পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

রানা প্লাজা ধস: রানাসহ ৪১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল আজ

ঢাকা : সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ২ বছর পর দায়ের করা দুই মামলায় অভিযোগপত্র আজ আদালতে দাখিল করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

অভিযোগপত্রে সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

রোববার দুপুরের পর আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাস স্ট্যান্ডে ৯ তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়লে ৫টি কারখানার সহস্রাধিক শ্রমিক মারা যান। বাংলাদেশের ওই ঘটনা আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে ওঠেছিল।

ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রথমে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে একটি মামলা করেন সাভার থানার এসআই ওয়ালী আশরাফ। সোহেল রানাসহ ২১ জনকে আসামি করা হয় এ মামলায়।

এরপরে মামলাটিতে অপরাধজনক প্রাণনাশের অভিযোগ আনা হয়। প্রাণনাশের অভিযোগটি প্রমাণিত হলে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

ইমারত বিধি না মেনে রানা প্লাজা নির্মাণের অভিযোগে রানাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় আরেকটি মামলা করেন রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল আহমেদ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ দুই বছর শাস্তি হতে পারে।

এই মামলা দুটির আসামিদের মধ্যে রানাসহ চারজন ছাড়া সব আসামি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন বলে আদালতের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়।

রানা প্লাজা ধসের দুই বছর পূর্তির আগে গত মাসে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি আনোয়ারুল কবীর বাবুল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে দেরি হওয়ার কারণেই চারজন ছাড়া সব আসামি জামিনের সুবিধা নিতে পেরেছে।

দুই মামলা হলেও দুই বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় সমালোচনা চলছিল।

এক বছর ধরেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলে আসছিলেন, শিগগিরই তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা বিজয় কৃষ্ণ কর তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য আদালত থেকে এই পর্যন্ত ১৬ বার সময় নিয়েছেন।

গত মাসে তিনি বলেছিলেন, তদন্ত শেষ, আসামিদের তালিকাও তৈরি। তবে আসামিদের মধ্যে ১৩ জন সরকারি কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। তাই আটকে আছে।

তদন্ত কর্মকর্তা তার অনুসন্ধানের বিষয়ে বিভিন্ন সময় আদালতে বলেছেন, ২৩ এপ্রিল রানা প্লাজায় ফাটল ধরার পর ঝুঁকি জেনেও শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কাজ না করলে চাকরিচ্যুতির হুমকিও দেয়া হয়েছিল।

ভবনের নকশায় ত্রুটি, অনুমোদন না নিয়ে উপরের দিকে সম্প্রসারণ, নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের তথ্যও এসেছে তদন্তে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

রানা প্লাজা ধস: রানাসহ ৪১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল আজ

আপডেট টাইম : ০৩:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০১৫

ঢাকা : সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ২ বছর পর দায়ের করা দুই মামলায় অভিযোগপত্র আজ আদালতে দাখিল করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

অভিযোগপত্রে সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

রোববার দুপুরের পর আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাস স্ট্যান্ডে ৯ তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়লে ৫টি কারখানার সহস্রাধিক শ্রমিক মারা যান। বাংলাদেশের ওই ঘটনা আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে ওঠেছিল।

ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রথমে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে একটি মামলা করেন সাভার থানার এসআই ওয়ালী আশরাফ। সোহেল রানাসহ ২১ জনকে আসামি করা হয় এ মামলায়।

এরপরে মামলাটিতে অপরাধজনক প্রাণনাশের অভিযোগ আনা হয়। প্রাণনাশের অভিযোগটি প্রমাণিত হলে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

ইমারত বিধি না মেনে রানা প্লাজা নির্মাণের অভিযোগে রানাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় আরেকটি মামলা করেন রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল আহমেদ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ দুই বছর শাস্তি হতে পারে।

এই মামলা দুটির আসামিদের মধ্যে রানাসহ চারজন ছাড়া সব আসামি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন বলে আদালতের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়।

রানা প্লাজা ধসের দুই বছর পূর্তির আগে গত মাসে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি আনোয়ারুল কবীর বাবুল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে দেরি হওয়ার কারণেই চারজন ছাড়া সব আসামি জামিনের সুবিধা নিতে পেরেছে।

দুই মামলা হলেও দুই বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় সমালোচনা চলছিল।

এক বছর ধরেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলে আসছিলেন, শিগগিরই তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা বিজয় কৃষ্ণ কর তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য আদালত থেকে এই পর্যন্ত ১৬ বার সময় নিয়েছেন।

গত মাসে তিনি বলেছিলেন, তদন্ত শেষ, আসামিদের তালিকাও তৈরি। তবে আসামিদের মধ্যে ১৩ জন সরকারি কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। তাই আটকে আছে।

তদন্ত কর্মকর্তা তার অনুসন্ধানের বিষয়ে বিভিন্ন সময় আদালতে বলেছেন, ২৩ এপ্রিল রানা প্লাজায় ফাটল ধরার পর ঝুঁকি জেনেও শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কাজ না করলে চাকরিচ্যুতির হুমকিও দেয়া হয়েছিল।

ভবনের নকশায় ত্রুটি, অনুমোদন না নিয়ে উপরের দিকে সম্প্রসারণ, নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের তথ্যও এসেছে তদন্তে।