অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বাংলাদেশে সহযোগিতার সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় ইইউ

ঢাকা: ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতামূলক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায় বলে জানিয়েছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির ৬০ শতাংশ যায় ইইউভূক্ত ২৮টি দেশে। যা এদেশের জিডিপির ১০ শতাংশ। বাংলাদেশে জিডিপিতে রেমিটেন্সের অবদান ১১ শতাংশ। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা বাংলাদেশের জিডিপিতে আরো বেশি অবদান রাখতে চাই। এর জন্য সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে কাজ করছি।’

বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে অর্থনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাথে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা দু’টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছি। একটি হলো বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্পর্ক আরো জোরদার করা। অপরটি হলো এই সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করা।’

তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা চমৎকার এবং এটা অর্জন সম্ভব। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেসব কার্যক্রম নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আরো সচেষ্ট হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিজিটাল অবকাঠামো বির্নিমাণ ও সামুদ্রিক অর্থনীতির সম্ভবনা কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাংলাদেশে সূবর্ণ জয়ন্তীতে অর্থাৎ ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আন্তর্জাতিক শ্রম আইন পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে জীবনীশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এজন্য কেবলমাত্র পোশাক খাতে নয়, অন্যান্য শিল্প খাতেও (জাহাজ ভাঙ্গা) আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, রানা প্লাজার মতো দ্বিতীয় কোন ঘটনার যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের ইমেজ দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে রফতানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কোটামূক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ আর থাকবে না। এজন্য জিএসপি প্লাস ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

পিয়েরে মায়াদুন বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের বিনিয়োগ অনুকূল ইমেজের আরো প্রসার ঘটাতে হবে। এর জন্য প্রধানত অর্থনৈতিক সংস্কার বিশেষত ব্যবসায় খরচ হ্রাস করতে হবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেগবান করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে ইআরএফ সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে সহযোগিতার সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় ইইউ

আপডেট টাইম : ০২:১৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০১৫

ঢাকা: ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতামূলক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায় বলে জানিয়েছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির ৬০ শতাংশ যায় ইইউভূক্ত ২৮টি দেশে। যা এদেশের জিডিপির ১০ শতাংশ। বাংলাদেশে জিডিপিতে রেমিটেন্সের অবদান ১১ শতাংশ। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা বাংলাদেশের জিডিপিতে আরো বেশি অবদান রাখতে চাই। এর জন্য সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে কাজ করছি।’

বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে অর্থনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাথে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা দু’টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছি। একটি হলো বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্পর্ক আরো জোরদার করা। অপরটি হলো এই সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করা।’

তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা চমৎকার এবং এটা অর্জন সম্ভব। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেসব কার্যক্রম নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আরো সচেষ্ট হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিজিটাল অবকাঠামো বির্নিমাণ ও সামুদ্রিক অর্থনীতির সম্ভবনা কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাংলাদেশে সূবর্ণ জয়ন্তীতে অর্থাৎ ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আন্তর্জাতিক শ্রম আইন পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে জীবনীশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এজন্য কেবলমাত্র পোশাক খাতে নয়, অন্যান্য শিল্প খাতেও (জাহাজ ভাঙ্গা) আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, রানা প্লাজার মতো দ্বিতীয় কোন ঘটনার যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের ইমেজ দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে রফতানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কোটামূক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ আর থাকবে না। এজন্য জিএসপি প্লাস ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

পিয়েরে মায়াদুন বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের বিনিয়োগ অনুকূল ইমেজের আরো প্রসার ঘটাতে হবে। এর জন্য প্রধানত অর্থনৈতিক সংস্কার বিশেষত ব্যবসায় খরচ হ্রাস করতে হবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেগবান করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে ইআরএফ সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।