অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত পার করছেন মানিকগঞ্জের কামাররা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন মানিকগঞ্জের কামাররা। কোরবানির পশু জবাই করে মাংস থেকে চামড়া ছাড়ানোসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দা,ছুড়ি, চাপাতিসহ প্রভৃতি তৈরী ও পুরানো যন্ত্র-পাতি ধার দেয়ার কাজে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। সময় নেই তাদের, দিন-রাত অবিরাম হাতুরির ছন্দে তৈরী হচ্ছে চকচকে ধারালো দা, চাপাতি, ছুরি, বটি। কসাই থেকে শুরু করে মাওলানা, মুন্সি আর মুসলিম জনসাধারণ চাহিদার কথা মাথায় রেখে মানিকগঞ্জের কামার পরিবারগুলো এখন ব্যস্ত মরিচাপড়া, জংধরা দা, বটি, ছুড়ি, ধার এবং শান দিতে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার শিবালয়, উথূলী মহাদেবপুর, বরংগাইল, ঝিটকা, মাচাইন, নালী, রূপসা, বাল্লা, ঘিওরসহ বিভিন্ন এলাকায় কামাররা কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরী করছেন মাংস কাটার ধারালো অস্ত্র। পুরানো নিয়মেই চলছে আগুনে পুরে লোহা হতে ধারালো কর্তন সামগ্রী তৈরীর কাজ।

শিবালয়ের শাজাহান কর্মকার জানান, এ পেশায় খাটনি অনেক তারপর জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হলেও পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশাটিকে এখন আকড়ে আছেন। অন্যান্য সময় এসবের চাহিদা কম থকলেও কোরবানির সময় ধারালো অস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই অনেকেই এখন কামারদের দোকানে এসে ভীড় করছেন। এতে এক মাসে তাদের পেশাটি জমজমাট হয়ে ওঠে।
তিনি আরো জানান, একটি কিরিস লোহা মজুরীসহ ৫শত টাকা, দা লোহা মজুরীসহ ৩শত টাকা চাপাতি ৫শত টাকা, বোটি ৫শত টাকা ছুড়ি, ২শত টাকা বিক্রি করছেন। আর ধার কাটানো বা সান দেয়া কিরিস ১শ, দা ৫০ টাক,চাপাতি ৬০,ছুড়ি ৩০টাকা বটি ৫০টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কোরবারনির ঈদে যে বেঁচা-কেনা হয় তা আর অন্য সময় হয়না। সারা বছর আমাদের অনেক কষ্ট করে চলতে হয়। শুধুমাত্র কোরবানির ঈদ এলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তারপরও বাব-দাদার পেশাকে আকড়ে ধরে কোন রকম বেঁচে আছি। তবে এ পেশাজীবিরা হাজার বছর ধরে পুরানো নিয়মে এসব সামগ্রী তৈরী করে আসছে। তাদের এ শিল্পে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। তাই কামাররা জড়াজীর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটু সুখের আশায় কাজ করে যাচ্ছে দিন-রাত।
সুদা কামার বলেন, এবার লোহার দাম একটু বেশি। আগে সাড়ে ৪শ টাকা দরে লোহার তৈরী ছুরি,দা বটি ও চাপাতি বিক্রি করা হতো। এখন বিক্রি করা হচ্ছে ৬শ টাকা দরে। আমাদের প্রধান উপকরণ পাথর-কয়লা আগে প্রতি বস্তা ৭০০-৮০০টাকায় কিনেছি। এখন এই পাথর-কয়লার দাম হয়েছে বস্তাপ্রতি ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। দাম বেশি হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না অভিযোগড় করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, আমরা যারা এই পেশায় আছি তারা খুবই অবহেলিত। বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বেশি হলেও সে অনুযায়ী আমরা ন্যায্যমূল্য পাই না। তাই এ পেশায় সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪

ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত পার করছেন মানিকগঞ্জের কামাররা

আপডেট টাইম : ০৩:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন মানিকগঞ্জের কামাররা। কোরবানির পশু জবাই করে মাংস থেকে চামড়া ছাড়ানোসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দা,ছুড়ি, চাপাতিসহ প্রভৃতি তৈরী ও পুরানো যন্ত্র-পাতি ধার দেয়ার কাজে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। সময় নেই তাদের, দিন-রাত অবিরাম হাতুরির ছন্দে তৈরী হচ্ছে চকচকে ধারালো দা, চাপাতি, ছুরি, বটি। কসাই থেকে শুরু করে মাওলানা, মুন্সি আর মুসলিম জনসাধারণ চাহিদার কথা মাথায় রেখে মানিকগঞ্জের কামার পরিবারগুলো এখন ব্যস্ত মরিচাপড়া, জংধরা দা, বটি, ছুড়ি, ধার এবং শান দিতে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার শিবালয়, উথূলী মহাদেবপুর, বরংগাইল, ঝিটকা, মাচাইন, নালী, রূপসা, বাল্লা, ঘিওরসহ বিভিন্ন এলাকায় কামাররা কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরী করছেন মাংস কাটার ধারালো অস্ত্র। পুরানো নিয়মেই চলছে আগুনে পুরে লোহা হতে ধারালো কর্তন সামগ্রী তৈরীর কাজ।

শিবালয়ের শাজাহান কর্মকার জানান, এ পেশায় খাটনি অনেক তারপর জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হলেও পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশাটিকে এখন আকড়ে আছেন। অন্যান্য সময় এসবের চাহিদা কম থকলেও কোরবানির সময় ধারালো অস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই অনেকেই এখন কামারদের দোকানে এসে ভীড় করছেন। এতে এক মাসে তাদের পেশাটি জমজমাট হয়ে ওঠে।
তিনি আরো জানান, একটি কিরিস লোহা মজুরীসহ ৫শত টাকা, দা লোহা মজুরীসহ ৩শত টাকা চাপাতি ৫শত টাকা, বোটি ৫শত টাকা ছুড়ি, ২শত টাকা বিক্রি করছেন। আর ধার কাটানো বা সান দেয়া কিরিস ১শ, দা ৫০ টাক,চাপাতি ৬০,ছুড়ি ৩০টাকা বটি ৫০টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কোরবারনির ঈদে যে বেঁচা-কেনা হয় তা আর অন্য সময় হয়না। সারা বছর আমাদের অনেক কষ্ট করে চলতে হয়। শুধুমাত্র কোরবানির ঈদ এলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তারপরও বাব-দাদার পেশাকে আকড়ে ধরে কোন রকম বেঁচে আছি। তবে এ পেশাজীবিরা হাজার বছর ধরে পুরানো নিয়মে এসব সামগ্রী তৈরী করে আসছে। তাদের এ শিল্পে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। তাই কামাররা জড়াজীর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটু সুখের আশায় কাজ করে যাচ্ছে দিন-রাত।
সুদা কামার বলেন, এবার লোহার দাম একটু বেশি। আগে সাড়ে ৪শ টাকা দরে লোহার তৈরী ছুরি,দা বটি ও চাপাতি বিক্রি করা হতো। এখন বিক্রি করা হচ্ছে ৬শ টাকা দরে। আমাদের প্রধান উপকরণ পাথর-কয়লা আগে প্রতি বস্তা ৭০০-৮০০টাকায় কিনেছি। এখন এই পাথর-কয়লার দাম হয়েছে বস্তাপ্রতি ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। দাম বেশি হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না অভিযোগড় করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, আমরা যারা এই পেশায় আছি তারা খুবই অবহেলিত। বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বেশি হলেও সে অনুযায়ী আমরা ন্যায্যমূল্য পাই না। তাই এ পেশায় সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়।