পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই

কী কারণে ঘটলো মিনায় দুর্ঘটনা ?

ডেস্ক : মিনায় পদদলিত হয়ে ৭৬৯ জন হাজির মৃত্যুতে বিশ্ববাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে আসলে সেখানে সেদিন কী ঘটেছিল? কেন এত লোক পদদলিত হয়ে মারা গেল?

সৌদি সরকারের দাবি হজ ব্যবস্থাপনায় তাদের কোন গাফিলতি ছিল না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বড় জামারায় কঙ্কর মারার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের জন্য হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যে গাইডলাইন দিয়েছিল হাজিদের একটা অংশ সে নির্দেশনা মানেনি। ফলে এই ট্র্যাজেডি ঘটে গেছে। তবে ইরান সরকার ও লেবানন ভিত্তিক হিযবুল্লাহসহ বহির্বিশ্বের বিভিন্ন মহল এ ঘটনার জন্য সৌদি সরকারকেই দায়ি করেছে।

হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার স্থানগুলোতে গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহ করার সুযোগ না থাকায় এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা তথ্যের ওপরই মূলত সংবাদকর্মীদের নির্ভর করতে হচ্ছে। এর ফলে ঘটনার কারণ নিরপেক্ষ সূত্রের আলোকে বিশ্লেষণ করা যাচ্ছে না।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ওই প্রতিবেদনে সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার বাধ্যবাধকতার কারণে হাজিদের মধ্যে তাড়াহুড়ো ছিল। মিনায় ওই দিন ছিল প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া। যেদিকে যাওয়ার কথা অনেকে তার বিপরীত দিকে যাওয়ায় মুখোমুখি অবস্থার কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। আবার প্রথমবারের মতো হজে যাওয়া হাজিদের অনেকে খানিকটা বিভ্রান্ত ছিলেন।

সাংবাদিক ও ব্লগার ইথার আল-কাতানি হজে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অনেকে যে পথে যাওয়ার কথা তার বিপরীত দিক দিয়ে গিয়ে ঠেলাঠেলিতে পড়ে যান। অনেকে শয়তানকে পাথর মারার দিকে যাচ্ছিলেন। আবার অনেকে পাথর নিক্ষেপ শেষে বিপরীত দিকে ফিরে আসছিলেন।

আহমেদ মোহাম্মদ আমির নামের এক হাজি বলেন, ‘একটি দল ২০৪ নম্বর সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আরেকটি দল ২০৬ সড়ক থেকে এই পথে চলে আসে। এ সময় বিপরীতমুখী দুটি দলের মধ্যে প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কি হয়। এর পর কী হয়েছিল, আমি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এই প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কিতে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে যায়।’

ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হতে বেশ দেরি হয় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স আর সাইরেনের শব্দে গোটা এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই প্রচণ্ড গরমে ধাক্কাধাক্কিতে যখন কেউ পড়ে যাচ্ছিল, অন্যরা তার ওপর দিয়েই চলে যাচ্ছিল। এভাবেই ঘটে পদদলনের ঘটনা। এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, মিনায় শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের জন্য খুব একটা সময় দেয়া হয়নি। সময় স্বল্পতা হাজিদের মধ্যে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান

কী কারণে ঘটলো মিনায় দুর্ঘটনা ?

আপডেট টাইম : ০২:৪৪:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫

ডেস্ক : মিনায় পদদলিত হয়ে ৭৬৯ জন হাজির মৃত্যুতে বিশ্ববাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে আসলে সেখানে সেদিন কী ঘটেছিল? কেন এত লোক পদদলিত হয়ে মারা গেল?

সৌদি সরকারের দাবি হজ ব্যবস্থাপনায় তাদের কোন গাফিলতি ছিল না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বড় জামারায় কঙ্কর মারার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের জন্য হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যে গাইডলাইন দিয়েছিল হাজিদের একটা অংশ সে নির্দেশনা মানেনি। ফলে এই ট্র্যাজেডি ঘটে গেছে। তবে ইরান সরকার ও লেবানন ভিত্তিক হিযবুল্লাহসহ বহির্বিশ্বের বিভিন্ন মহল এ ঘটনার জন্য সৌদি সরকারকেই দায়ি করেছে।

হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার স্থানগুলোতে গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহ করার সুযোগ না থাকায় এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা তথ্যের ওপরই মূলত সংবাদকর্মীদের নির্ভর করতে হচ্ছে। এর ফলে ঘটনার কারণ নিরপেক্ষ সূত্রের আলোকে বিশ্লেষণ করা যাচ্ছে না।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ওই প্রতিবেদনে সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার বাধ্যবাধকতার কারণে হাজিদের মধ্যে তাড়াহুড়ো ছিল। মিনায় ওই দিন ছিল প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া। যেদিকে যাওয়ার কথা অনেকে তার বিপরীত দিকে যাওয়ায় মুখোমুখি অবস্থার কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। আবার প্রথমবারের মতো হজে যাওয়া হাজিদের অনেকে খানিকটা বিভ্রান্ত ছিলেন।

সাংবাদিক ও ব্লগার ইথার আল-কাতানি হজে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অনেকে যে পথে যাওয়ার কথা তার বিপরীত দিক দিয়ে গিয়ে ঠেলাঠেলিতে পড়ে যান। অনেকে শয়তানকে পাথর মারার দিকে যাচ্ছিলেন। আবার অনেকে পাথর নিক্ষেপ শেষে বিপরীত দিকে ফিরে আসছিলেন।

আহমেদ মোহাম্মদ আমির নামের এক হাজি বলেন, ‘একটি দল ২০৪ নম্বর সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আরেকটি দল ২০৬ সড়ক থেকে এই পথে চলে আসে। এ সময় বিপরীতমুখী দুটি দলের মধ্যে প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কি হয়। এর পর কী হয়েছিল, আমি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এই প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কিতে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে যায়।’

ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হতে বেশ দেরি হয় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স আর সাইরেনের শব্দে গোটা এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই প্রচণ্ড গরমে ধাক্কাধাক্কিতে যখন কেউ পড়ে যাচ্ছিল, অন্যরা তার ওপর দিয়েই চলে যাচ্ছিল। এভাবেই ঘটে পদদলনের ঘটনা। এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, মিনায় শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের জন্য খুব একটা সময় দেয়া হয়নি। সময় স্বল্পতা হাজিদের মধ্যে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।