অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বিয়ের বয়স কমানো মানে হেফাজতকে নীরব সমর্থন’

ঢাকা : মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করা হলে এটা হবে হেফাজতের মত ইসলামী উগ্রপন্থী দলগুলোকে সরকারের নীরব সমর্থন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘কন্যা শিশুর বিয়ের বয়স ১৮ বছর বহাল রাখাতে হবে’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানো মানে হেফাজতে ইসলামসহ উগ্রপন্থী দলগুলোর প্রতি সরকারের নীরব সমর্থন করা। এর পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা এখানে বসে দেখা অসম্ভব। এই সাংঘাতিক ভবিষ্যতের দিকে যেন আমরা যাত্রা শুরু না করি।’

‘এই বিবাহ আইন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলে লুকোচুরি খেলা চলছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকার একবার বয়স কমানের ব্যপারে প্রজ্ঞাপন জারি করছে, আবার মন্ত্রী আমলারা বয়স আগের মতোই থাকবে বলছেন। রাষ্ট্রের সাথে সরকারের এ ধরনের লুকোচুরি চলতে পারে না। তথ্যাধিকার আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে সরকারের সকল সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতে হবে।’

‘মেয়েদের বয়স কমানোর এ সিদ্ধান্ত আদালত নিলেও এটা হবে অসাংবিধানিক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বয়স কমানো হলে এটা হবে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী। আমি আইনের ছাত্র হিসেবে যতটুকু বুঝি এই সিদ্ধান্ত যদি আদালতও নেয়, তাহলে এটা রাষ্ট্রদ্রোহী, অসাংবিধানিক। আর এই সিদ্ধান্ত সরকারি আমলারাতো কোনভাবেই নিতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামের পিতারা তাদের কন্যা সন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তায় ভোগে, তারা নিরাপত্তার স্বার্থে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিতে চায়। এই নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেশে আইনের শাসনের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি এবং কিছু মানুষের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যা খুশি করার সুযোগ। এক্ষেত্রে অনেক বাবা মেয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে এ আইনকে সমর্থন করতে পারেন।’ এ সময় ‘মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায় কেন একজন কন্যাশিশুকে তার জীবন, শৈশব দিয়ে খেসারত দিতে হবে?’ এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

‘নিজেই নিজের ক্ষতি করে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করে এই জাতির কি উন্নতি করা সম্ভব?’ প্রশ্ন রেখে মিজানুর রহমান বলেন, ‘যেখানে দেশে বাল্যবিবাহ রোধ করাই একটা চ্যালেঞ্জ। এটা কিভাবে দূর করা যায় সেটা আমাদের ভাবতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তার পরিবর্তে বিয়ের বয়স কমানো এর সমাধান হতে পারে না।’

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- উইমেন ফর উইমেন এর সাবেক সভাপতি সালমা খান, জাতীয় নারী জোটের আহ্বায়ক আফরোজা হক রীনা, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

বিয়ের বয়স কমানো মানে হেফাজতকে নীরব সমর্থন’

আপডেট টাইম : ০৫:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০১৫

ঢাকা : মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করা হলে এটা হবে হেফাজতের মত ইসলামী উগ্রপন্থী দলগুলোকে সরকারের নীরব সমর্থন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘কন্যা শিশুর বিয়ের বয়স ১৮ বছর বহাল রাখাতে হবে’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানো মানে হেফাজতে ইসলামসহ উগ্রপন্থী দলগুলোর প্রতি সরকারের নীরব সমর্থন করা। এর পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা এখানে বসে দেখা অসম্ভব। এই সাংঘাতিক ভবিষ্যতের দিকে যেন আমরা যাত্রা শুরু না করি।’

‘এই বিবাহ আইন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলে লুকোচুরি খেলা চলছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকার একবার বয়স কমানের ব্যপারে প্রজ্ঞাপন জারি করছে, আবার মন্ত্রী আমলারা বয়স আগের মতোই থাকবে বলছেন। রাষ্ট্রের সাথে সরকারের এ ধরনের লুকোচুরি চলতে পারে না। তথ্যাধিকার আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে সরকারের সকল সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতে হবে।’

‘মেয়েদের বয়স কমানোর এ সিদ্ধান্ত আদালত নিলেও এটা হবে অসাংবিধানিক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বয়স কমানো হলে এটা হবে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী। আমি আইনের ছাত্র হিসেবে যতটুকু বুঝি এই সিদ্ধান্ত যদি আদালতও নেয়, তাহলে এটা রাষ্ট্রদ্রোহী, অসাংবিধানিক। আর এই সিদ্ধান্ত সরকারি আমলারাতো কোনভাবেই নিতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামের পিতারা তাদের কন্যা সন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তায় ভোগে, তারা নিরাপত্তার স্বার্থে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিতে চায়। এই নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেশে আইনের শাসনের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি এবং কিছু মানুষের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যা খুশি করার সুযোগ। এক্ষেত্রে অনেক বাবা মেয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে এ আইনকে সমর্থন করতে পারেন।’ এ সময় ‘মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায় কেন একজন কন্যাশিশুকে তার জীবন, শৈশব দিয়ে খেসারত দিতে হবে?’ এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

‘নিজেই নিজের ক্ষতি করে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করে এই জাতির কি উন্নতি করা সম্ভব?’ প্রশ্ন রেখে মিজানুর রহমান বলেন, ‘যেখানে দেশে বাল্যবিবাহ রোধ করাই একটা চ্যালেঞ্জ। এটা কিভাবে দূর করা যায় সেটা আমাদের ভাবতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তার পরিবর্তে বিয়ের বয়স কমানো এর সমাধান হতে পারে না।’

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- উইমেন ফর উইমেন এর সাবেক সভাপতি সালমা খান, জাতীয় নারী জোটের আহ্বায়ক আফরোজা হক রীনা, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ।