অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল

‘হিন্দুদের জমিতে আওয়ামী লীগ এমপির ইসলামী টি এস্টেট’

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি উপজেলায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ভারত সীমান্ত লাগোয়া এ স্থানে ‘রনবাগ ইসলামী টি এস্টেট কোম্পানি’ নামে একটি চা-বাগান গড়ে তুলেছেন সরকারদলীয় এই এমপি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দবিরুলের ১০৬ একর (প্রায় ২৬৫ বিঘা) আয়তনের চা-বাগানের ভেতরে ও আশপাশে কয়েকটি হিন্দু পরিবারের জমি রয়েছে। এর মধ্যে অকুল চন্দ্র সিং পরিবারের ২১ বিঘা, ভাকারাম সিং ও চন্দ্র সিংয়ের ২৭ বিঘা জমি, থোনারাম সিংয়ের ২৪ বিঘা, ক্ষুদনলালের ২৪ বিঘা চা-বাগান ও আবাদি জমি রয়েছে।

দবিরুল ও তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম ওরফে সুজনের বিরুদ্ধে জমি দখল, হামলা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছে এসব পরিবার। নির্যাতিত ব্যক্তিদের মধ্যে ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের এক নেতার পরিবারও আছে।

মূলত অকুল চন্দ্র সিংয়ের এক বিঘা জমি নিয়েই বিরোধ, যেটির অবস্থান সংসদ সদস্যের জমির সঙ্গেই। অকুল চন্দ্রের এই জমিকে করিডোরের মতো করে ব্যবহার করে অন্য জমিগুলোতে যাওয়া যায়। এটি দখল হয়ে গেলে অন্য জমিগুলো দখল করা সহজ হয়।

যে জমিটি নিয়ে বিরোধ সেখানে চা-বাগানের কর্মীদের একটি কুঁড়েঘরে চায়ের চারা মজুদ করা হয়েছে। বাগানে ঢোকার মুখে দবিরুলের বাংলো বাড়ি।

অকুল চন্দ্র বলেন, ‘এমপি সাহেবের জমির সঙ্গে আমার এক বিঘা জমি রয়েছে। সবমিলিয়ে আমার ৫ বিঘা জমি তার দখলে আছে। আমরা জমি চাইলে তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘গত ১০ জুন আমার জমিতে চা গাছের চারা রোপণ করলে এমপি সাহেবের লোকজন বিকালে চারাগুলো নষ্ট করে দেয়। এরপর ১৭ জুন ওনার ছেলে সুজন আমাদের শাসিয়ে যান। এর দুইদিন পরই সুজনের নেতৃত্বে টি এস্টেটের লোকেরা তার ওপর হামলা চালায়।’

অকুল বলেন, ‘যেখানে মারধর হয়, সেখানে একটু তো ভয় থাকেই। সেদিন রাতে পরিবার নিয়ে ভারতে পালিয়েছিলাম। পরে ফিরে আসি।’

অকুল সিংয়ের ওপর হামলার সময় আহত থোনারাম সিং বলেন, ‘ওইদিন এমপি সাহেবের ছেলে সুজন হামলা করে। আমার ছেলেটার পা ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আমার দুই বিঘা জমি এখনো তার দখলে।’

তিনি বলেন, ‘জমি ফেরত চাইলে আমাদের বলে, দুই বছর তারা খাবে তারপর জমি ফেরত দেবে।’

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার এই বিষয়ে বলেন, ‘ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং একটি প্রতিনিধিদল ওই এলাকা পরিদর্শন করে।’

তিনি বলেন, ‘মূলত চা বাগান নিয়ে দবিরুল সাহেব এবং স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু পরিবারের মধ্যে বিরোধের কারণে এ রকমের একটি ঘটনা ঘটেছে। কিছু সমস্যা তো আসলে ছিলই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দবিরুল বলেন, ‘আমি এক সময় বাম রাজনীতি করেছি। এখন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এতে ইর্ষান্বিত হয়ে একটি বিশেষ মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ড্রাইভার, গানম্যান দুজনই হিন্দু। আমি হিন্দু বিদ্বেষী নই।’

সংসদ সদস্যের ছেলে সুজন বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক উপজেলা চেয়ারম্যান আয়ূব আলী ফায়দা নেয়ার জন্য এসব রটাচ্ছে।

এদিকে গত ১৯ জুন থেকে পাড়িয়া ইউনিয়নের কদমতলী, সিংগারী-১, সিংগারী-২, হাইয়াপাড়া ও কামাত পাড়িয়া গ্রামের হিন্দু পরিবারগুলো আতঙ্কে আছে। ভয়ে অনেকে রাতের বেলায় বাইরে থাকছেন। অনেকে ঘটনার পর থেকে ক্ষেতখামারে কাজে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।

Tag :

নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

‘হিন্দুদের জমিতে আওয়ামী লীগ এমপির ইসলামী টি এস্টেট’

আপডেট টাইম : ০৩:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০১৫

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি উপজেলায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ভারত সীমান্ত লাগোয়া এ স্থানে ‘রনবাগ ইসলামী টি এস্টেট কোম্পানি’ নামে একটি চা-বাগান গড়ে তুলেছেন সরকারদলীয় এই এমপি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দবিরুলের ১০৬ একর (প্রায় ২৬৫ বিঘা) আয়তনের চা-বাগানের ভেতরে ও আশপাশে কয়েকটি হিন্দু পরিবারের জমি রয়েছে। এর মধ্যে অকুল চন্দ্র সিং পরিবারের ২১ বিঘা, ভাকারাম সিং ও চন্দ্র সিংয়ের ২৭ বিঘা জমি, থোনারাম সিংয়ের ২৪ বিঘা, ক্ষুদনলালের ২৪ বিঘা চা-বাগান ও আবাদি জমি রয়েছে।

দবিরুল ও তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম ওরফে সুজনের বিরুদ্ধে জমি দখল, হামলা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছে এসব পরিবার। নির্যাতিত ব্যক্তিদের মধ্যে ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের এক নেতার পরিবারও আছে।

মূলত অকুল চন্দ্র সিংয়ের এক বিঘা জমি নিয়েই বিরোধ, যেটির অবস্থান সংসদ সদস্যের জমির সঙ্গেই। অকুল চন্দ্রের এই জমিকে করিডোরের মতো করে ব্যবহার করে অন্য জমিগুলোতে যাওয়া যায়। এটি দখল হয়ে গেলে অন্য জমিগুলো দখল করা সহজ হয়।

যে জমিটি নিয়ে বিরোধ সেখানে চা-বাগানের কর্মীদের একটি কুঁড়েঘরে চায়ের চারা মজুদ করা হয়েছে। বাগানে ঢোকার মুখে দবিরুলের বাংলো বাড়ি।

অকুল চন্দ্র বলেন, ‘এমপি সাহেবের জমির সঙ্গে আমার এক বিঘা জমি রয়েছে। সবমিলিয়ে আমার ৫ বিঘা জমি তার দখলে আছে। আমরা জমি চাইলে তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘গত ১০ জুন আমার জমিতে চা গাছের চারা রোপণ করলে এমপি সাহেবের লোকজন বিকালে চারাগুলো নষ্ট করে দেয়। এরপর ১৭ জুন ওনার ছেলে সুজন আমাদের শাসিয়ে যান। এর দুইদিন পরই সুজনের নেতৃত্বে টি এস্টেটের লোকেরা তার ওপর হামলা চালায়।’

অকুল বলেন, ‘যেখানে মারধর হয়, সেখানে একটু তো ভয় থাকেই। সেদিন রাতে পরিবার নিয়ে ভারতে পালিয়েছিলাম। পরে ফিরে আসি।’

অকুল সিংয়ের ওপর হামলার সময় আহত থোনারাম সিং বলেন, ‘ওইদিন এমপি সাহেবের ছেলে সুজন হামলা করে। আমার ছেলেটার পা ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আমার দুই বিঘা জমি এখনো তার দখলে।’

তিনি বলেন, ‘জমি ফেরত চাইলে আমাদের বলে, দুই বছর তারা খাবে তারপর জমি ফেরত দেবে।’

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার এই বিষয়ে বলেন, ‘ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং একটি প্রতিনিধিদল ওই এলাকা পরিদর্শন করে।’

তিনি বলেন, ‘মূলত চা বাগান নিয়ে দবিরুল সাহেব এবং স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু পরিবারের মধ্যে বিরোধের কারণে এ রকমের একটি ঘটনা ঘটেছে। কিছু সমস্যা তো আসলে ছিলই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দবিরুল বলেন, ‘আমি এক সময় বাম রাজনীতি করেছি। এখন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এতে ইর্ষান্বিত হয়ে একটি বিশেষ মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ড্রাইভার, গানম্যান দুজনই হিন্দু। আমি হিন্দু বিদ্বেষী নই।’

সংসদ সদস্যের ছেলে সুজন বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক উপজেলা চেয়ারম্যান আয়ূব আলী ফায়দা নেয়ার জন্য এসব রটাচ্ছে।

এদিকে গত ১৯ জুন থেকে পাড়িয়া ইউনিয়নের কদমতলী, সিংগারী-১, সিংগারী-২, হাইয়াপাড়া ও কামাত পাড়িয়া গ্রামের হিন্দু পরিবারগুলো আতঙ্কে আছে। ভয়ে অনেকে রাতের বেলায় বাইরে থাকছেন। অনেকে ঘটনার পর থেকে ক্ষেতখামারে কাজে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।