অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

দুধ নিয়ে আধ-বুড়োদেরও কাড়াকাড়ি, তাই যুবতীর অভিমান (ভিডিওসহ)

ছিঃ ছিঃ ছিঃ, আধবুড়ো, মাঝবয়সি লোকগুলো কিনা দুধের ক্রেতা! একজনও মায়ের দুধ না পাওয়া শিশুর পরিবার নেই! উলটে তাকেই অপবাদ- ‘বাজে মা!’

‘বাজে মা’, কথাটায় তীব্র আপত্তি টনি এবডনের। বলুন তো, কেন বাজে মা হতে যাব? এমন তো নয়, আমার সন্তানকে বঞ্চিত করে বুকের দুধ শুধু টাকার লোভে বিক্রি করে দিয়েছি। আর আমার সন্তান না- খেতে পেয়ে শুকিয়ে মরেছে। বাচ্চাকে খাইয়ে, উদ্বৃত্ত দুধই অনলাইনে বিক্রি করেছি। তা তো শুধু আমার সন্তানেরই মতো অন্য বাচ্চাগুলোর কথা ভেবে। এতে বাজে মা হওয়ার মতো অপরাধটা কোথায়, প্রশ্ন তার।

৩১ বছরের এই মহিলার প্রথম সন্তান ডেভিডের জন্ম হয় বছর পাঁচেক আগে। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে তখন ঘরে বসে টনির মনে হয়েছিল, উদ্বৃত্ত দুধটুকু নষ্ট না করে, যদি বেচার একটা বন্দোবস্ত করা যায়। কোনও ব্রেস্ট মিল্ক ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ না করে, সরাসরি অনলাইনে নিজেই মাতৃদুগ্ধ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। তারপরই ফোনের পর ফোন। ক্রেতার অভাব হয়নি। বরং, আরও বেশি দাম দিয়েই তারা দুধ কিনতে চেয়েছেন।

কিন্তু, কারা এরা! কেউ সদ্যোজাত বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর জন্য তার কাছে দুধ কিনতে চাননি। এদের সবাই কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের একটা বড় অংশই আবার টেকো, মাঝবয়সি লোক! এমনকী প্রফেসর গোছের লোকজনও রয়েছে। এটা মন থেকে মানতে পারেননি টনি এবডন। কেন এই প্রায় বুড়ো লোকগুলো বুকের দুধ খেতে ব্যাকুল, তা আজও বোধগম্য হয়নি এই মহিলার।

আবারও মা হয়েছেন। তবে এবার আর বেলতলার পথে নয়। আর বেচবেন না বুকের দুধ। তার কথায়, বুকের দুধ বিক্রি করে, যা কামানোর কামানো হয়ে গিয়েছে। এমনকী একটি লোক প্রতি আউন্স দুধে ৫০ পাউন্ড অবধি দিতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হয়নি।

কোনও সময়ই কোনও ক্রেতাকে বাড়ি অবধি আসতেও দেননি। টনির কথায়, কেউ দুধ কিনতে চেয়ে যোগাযোগ করলে, তাকে শহরের জনবহুল কোন জায়গায় আসতে বলতাম। সেখানেই তার হাতে দুধ তুলে দিয়েছি। আমাকে ফলো করতে দিইনি। বাচ্চাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাইনি।

তবে, শুধু বুড়ো লোকগুলোর দুধ নিয়ে কাঙালিপনা নয়, দুধ বেচে তার অপবাদ জুটেছে, তা-ও বাধ্য করেছে নতুন করে ভাবতে। টনির কথায়, হয়তো বা কোনও সদ্যোজাত এই দুধ খেয়ে বাঁচতেই পারত। কিন্তু, তার পরেও আমি দুধ বেচব না। মানুষ বড্ড সংকীর্ণমনা হয়ে গিয়েছে। বড় সহজেই মনগড়া একটা ধারণা তৈরি করে ফেলে! তাই আমি বাজে মা। খেদোক্তি মহিলার।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

দুধ নিয়ে আধ-বুড়োদেরও কাড়াকাড়ি, তাই যুবতীর অভিমান (ভিডিওসহ)

আপডেট টাইম : ০৪:৩৮:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০১৫

ছিঃ ছিঃ ছিঃ, আধবুড়ো, মাঝবয়সি লোকগুলো কিনা দুধের ক্রেতা! একজনও মায়ের দুধ না পাওয়া শিশুর পরিবার নেই! উলটে তাকেই অপবাদ- ‘বাজে মা!’

‘বাজে মা’, কথাটায় তীব্র আপত্তি টনি এবডনের। বলুন তো, কেন বাজে মা হতে যাব? এমন তো নয়, আমার সন্তানকে বঞ্চিত করে বুকের দুধ শুধু টাকার লোভে বিক্রি করে দিয়েছি। আর আমার সন্তান না- খেতে পেয়ে শুকিয়ে মরেছে। বাচ্চাকে খাইয়ে, উদ্বৃত্ত দুধই অনলাইনে বিক্রি করেছি। তা তো শুধু আমার সন্তানেরই মতো অন্য বাচ্চাগুলোর কথা ভেবে। এতে বাজে মা হওয়ার মতো অপরাধটা কোথায়, প্রশ্ন তার।

৩১ বছরের এই মহিলার প্রথম সন্তান ডেভিডের জন্ম হয় বছর পাঁচেক আগে। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে তখন ঘরে বসে টনির মনে হয়েছিল, উদ্বৃত্ত দুধটুকু নষ্ট না করে, যদি বেচার একটা বন্দোবস্ত করা যায়। কোনও ব্রেস্ট মিল্ক ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ না করে, সরাসরি অনলাইনে নিজেই মাতৃদুগ্ধ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। তারপরই ফোনের পর ফোন। ক্রেতার অভাব হয়নি। বরং, আরও বেশি দাম দিয়েই তারা দুধ কিনতে চেয়েছেন।

কিন্তু, কারা এরা! কেউ সদ্যোজাত বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর জন্য তার কাছে দুধ কিনতে চাননি। এদের সবাই কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের একটা বড় অংশই আবার টেকো, মাঝবয়সি লোক! এমনকী প্রফেসর গোছের লোকজনও রয়েছে। এটা মন থেকে মানতে পারেননি টনি এবডন। কেন এই প্রায় বুড়ো লোকগুলো বুকের দুধ খেতে ব্যাকুল, তা আজও বোধগম্য হয়নি এই মহিলার।

আবারও মা হয়েছেন। তবে এবার আর বেলতলার পথে নয়। আর বেচবেন না বুকের দুধ। তার কথায়, বুকের দুধ বিক্রি করে, যা কামানোর কামানো হয়ে গিয়েছে। এমনকী একটি লোক প্রতি আউন্স দুধে ৫০ পাউন্ড অবধি দিতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হয়নি।

কোনও সময়ই কোনও ক্রেতাকে বাড়ি অবধি আসতেও দেননি। টনির কথায়, কেউ দুধ কিনতে চেয়ে যোগাযোগ করলে, তাকে শহরের জনবহুল কোন জায়গায় আসতে বলতাম। সেখানেই তার হাতে দুধ তুলে দিয়েছি। আমাকে ফলো করতে দিইনি। বাচ্চাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাইনি।

তবে, শুধু বুড়ো লোকগুলোর দুধ নিয়ে কাঙালিপনা নয়, দুধ বেচে তার অপবাদ জুটেছে, তা-ও বাধ্য করেছে নতুন করে ভাবতে। টনির কথায়, হয়তো বা কোনও সদ্যোজাত এই দুধ খেয়ে বাঁচতেই পারত। কিন্তু, তার পরেও আমি দুধ বেচব না। মানুষ বড্ড সংকীর্ণমনা হয়ে গিয়েছে। বড় সহজেই মনগড়া একটা ধারণা তৈরি করে ফেলে! তাই আমি বাজে মা। খেদোক্তি মহিলার।