পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

দুই শিশুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন

সাতক্ষীরা: শ্যামনগররের জয়নগর গ্রামে দড়ি ও শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয় দুই শিশুকে। ১৬ জুলাই এই শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে।

সংগৃহীত সরকারি রাস্তায় খেজুরের কাঁটা দিয়ে তৈরি বেড়া ভেঙে ফেলায় দুই শিশুকে দড়ি ও শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গোলাম মোস্তফা মোল্লা নামের একজনকে গতকাল বুধবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, জয়নগরে গোলাম মোস্তফা মোড়লের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য সরকারি সড়কে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি মাটি ফেলা হয়। বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাবে—এ অজুহাতে গোলাম মোস্তফা ওই সড়কে খেজুরের কাঁটা দিয়ে বেড়া দেন। ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে গ্রামের আবদুল হামিদ তরফদারের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র নাছিম তরফদার (৯) ও প্রতিবেশী ইসমাইল তরফদারের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়াছিন তরফদার (৮) ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় খেজুরের কাঁটা তাদের গায়ে লাগে। এরপর তারা ওই বেড়া তুলে ফেলে দেয়। এদে গোলাম মোস্তফা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধরে নিয়ে এসে দুই হাত বেঁধে তাঁর বাড়ির ভেতরে নিয়ে যান। এরপর শিকল দিয়ে পা বেঁধে ও সারা শরীর দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। সকাল সাতটা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাদের বেঁধে রাখা হয়। এ সময় পানি চাইলেও দেওয়া হয়নি।

দুজনই জানায়, পানি খেতে চাইলে পচা শামুক তাদের মুখের মধ্যে ভরে দেওয়া হয়। তাদের মারধরও করা হয়।

শিশু নাছিমের দাদি সবজান্নেছা যান গোলাম মোস্তফার বাড়িতে যান। তিনি শিশুদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। ‘এ সময় গোলাম মোস্তফার স্ত্রী মাহফুজা মারধর করে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে নাছিমের মা এসে কান্নাকাটি করার একপর্যায়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার ছেলে গোলাম হোসেন তাদের বাঁধন খুলে দেয়।

গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বর্ষার সময় লোকজন চলাচল করলে সড়ক নষ্ট হয়ে যাবে এ কারণে বেড়া দিয়ে রেখেছিলাম। ওই ছেলে দুটো দুষ্টামি করে বেড়া তুলে দেওয়ায় বেঁধে রেখেছিলাম।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, গতকাল এ বিষয়টি জানতে পারার পরপরই গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়। শিশু নাছিমের বাবা আবদুল হামিদ তরফদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন বলে জানা গেছ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

দুই শিশুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট টাইম : ০৩:৫৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০১৫

সাতক্ষীরা: শ্যামনগররের জয়নগর গ্রামে দড়ি ও শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয় দুই শিশুকে। ১৬ জুলাই এই শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে।

সংগৃহীত সরকারি রাস্তায় খেজুরের কাঁটা দিয়ে তৈরি বেড়া ভেঙে ফেলায় দুই শিশুকে দড়ি ও শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গোলাম মোস্তফা মোল্লা নামের একজনকে গতকাল বুধবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, জয়নগরে গোলাম মোস্তফা মোড়লের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য সরকারি সড়কে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি মাটি ফেলা হয়। বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাবে—এ অজুহাতে গোলাম মোস্তফা ওই সড়কে খেজুরের কাঁটা দিয়ে বেড়া দেন। ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে গ্রামের আবদুল হামিদ তরফদারের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র নাছিম তরফদার (৯) ও প্রতিবেশী ইসমাইল তরফদারের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়াছিন তরফদার (৮) ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় খেজুরের কাঁটা তাদের গায়ে লাগে। এরপর তারা ওই বেড়া তুলে ফেলে দেয়। এদে গোলাম মোস্তফা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধরে নিয়ে এসে দুই হাত বেঁধে তাঁর বাড়ির ভেতরে নিয়ে যান। এরপর শিকল দিয়ে পা বেঁধে ও সারা শরীর দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। সকাল সাতটা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাদের বেঁধে রাখা হয়। এ সময় পানি চাইলেও দেওয়া হয়নি।

দুজনই জানায়, পানি খেতে চাইলে পচা শামুক তাদের মুখের মধ্যে ভরে দেওয়া হয়। তাদের মারধরও করা হয়।

শিশু নাছিমের দাদি সবজান্নেছা যান গোলাম মোস্তফার বাড়িতে যান। তিনি শিশুদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। ‘এ সময় গোলাম মোস্তফার স্ত্রী মাহফুজা মারধর করে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে নাছিমের মা এসে কান্নাকাটি করার একপর্যায়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার ছেলে গোলাম হোসেন তাদের বাঁধন খুলে দেয়।

গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বর্ষার সময় লোকজন চলাচল করলে সড়ক নষ্ট হয়ে যাবে এ কারণে বেড়া দিয়ে রেখেছিলাম। ওই ছেলে দুটো দুষ্টামি করে বেড়া তুলে দেওয়ায় বেঁধে রেখেছিলাম।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, গতকাল এ বিষয়টি জানতে পারার পরপরই গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়। শিশু নাছিমের বাবা আবদুল হামিদ তরফদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন বলে জানা গেছ