অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়নোর তীব্র সমালোচনা

ঢাকা: সম্প্রতি বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের যে দাম বাড়ানো হয়েছে তার সমালোচনা করেছেন বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নেয়া দর্শক এবং প্যানেলিস্টরা।

তবে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত।

শনিবার সিলেট শহরের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এই মূল্যবৃদ্ধি পক্ষে বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক হয়েছে।

দর্শকদের প্রায় সবাই বলেছেন বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিদ্যুতের দাম প্রায় তিন শতাংশ এবং গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক ড. মুনতাহা রকিব বলেন, এই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার প্রায় চার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করবে।

কিন্তু তিনি মনে করেন, সরকার চার হাজার কোটি টাকা আয় করলেও দেশের সার্বিক অর্থনীতির ওপর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার মতো প্রভাব পড়বে, কারণ বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ যেমন বাড়বে তেমনি পরিবহন খরচও বেড়ে যাবে।

অনুষ্ঠানের আরেকজন প্যানেলিস্ট সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম দুই তৃতীয়াংশ কমার পরেও বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি বলেন, সরকারের এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে গিয়েছে।

মি. ইসলামের সাথে একমত পোষণ করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতা নাসিম হোসাইন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় এ নিয়ে আটবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “সরকার কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, মানুষের সুবিধা-অসুবিধা সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।”

মি. হোসাইন বলেন, এর আগে যতবারই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ততবারই বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির দোহাই দেয়া হয়েছে।

কিন্তু এখন বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম দুই তৃতীয়াংশ কমে যাবার পরেও কেন বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মি. হোসাইন।

তবে সরকার জ্বালানী তেল বিক্রি করে লাভ করছে বলে অনেকেই যে কথা বলছেন সেটিকে নাকচ করে দিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, সরকার লোকসান কমাচ্ছে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সময়ের সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বাড়ছে।

তিনি বলেন, “কেউই দাম বাড়ানো পছন্দ করে না। সকলেই চায় দাম কমুক।”

কিন্তু বর্তমান সরকার যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে সেজন্য অনেক টাকা বিনিয়োগও করতে হয়েছে, তাই সময়ের সাথে সাথে বিদ্যুতের দাম বাড়াটাও স্বাভাবিক বলে তিনি যুক্তি তুলে ধরেন।

মি. মান্নান আরো বলেন, “লোডশেডিং কি পূর্বের তুলনায় অনেক কম নয়? আপনারা কি অস্বীকার করতে পারবেন? বর্তমান সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন তিন হাজার মেগাওয়াট থেকে টেনে চৌদ্দ হাজার মেগাওয়াটে এনেছে।”

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়নোর তীব্র সমালোচনা

আপডেট টাইম : ০৬:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০১৫

ঢাকা: সম্প্রতি বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের যে দাম বাড়ানো হয়েছে তার সমালোচনা করেছেন বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নেয়া দর্শক এবং প্যানেলিস্টরা।

তবে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত।

শনিবার সিলেট শহরের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এই মূল্যবৃদ্ধি পক্ষে বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক হয়েছে।

দর্শকদের প্রায় সবাই বলেছেন বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিদ্যুতের দাম প্রায় তিন শতাংশ এবং গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক ড. মুনতাহা রকিব বলেন, এই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার প্রায় চার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করবে।

কিন্তু তিনি মনে করেন, সরকার চার হাজার কোটি টাকা আয় করলেও দেশের সার্বিক অর্থনীতির ওপর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার মতো প্রভাব পড়বে, কারণ বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ যেমন বাড়বে তেমনি পরিবহন খরচও বেড়ে যাবে।

অনুষ্ঠানের আরেকজন প্যানেলিস্ট সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম দুই তৃতীয়াংশ কমার পরেও বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি বলেন, সরকারের এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে গিয়েছে।

মি. ইসলামের সাথে একমত পোষণ করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতা নাসিম হোসাইন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় এ নিয়ে আটবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “সরকার কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, মানুষের সুবিধা-অসুবিধা সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।”

মি. হোসাইন বলেন, এর আগে যতবারই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ততবারই বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির দোহাই দেয়া হয়েছে।

কিন্তু এখন বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম দুই তৃতীয়াংশ কমে যাবার পরেও কেন বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মি. হোসাইন।

তবে সরকার জ্বালানী তেল বিক্রি করে লাভ করছে বলে অনেকেই যে কথা বলছেন সেটিকে নাকচ করে দিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, সরকার লোকসান কমাচ্ছে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সময়ের সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বাড়ছে।

তিনি বলেন, “কেউই দাম বাড়ানো পছন্দ করে না। সকলেই চায় দাম কমুক।”

কিন্তু বর্তমান সরকার যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে সেজন্য অনেক টাকা বিনিয়োগও করতে হয়েছে, তাই সময়ের সাথে সাথে বিদ্যুতের দাম বাড়াটাও স্বাভাবিক বলে তিনি যুক্তি তুলে ধরেন।

মি. মান্নান আরো বলেন, “লোডশেডিং কি পূর্বের তুলনায় অনেক কম নয়? আপনারা কি অস্বীকার করতে পারবেন? বর্তমান সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন তিন হাজার মেগাওয়াট থেকে টেনে চৌদ্দ হাজার মেগাওয়াটে এনেছে।”