানি এখানে পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত অন্য গ্রাম থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন গত ১৫ নভেম্বর শুক্রবার পরিদর্শন করে বিষয়টি সরেজমিন দেখেছেন বলেও তিনি জানান।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর টেংরাটিলায় ‘গ্যাস উদগীরণ বাড়ছে আতঙ্কিত এলাকাবাসী’ শিরোনামে এ একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম ওইদিন বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, খণিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টার শনিবার সকালে জানান, বর্তমানে গ্যাস উদগীরণের চরম অবনতিসহ আরো ব্যাপক স্থানে এর বিস্তার লাভ করছে। এতে যেকোন সময়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা কিংবা ভূমি ধসের আশঙ্কায় ভুগছেন এখানকার মানুষ। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি নাইকোর ঢাকা অফিস সংশ্লিষ্টদের বার বার জানানোর পরেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি।

জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে ঘটনাস্থল দেখভালের তাগিদ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও একই বছরের ২৪ জুন দু’দফা বিস্ফোরণের ফলে গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন কূপের রিগ ভেঙে বিকট আওয়াজে ভয়াবহ কম্পনসহ আগুনের লেলিহান শিখায় কমপক্ষে ৫২ বিসিক গ্যাসের রিজার্ভ ধ্বংস হয়েছিল। এছাড়া টেংরাটিলাসহ আশপাশের আজবপুর, গিরিশপুর, কৈয়াজুরি ও শান্তিপুরে মানুষের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্তসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো। নাইকো কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীকে নামকাওয়াস্তে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মামলা জটিলতার কারণে গ্যাসফিল্ডের সকল যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেয়।