পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

মোদীর সফরে বাংলাদেশের জনগণ হতাশ: জামায়াত

ঢাকা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদীর সফরে দু’টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার বিষয়ে কোন আলোচনা না হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণ হতাশ হয়েছে বলে মনে করে জামায়াতে ইসলামী।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ আজ সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এ সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের জনগণ আশা করেছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে তিস্তা নদী ও ফেনীর মুহূরী নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাবে বাংলাদেশ। কিন্তু তা পায়নি।

মকবুল আহমাদ বলেন, “বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ১ জুন আমরা এক বিবৃতি দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হবে বলে বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে দ্বিপাক্ষীক বাণিজ্য, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল ও দুই রুটে বাস চলাচলের বিষয়ে ৪টিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা সামুদ্রিক বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাবে ভারত। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উত্তর ভারতে যাওয়ার ট্রানজিট সুবিধা পাবে উত্তর-পূর্ব ভারত। এ সবই কার্যত ভারতের প্রয়োজনেই সম্পাদিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদীসমূহের পানি বণ্টনের কোন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশ মরুভূমি হতে চলেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশের জন্য এক গুরুতর সমস্যা হচ্ছে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশীদের হত্যা। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে জনগণ আশা করেছিল। কিন্তু তারও কার্যকর কোন পদক্ষেপ জনগণ দেখতে পায়নি।

দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান অসম বাণিজ্য, টিপাইমুখ বাধ নির্মাণ বন্ধ, অপদখলীয় ভূমি হস্তান্তর, অনিষ্পন্ন সীমানা নির্ধারণ এবং পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বিরোধের কোন সমাধান এ সফরের মাধ্যমে জনগণ পায়নি।

বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্ববাসীর নিকট এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের নিকট এটা স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকার ৫ জানুয়ারি ২০১৪ নির্বাচনের নামে একটি প্রহসনের আয়োজন করে ক্ষমতা দখল করেছে। শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও ঐ নির্বাচনে ভোট দেয়নি। বাংলাদেশের এই নির্বাচনের বিষয়ে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের দ্রুত আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বাংলাদেশের প্রতিবেশি রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এদেশের জনগণ আশা করেছিল জনগণের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক দেশসমূহের আহ্বানের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু দেশের জনগণের নিকট গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কার্যকর কোন সহায়ক পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর থেকে দেশের জনগণের প্রত্যাশা পুরণ না হওয়ায় জনগণ হতাশ হয়েছে।

“আমরা আশাকরি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অর্থবহ ও দু’দেশের বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

মোদীর সফরে বাংলাদেশের জনগণ হতাশ: জামায়াত

আপডেট টাইম : ০৩:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০১৫

ঢাকা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদীর সফরে দু’টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার বিষয়ে কোন আলোচনা না হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণ হতাশ হয়েছে বলে মনে করে জামায়াতে ইসলামী।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ আজ সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এ সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের জনগণ আশা করেছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে তিস্তা নদী ও ফেনীর মুহূরী নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাবে বাংলাদেশ। কিন্তু তা পায়নি।

মকবুল আহমাদ বলেন, “বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ১ জুন আমরা এক বিবৃতি দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হবে বলে বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে দ্বিপাক্ষীক বাণিজ্য, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল ও দুই রুটে বাস চলাচলের বিষয়ে ৪টিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা সামুদ্রিক বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাবে ভারত। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উত্তর ভারতে যাওয়ার ট্রানজিট সুবিধা পাবে উত্তর-পূর্ব ভারত। এ সবই কার্যত ভারতের প্রয়োজনেই সম্পাদিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদীসমূহের পানি বণ্টনের কোন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশ মরুভূমি হতে চলেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশের জন্য এক গুরুতর সমস্যা হচ্ছে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশীদের হত্যা। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে জনগণ আশা করেছিল। কিন্তু তারও কার্যকর কোন পদক্ষেপ জনগণ দেখতে পায়নি।

দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান অসম বাণিজ্য, টিপাইমুখ বাধ নির্মাণ বন্ধ, অপদখলীয় ভূমি হস্তান্তর, অনিষ্পন্ন সীমানা নির্ধারণ এবং পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বিরোধের কোন সমাধান এ সফরের মাধ্যমে জনগণ পায়নি।

বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্ববাসীর নিকট এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের নিকট এটা স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকার ৫ জানুয়ারি ২০১৪ নির্বাচনের নামে একটি প্রহসনের আয়োজন করে ক্ষমতা দখল করেছে। শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও ঐ নির্বাচনে ভোট দেয়নি। বাংলাদেশের এই নির্বাচনের বিষয়ে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের দ্রুত আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বাংলাদেশের প্রতিবেশি রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এদেশের জনগণ আশা করেছিল জনগণের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক দেশসমূহের আহ্বানের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু দেশের জনগণের নিকট গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কার্যকর কোন সহায়ক পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর থেকে দেশের জনগণের প্রত্যাশা পুরণ না হওয়ায় জনগণ হতাশ হয়েছে।

“আমরা আশাকরি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অর্থবহ ও দু’দেশের বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।