পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

১৬ বছর পর পাকিস্তান গেরো খুলল টাইগাররা

ঢাকা : ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েই ওই বার শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর গঙ্গায় গড়িয়েছে অনেক জল। কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়টা অধরাই ছিল টাইগারদের। অবশেষে অধরা জয়টা ধরা দিল এবার। প্রায় ১৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে সফরকারীদের বিপক্ষে ৭৯ রানের বড় জয় পেয়েছে টাইগাররা।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে ভালো সংগ্রহই এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। কিন্তু এই রান তুলতেই খেলে ফেলেছিলেন ৮০ বল! ওয়ানডে ক্রিকেটে যা বেশ বেমানান।

দলীয় ৪৮ রানে সৌম্য আউট হয়ে গেলে উইকেটে এসে থিতু হওয়ার আগেই ফেরেন বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা মাহমুদুল্লাহ। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ কিছুটা ব্যাকফুটে। ঠিক তখনই মহাকাব্যিক এক জুটি গড়ে ম্যাচে গতিপথ পাল্টে দিলেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকার রহিম।

এই ম্যাচের তামিম-মুশফিকের তৃতীয় উইকেট জুটিটি ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এতেই বুঝে যাওয়ার কথা জুটির মহত্ব। কিন্তু শুধু দলীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি বললে খাটো করা হবে এই জুটিটাকে। মাত্র ১৩০ বলে ১৭৯ রানের এই জুটিটাই ১৬ বছর পর পাকিস্তান গেরো খুলেছে এমনটাও হয়তো বলা যায়।

মূলত এই জুটির উপর ভর করেই বাংলাদেশ পায় পাহাড়সম সংগ্রহ। অনেকদিন ধরে নিজেকে রান মেশিন প্রমাণ করা মুশফিক করেছেন ১০৬ রান। এই রান করতে টেস্ট দলের অধিনায়ক বল খেলেছেন মাত্র ৭৭টি। তাইতো ম্যাচের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েও তামিমকে দেখতে হয়েছে ম্যাচ সেরা পুরস্কার উঠছে মুশফিকের হাতে।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার না জিতলেও দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ভক্তদের মন ঠিকই জয় করে নিয়েছেন তামিম। অনেক দিন নিজের মতো ব্যাটিং করতে না পারায় চারিদিকে সমালোচনার যে ঝড় উঠেছিল তার জবাবও দেওয়া হয়ে গেলো এর মধ্যে। তামিম ১৩৫ বলে ১৩২ রানের নিখুত ইনিংসটিতে যতবারই বল বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন দর্শকরা উল্লাস উম্মাদনায় ততবারই সিক্ত করেছেন তাকে। তামিমের জন্য অনেকদিন যাবত যা ছিল অধরা!

এই দুইজনের পর শেষ দিকে সাকিব-সাব্বিরের ঝড়ো দুটি ইনিংসে সংগ্রহটা যেখানে দাড়িয়েছিল তখনই মনে হয়েছিল আজ হয়ত ১৬ বছরের গেরোটা খেলার দিন।

অবশেষে সেটাই হয়েছে। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ২৫০ রানেই গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। মাঝখানে অধিনায়ক আজহার আলী, হারিস সোহেল ও মোহাম্মদ রেজওয়ানরা দাড়ানোর চেষ্টা করলেও বেশিদূর এগুতে পারেনি। এই তিন জনের তিনটি অর্ধশতকের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে।

বল হাতে বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সটা যেন দেশেও টেনে নিয়ে এসেছেন তুরুণ পেসার তাসকিন আহমেদ। ৪২ রানে তুলে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। বিশ্বকাপের ভিন্ন কন্ডিশনে আরাফাত সানি খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও দেশের মাটিতে নিজের জাত আরও একবার চেনালেন তিনি। ৪৭ রানে তিনিও তুলে নিয়েছেন সমান ৩টি উইকেট। মূলত এই দুইজনের দুর্দান্ত বোলিংয়েই বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

১৬ বছর পর পাকিস্তান গেরো খুলল টাইগাররা

আপডেট টাইম : ০৪:৩৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা : ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েই ওই বার শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর গঙ্গায় গড়িয়েছে অনেক জল। কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়টা অধরাই ছিল টাইগারদের। অবশেষে অধরা জয়টা ধরা দিল এবার। প্রায় ১৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে সফরকারীদের বিপক্ষে ৭৯ রানের বড় জয় পেয়েছে টাইগাররা।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে ভালো সংগ্রহই এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। কিন্তু এই রান তুলতেই খেলে ফেলেছিলেন ৮০ বল! ওয়ানডে ক্রিকেটে যা বেশ বেমানান।

দলীয় ৪৮ রানে সৌম্য আউট হয়ে গেলে উইকেটে এসে থিতু হওয়ার আগেই ফেরেন বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা মাহমুদুল্লাহ। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ কিছুটা ব্যাকফুটে। ঠিক তখনই মহাকাব্যিক এক জুটি গড়ে ম্যাচে গতিপথ পাল্টে দিলেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকার রহিম।

এই ম্যাচের তামিম-মুশফিকের তৃতীয় উইকেট জুটিটি ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এতেই বুঝে যাওয়ার কথা জুটির মহত্ব। কিন্তু শুধু দলীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি বললে খাটো করা হবে এই জুটিটাকে। মাত্র ১৩০ বলে ১৭৯ রানের এই জুটিটাই ১৬ বছর পর পাকিস্তান গেরো খুলেছে এমনটাও হয়তো বলা যায়।

মূলত এই জুটির উপর ভর করেই বাংলাদেশ পায় পাহাড়সম সংগ্রহ। অনেকদিন ধরে নিজেকে রান মেশিন প্রমাণ করা মুশফিক করেছেন ১০৬ রান। এই রান করতে টেস্ট দলের অধিনায়ক বল খেলেছেন মাত্র ৭৭টি। তাইতো ম্যাচের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েও তামিমকে দেখতে হয়েছে ম্যাচ সেরা পুরস্কার উঠছে মুশফিকের হাতে।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার না জিতলেও দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ভক্তদের মন ঠিকই জয় করে নিয়েছেন তামিম। অনেক দিন নিজের মতো ব্যাটিং করতে না পারায় চারিদিকে সমালোচনার যে ঝড় উঠেছিল তার জবাবও দেওয়া হয়ে গেলো এর মধ্যে। তামিম ১৩৫ বলে ১৩২ রানের নিখুত ইনিংসটিতে যতবারই বল বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন দর্শকরা উল্লাস উম্মাদনায় ততবারই সিক্ত করেছেন তাকে। তামিমের জন্য অনেকদিন যাবত যা ছিল অধরা!

এই দুইজনের পর শেষ দিকে সাকিব-সাব্বিরের ঝড়ো দুটি ইনিংসে সংগ্রহটা যেখানে দাড়িয়েছিল তখনই মনে হয়েছিল আজ হয়ত ১৬ বছরের গেরোটা খেলার দিন।

অবশেষে সেটাই হয়েছে। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ২৫০ রানেই গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। মাঝখানে অধিনায়ক আজহার আলী, হারিস সোহেল ও মোহাম্মদ রেজওয়ানরা দাড়ানোর চেষ্টা করলেও বেশিদূর এগুতে পারেনি। এই তিন জনের তিনটি অর্ধশতকের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে।

বল হাতে বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সটা যেন দেশেও টেনে নিয়ে এসেছেন তুরুণ পেসার তাসকিন আহমেদ। ৪২ রানে তুলে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। বিশ্বকাপের ভিন্ন কন্ডিশনে আরাফাত সানি খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও দেশের মাটিতে নিজের জাত আরও একবার চেনালেন তিনি। ৪৭ রানে তিনিও তুলে নিয়েছেন সমান ৩টি উইকেট। মূলত এই দুইজনের দুর্দান্ত বোলিংয়েই বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।