পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা Logo পাটগ্রামে রংপুর ও পাটগ্রাম সোনালী অতীতের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিআরটিএ’র রোড শো Logo ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

বেনাপোল বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় শত কোটি টাকার গাড়ি

যশোর : চলমান হরতাল-অবরোধের কারণে গাড়ি ছাড় করাতে পারছেন না আমদানিকারকরা। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে খালাসের অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছে কয়েকটি কোম্পানির ২ হাজার ১৬৯টি গাড়ি।

ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক রাখার স্থানে গাড়িগুলো ফেলে রাখায় ট্রাক রাখার স্থান সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, গাড়িগুলো ছাড় করাতে আমদানিকারকদের তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও তারা কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছেন না। এ কারণে চলতি মাসে তাদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে গাড়িগুলো ছাড় না করালে নিলামে তোলা হবে। বন্দরের শেডে পড়ে থাকা গাড়ির মূল্য শত কোটি টাকা বলে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এতে সরকারের রাজস্ব পাওনা রয়েছে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা।

তবে আমদানিকারকরা বলছেন, দেশে এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। টানা অবরোধ-হরতালে গাড়ি বের করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই গাড়িগুলো ধীরে ধীরে ছাড় করানো হচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার অনুপম চাকমা বলেন, ‘আমাদের নিয়ম রয়েছে গাড়ি আমদানির পর ৩০ দিন পার হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দিয়ে গাড়ি ছাড় করানোর জন্য বলা। এর পর সাড়া না পাওয়া গেলে তা নিলামে ওঠানোর নিয়ম রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাড়িগুলো দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা আমদানি করে এনেছেন। তাই তাদের দিকে তাকিয়ে দুই মাস ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বার বার সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দিলেও তারা কোনো জবাব দিচ্ছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে শোকজ করা হয়েছে। এর পরও তারা গাড়ি খালাস না করলে তা নিলামে ওঠানো হবে।’

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি করা হয়েছে ২৩ হাজার ৮৯৭টি। এর মধ্যে খালাস হয়েছে ২৩ হাজার ২৬৭টি। আর চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে গাড়ি আমদানি হয়েছে ১৫ হাজার ১৬৭টি। খালাস হয়েছে ১৪ হাজার ৭৯৭টি। এ দুই অর্থবছরে মোট এক হাজার গাড়িসহ আগের থাকা ১ হাজার ১৬৯টি মিলে মোট ২ হাজার ১৬৯টি গাড়ি বর্তমানে বন্দরের শেডে পড়ে রয়েছে।

বন্দরে পড়ে থাকা আমদানি করা গাড়ির মধ্যে রয়েছে- ট্রাক, পিকআপ ও ছোট প্রাইভেটকার।

সময় বৃদ্ধি করার আবেদন দিয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান র‌্যাংগস মোটরসের জেনারেল ম্যানেজার সত্যজিৎ সাহা বেনাপোল কাস্টমসকে বলেছেন, ‘গাড়ি ছাড় করানোর দিন থেকে আমাদের ব্যাংক সুদ দিতে হয়। ছাড় করানোর পরে যদি গাড়ি বিক্রি না হয় তাহলে আমাদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হবে।’

এ বিষয়ে নিটল গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক(ডিজিএম) গোলাম রব্বানি বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গাড়ি বেনাপোল থেকে নিয়ে আসা যাচ্ছে না। আবার নিয়ে এলেও বিক্রি হচ্ছে না। তাই ধীরে ধীরে গাড়ি ছাড় করানো হচ্ছে।’

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সহ-সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সুজা বলেন, ‘বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা গাড়ি ছাড় না হওয়ার কারণ হল ব্যবসায়িক মন্দা। ব্যাংকের উচ্চসুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা করা বর্তমান সময়ে খুবই কঠিন। কেউ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে নিলামে দিতে চান না। হয়তো বাধ্য হয়ে তারা গাড়ি ছাড় করাচ্ছেন না।’

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম-কমিশনার আতিকুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দিয়ে চলতি মাসের মধ্যে গাড়ি ছাড় করাতে বলা হয়েছে। তা না করলে আগামী মাসের প্রথম দিকে নিলাম আহ্বান করা হবে। এতে সরকারও লাভবান হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ

বেনাপোল বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় শত কোটি টাকার গাড়ি

আপডেট টাইম : ০৪:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০১৫

যশোর : চলমান হরতাল-অবরোধের কারণে গাড়ি ছাড় করাতে পারছেন না আমদানিকারকরা। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে খালাসের অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছে কয়েকটি কোম্পানির ২ হাজার ১৬৯টি গাড়ি।

ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক রাখার স্থানে গাড়িগুলো ফেলে রাখায় ট্রাক রাখার স্থান সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, গাড়িগুলো ছাড় করাতে আমদানিকারকদের তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও তারা কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছেন না। এ কারণে চলতি মাসে তাদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে গাড়িগুলো ছাড় না করালে নিলামে তোলা হবে। বন্দরের শেডে পড়ে থাকা গাড়ির মূল্য শত কোটি টাকা বলে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এতে সরকারের রাজস্ব পাওনা রয়েছে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা।

তবে আমদানিকারকরা বলছেন, দেশে এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। টানা অবরোধ-হরতালে গাড়ি বের করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই গাড়িগুলো ধীরে ধীরে ছাড় করানো হচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার অনুপম চাকমা বলেন, ‘আমাদের নিয়ম রয়েছে গাড়ি আমদানির পর ৩০ দিন পার হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দিয়ে গাড়ি ছাড় করানোর জন্য বলা। এর পর সাড়া না পাওয়া গেলে তা নিলামে ওঠানোর নিয়ম রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাড়িগুলো দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা আমদানি করে এনেছেন। তাই তাদের দিকে তাকিয়ে দুই মাস ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বার বার সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দিলেও তারা কোনো জবাব দিচ্ছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে শোকজ করা হয়েছে। এর পরও তারা গাড়ি খালাস না করলে তা নিলামে ওঠানো হবে।’

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি করা হয়েছে ২৩ হাজার ৮৯৭টি। এর মধ্যে খালাস হয়েছে ২৩ হাজার ২৬৭টি। আর চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে গাড়ি আমদানি হয়েছে ১৫ হাজার ১৬৭টি। খালাস হয়েছে ১৪ হাজার ৭৯৭টি। এ দুই অর্থবছরে মোট এক হাজার গাড়িসহ আগের থাকা ১ হাজার ১৬৯টি মিলে মোট ২ হাজার ১৬৯টি গাড়ি বর্তমানে বন্দরের শেডে পড়ে রয়েছে।

বন্দরে পড়ে থাকা আমদানি করা গাড়ির মধ্যে রয়েছে- ট্রাক, পিকআপ ও ছোট প্রাইভেটকার।

সময় বৃদ্ধি করার আবেদন দিয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান র‌্যাংগস মোটরসের জেনারেল ম্যানেজার সত্যজিৎ সাহা বেনাপোল কাস্টমসকে বলেছেন, ‘গাড়ি ছাড় করানোর দিন থেকে আমাদের ব্যাংক সুদ দিতে হয়। ছাড় করানোর পরে যদি গাড়ি বিক্রি না হয় তাহলে আমাদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হবে।’

এ বিষয়ে নিটল গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক(ডিজিএম) গোলাম রব্বানি বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গাড়ি বেনাপোল থেকে নিয়ে আসা যাচ্ছে না। আবার নিয়ে এলেও বিক্রি হচ্ছে না। তাই ধীরে ধীরে গাড়ি ছাড় করানো হচ্ছে।’

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সহ-সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সুজা বলেন, ‘বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা গাড়ি ছাড় না হওয়ার কারণ হল ব্যবসায়িক মন্দা। ব্যাংকের উচ্চসুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা করা বর্তমান সময়ে খুবই কঠিন। কেউ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে নিলামে দিতে চান না। হয়তো বাধ্য হয়ে তারা গাড়ি ছাড় করাচ্ছেন না।’

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম-কমিশনার আতিকুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দিয়ে চলতি মাসের মধ্যে গাড়ি ছাড় করাতে বলা হয়েছে। তা না করলে আগামী মাসের প্রথম দিকে নিলাম আহ্বান করা হবে। এতে সরকারও লাভবান হবে।