পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

২৮ অক্টোবর: লগি-বৈঠার সেই তাণ্ডব

ঢাকা : আজ লগি-বৈঠার সেই ২৮ অক্টোবর। ২০০৬ সালের এই দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার দিনে পুরানা পল্টন মোড়ে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে সাপের মতো পিটিয়ে জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ মেরে লাশের ওপর নৃত্য উল্লাস করার মতো ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।

শুধু ঢাকাতেই নয়, লগি-বৈঠাধারীরা সেদিন সারাদেশে চালিয়েছে এই নারকীয় তাণ্ডব। ওইদিন লগি-বৈঠা বাহিনীর তাণ্ডবে ঢাকাসহ সারাদেশে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। ঢাকায় নিহত হয়েছিল ৭ জন। ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর ৩ দিনে নিহত হয়েছিল চারদলীয় জোটের ৫৪ নেতাকর্মী।

২৮ অক্টোবরের ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই নয়, গোটা বিশ্বের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে ভয়াল সেই দৃশ্য দেখে গোটা বিশ্ববিবেক সেদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব থেকে শুরু করে সারা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ওই ঘটনা বাংলাদেশ সম্পর্কে গোটা বিশ্বে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। কিন্তু সেই পৈশাচিক ঘটনার রহস্য আজও উদ্ঘাটিত হয়নি। বিচার হয়নি একজন অপরাধীরও। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি পরবর্তীতে নির্বাহী আদেশবলে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার।

২৮ অক্টোবরের তাণ্ডবে নিহত হয়েছিল ছাত্রশিবিরের সদস্য স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র মুজাহিদুল ইসলাম, হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন, লালবাগের জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন, জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান হাবিব, জুরাইনের জামায়াত কর্মী হাজী আনোয়ারুল্লাহর ছেলে জসিম, সিদ্ধিরগঞ্জের আবদুল্লাহ আল ফয়সাল। একই সময় যুবমৈত্রীর কর্মী রাসেল আহমদ নিহত হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাইফুল্লাহ মুহাম্মদ মাসুম। একই দিন গাজীপুরে মারা যান জামায়াত কর্মী রুহুল আমিন, নীলফামারীতে মারা যান জামায়াত কর্মী সাবের হোসেন, মাগুরায় আরাফাত হোসেন সবুজ, মেহেরপুরে আব্বাস আলী ও সাতক্ষীরায় জাবিদ আলী।

এদিকে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া আলোচনা সভা, কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

ওই দিনটি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

২৮ অক্টোবর: লগি-বৈঠার সেই তাণ্ডব

আপডেট টাইম : ১২:২৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৫

ঢাকা : আজ লগি-বৈঠার সেই ২৮ অক্টোবর। ২০০৬ সালের এই দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার দিনে পুরানা পল্টন মোড়ে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে সাপের মতো পিটিয়ে জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ মেরে লাশের ওপর নৃত্য উল্লাস করার মতো ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।

শুধু ঢাকাতেই নয়, লগি-বৈঠাধারীরা সেদিন সারাদেশে চালিয়েছে এই নারকীয় তাণ্ডব। ওইদিন লগি-বৈঠা বাহিনীর তাণ্ডবে ঢাকাসহ সারাদেশে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। ঢাকায় নিহত হয়েছিল ৭ জন। ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর ৩ দিনে নিহত হয়েছিল চারদলীয় জোটের ৫৪ নেতাকর্মী।

২৮ অক্টোবরের ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই নয়, গোটা বিশ্বের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে ভয়াল সেই দৃশ্য দেখে গোটা বিশ্ববিবেক সেদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব থেকে শুরু করে সারা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ওই ঘটনা বাংলাদেশ সম্পর্কে গোটা বিশ্বে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। কিন্তু সেই পৈশাচিক ঘটনার রহস্য আজও উদ্ঘাটিত হয়নি। বিচার হয়নি একজন অপরাধীরও। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি পরবর্তীতে নির্বাহী আদেশবলে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার।

২৮ অক্টোবরের তাণ্ডবে নিহত হয়েছিল ছাত্রশিবিরের সদস্য স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র মুজাহিদুল ইসলাম, হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন, লালবাগের জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন, জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান হাবিব, জুরাইনের জামায়াত কর্মী হাজী আনোয়ারুল্লাহর ছেলে জসিম, সিদ্ধিরগঞ্জের আবদুল্লাহ আল ফয়সাল। একই সময় যুবমৈত্রীর কর্মী রাসেল আহমদ নিহত হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাইফুল্লাহ মুহাম্মদ মাসুম। একই দিন গাজীপুরে মারা যান জামায়াত কর্মী রুহুল আমিন, নীলফামারীতে মারা যান জামায়াত কর্মী সাবের হোসেন, মাগুরায় আরাফাত হোসেন সবুজ, মেহেরপুরে আব্বাস আলী ও সাতক্ষীরায় জাবিদ আলী।

এদিকে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া আলোচনা সভা, কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

ওই দিনটি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।