অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

শান্তির দাবিতে ফুটপাথে ৪০ দিন

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আলোচনায় বসে দেশকে বাঁচান, বেগম খালেদা জিয়ার কাছে হরতাল অবরোধ প্রত্যাহার করে মানুষ বাঁচানোর দাবি নিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে মতিঝিলের ফুটপাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন একাত্তরের কিংবদন্তী যোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু হত্যার একমাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।

প্রকারন্তরে দাবি একটাই, হানাহানি-জেদাজেদি বন্ধ করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

ক্যালেন্ডারের পাতার হিসাবে ৮ মার্চ (রোববার) তার এই অহিংস, শান্তিপূর্ণ ব্যতিক্রমী আন্দোলনের ৪০দিন পূর্ণ হলো। এখন পুলিশি হয়রানি বন্ধ হলেও এই আন্দোলনের প্রথম দিকে কর্মীদের গ্রেফতার, অবস্থানের মঞ্চ, চেয়ার, মাইক, কাপড় ইত্যাদি বারবার নিয়ে গেছে মতিঝিল থানার পুলিশ।

বাধ্য হয়েই ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবীর, ‘সরকার মতিঝিলে থাকতে না দিলে প্রধানমন্ত্রীর গণভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেব।’

দেশের বর্তমান সংকটময় অবস্থায় ঘরে বসে আফসোস করার চাইতে রাস্তায় বসে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করেছেন তিনি। পুলিশি বাধা, ঝড়-বৃষ্টি, শীতের প্রকোপ কোনকিছুই তার অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি তাকে।

শুধুমাত্র বড়ভাইয়ের গুরুতর অসুস্থতার খবরে গত ২৮ ফেব্রয়ারি শাহবাগের বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। ৪০ দিনে এদিনই শুধু গাড়িতে আরোহন করেন তিনি। তাছাড়া প্রতি শুক্রবারেই জুমার নামায পড়তে গেছেন বায়তুল মোকাররম মসজিদে, পায়ে হেঁটে। এমনই এক শুক্রবার ছিলো ৬ ফেব্রয়ারি। বায়তুল মোকাররমে নামায পড়ে এসে দেখেন ফুটপাত থেকে পুলিশ তার সবচিছুই নিয়ে গেছে। অবশেষে মাদুর বিছিয়ে ফুটপাথেই বসে পড়েন তিনি।

শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তিনি, তার দলের কর্মীরা সহযোগিতা করছে এতে। তার প্রতি কর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক আত্মত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে বঙ্গবীর বলেন, ‘একজন মা তার সদ্যজাত সন্তানকে যেমন করে আগলে রাখে, আমার দলের কর্মীরাও আমাকে তেমন করে আগলে রেখেছেন।’

কর্মসূচির ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে রোববার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা, দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মতামত শুনবেন তিনি।

এ উপলক্ষে মতিঝিলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভার মতামত বিবেচনায় নিয়ে তিনি তার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

শান্তির দাবিতে ফুটপাথে ৪০ দিন

আপডেট টাইম : ০৩:২১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০১৫

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আলোচনায় বসে দেশকে বাঁচান, বেগম খালেদা জিয়ার কাছে হরতাল অবরোধ প্রত্যাহার করে মানুষ বাঁচানোর দাবি নিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে মতিঝিলের ফুটপাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন একাত্তরের কিংবদন্তী যোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু হত্যার একমাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।

প্রকারন্তরে দাবি একটাই, হানাহানি-জেদাজেদি বন্ধ করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

ক্যালেন্ডারের পাতার হিসাবে ৮ মার্চ (রোববার) তার এই অহিংস, শান্তিপূর্ণ ব্যতিক্রমী আন্দোলনের ৪০দিন পূর্ণ হলো। এখন পুলিশি হয়রানি বন্ধ হলেও এই আন্দোলনের প্রথম দিকে কর্মীদের গ্রেফতার, অবস্থানের মঞ্চ, চেয়ার, মাইক, কাপড় ইত্যাদি বারবার নিয়ে গেছে মতিঝিল থানার পুলিশ।

বাধ্য হয়েই ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবীর, ‘সরকার মতিঝিলে থাকতে না দিলে প্রধানমন্ত্রীর গণভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেব।’

দেশের বর্তমান সংকটময় অবস্থায় ঘরে বসে আফসোস করার চাইতে রাস্তায় বসে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করেছেন তিনি। পুলিশি বাধা, ঝড়-বৃষ্টি, শীতের প্রকোপ কোনকিছুই তার অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি তাকে।

শুধুমাত্র বড়ভাইয়ের গুরুতর অসুস্থতার খবরে গত ২৮ ফেব্রয়ারি শাহবাগের বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। ৪০ দিনে এদিনই শুধু গাড়িতে আরোহন করেন তিনি। তাছাড়া প্রতি শুক্রবারেই জুমার নামায পড়তে গেছেন বায়তুল মোকাররম মসজিদে, পায়ে হেঁটে। এমনই এক শুক্রবার ছিলো ৬ ফেব্রয়ারি। বায়তুল মোকাররমে নামায পড়ে এসে দেখেন ফুটপাত থেকে পুলিশ তার সবচিছুই নিয়ে গেছে। অবশেষে মাদুর বিছিয়ে ফুটপাথেই বসে পড়েন তিনি।

শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তিনি, তার দলের কর্মীরা সহযোগিতা করছে এতে। তার প্রতি কর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক আত্মত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে বঙ্গবীর বলেন, ‘একজন মা তার সদ্যজাত সন্তানকে যেমন করে আগলে রাখে, আমার দলের কর্মীরাও আমাকে তেমন করে আগলে রেখেছেন।’

কর্মসূচির ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে রোববার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা, দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মতামত শুনবেন তিনি।

এ উপলক্ষে মতিঝিলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভার মতামত বিবেচনায় নিয়ে তিনি তার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।