পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা Logo পাটগ্রামে রংপুর ও পাটগ্রাম সোনালী অতীতের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিআরটিএ’র রোড শো Logo ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

শান্তির দাবিতে ফুটপাথে ৪০ দিন

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আলোচনায় বসে দেশকে বাঁচান, বেগম খালেদা জিয়ার কাছে হরতাল অবরোধ প্রত্যাহার করে মানুষ বাঁচানোর দাবি নিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে মতিঝিলের ফুটপাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন একাত্তরের কিংবদন্তী যোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু হত্যার একমাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।

প্রকারন্তরে দাবি একটাই, হানাহানি-জেদাজেদি বন্ধ করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

ক্যালেন্ডারের পাতার হিসাবে ৮ মার্চ (রোববার) তার এই অহিংস, শান্তিপূর্ণ ব্যতিক্রমী আন্দোলনের ৪০দিন পূর্ণ হলো। এখন পুলিশি হয়রানি বন্ধ হলেও এই আন্দোলনের প্রথম দিকে কর্মীদের গ্রেফতার, অবস্থানের মঞ্চ, চেয়ার, মাইক, কাপড় ইত্যাদি বারবার নিয়ে গেছে মতিঝিল থানার পুলিশ।

বাধ্য হয়েই ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবীর, ‘সরকার মতিঝিলে থাকতে না দিলে প্রধানমন্ত্রীর গণভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেব।’

দেশের বর্তমান সংকটময় অবস্থায় ঘরে বসে আফসোস করার চাইতে রাস্তায় বসে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করেছেন তিনি। পুলিশি বাধা, ঝড়-বৃষ্টি, শীতের প্রকোপ কোনকিছুই তার অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি তাকে।

শুধুমাত্র বড়ভাইয়ের গুরুতর অসুস্থতার খবরে গত ২৮ ফেব্রয়ারি শাহবাগের বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। ৪০ দিনে এদিনই শুধু গাড়িতে আরোহন করেন তিনি। তাছাড়া প্রতি শুক্রবারেই জুমার নামায পড়তে গেছেন বায়তুল মোকাররম মসজিদে, পায়ে হেঁটে। এমনই এক শুক্রবার ছিলো ৬ ফেব্রয়ারি। বায়তুল মোকাররমে নামায পড়ে এসে দেখেন ফুটপাত থেকে পুলিশ তার সবচিছুই নিয়ে গেছে। অবশেষে মাদুর বিছিয়ে ফুটপাথেই বসে পড়েন তিনি।

শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তিনি, তার দলের কর্মীরা সহযোগিতা করছে এতে। তার প্রতি কর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক আত্মত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে বঙ্গবীর বলেন, ‘একজন মা তার সদ্যজাত সন্তানকে যেমন করে আগলে রাখে, আমার দলের কর্মীরাও আমাকে তেমন করে আগলে রেখেছেন।’

কর্মসূচির ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে রোববার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা, দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মতামত শুনবেন তিনি।

এ উপলক্ষে মতিঝিলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভার মতামত বিবেচনায় নিয়ে তিনি তার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ

শান্তির দাবিতে ফুটপাথে ৪০ দিন

আপডেট টাইম : ০৩:২১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০১৫

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আলোচনায় বসে দেশকে বাঁচান, বেগম খালেদা জিয়ার কাছে হরতাল অবরোধ প্রত্যাহার করে মানুষ বাঁচানোর দাবি নিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে মতিঝিলের ফুটপাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন একাত্তরের কিংবদন্তী যোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু হত্যার একমাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।

প্রকারন্তরে দাবি একটাই, হানাহানি-জেদাজেদি বন্ধ করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

ক্যালেন্ডারের পাতার হিসাবে ৮ মার্চ (রোববার) তার এই অহিংস, শান্তিপূর্ণ ব্যতিক্রমী আন্দোলনের ৪০দিন পূর্ণ হলো। এখন পুলিশি হয়রানি বন্ধ হলেও এই আন্দোলনের প্রথম দিকে কর্মীদের গ্রেফতার, অবস্থানের মঞ্চ, চেয়ার, মাইক, কাপড় ইত্যাদি বারবার নিয়ে গেছে মতিঝিল থানার পুলিশ।

বাধ্য হয়েই ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবীর, ‘সরকার মতিঝিলে থাকতে না দিলে প্রধানমন্ত্রীর গণভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেব।’

দেশের বর্তমান সংকটময় অবস্থায় ঘরে বসে আফসোস করার চাইতে রাস্তায় বসে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করেছেন তিনি। পুলিশি বাধা, ঝড়-বৃষ্টি, শীতের প্রকোপ কোনকিছুই তার অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি তাকে।

শুধুমাত্র বড়ভাইয়ের গুরুতর অসুস্থতার খবরে গত ২৮ ফেব্রয়ারি শাহবাগের বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। ৪০ দিনে এদিনই শুধু গাড়িতে আরোহন করেন তিনি। তাছাড়া প্রতি শুক্রবারেই জুমার নামায পড়তে গেছেন বায়তুল মোকাররম মসজিদে, পায়ে হেঁটে। এমনই এক শুক্রবার ছিলো ৬ ফেব্রয়ারি। বায়তুল মোকাররমে নামায পড়ে এসে দেখেন ফুটপাত থেকে পুলিশ তার সবচিছুই নিয়ে গেছে। অবশেষে মাদুর বিছিয়ে ফুটপাথেই বসে পড়েন তিনি।

শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তিনি, তার দলের কর্মীরা সহযোগিতা করছে এতে। তার প্রতি কর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক আত্মত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে বঙ্গবীর বলেন, ‘একজন মা তার সদ্যজাত সন্তানকে যেমন করে আগলে রাখে, আমার দলের কর্মীরাও আমাকে তেমন করে আগলে রেখেছেন।’

কর্মসূচির ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে রোববার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা, দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মতামত শুনবেন তিনি।

এ উপলক্ষে মতিঝিলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভার মতামত বিবেচনায় নিয়ে তিনি তার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।