অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল

‘মরিচা ধরা’ আইন চলছে ‘ঘষামাজায়’: প্রধান বিচারপতি

ঢাকা : বাংলাদেশের ‘মরিচা ধরা’ অনেক আইন ‘ঘষামাজা’ করে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়োজনে ‘রাজস্ব মামলার ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকারিতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মুক্ত আলোচনার একটি প্রশ্নের সূত্র ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাদের আইন যেটা আছে, এখানে একজন প্রশ্নোত্তর পর্বে বেশ ভালোই প্রশ্নই করেছেন। এখানে উত্তর দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশ্নকর্তাকে ১০০ ভাগ সমর্থন করি।

“আমাদের আইন ১৮৭২ সাল থেকে, এর আগের আইন থেকে বর্তমান বিচার ব্যবস্থা চলছে। এই সেকেলে মরিচা ধরা আইনগুলোকে কোনোমতে এমনভাবে ঘষামাজা করি, এর কোনো মৌলিকত্বই নেই এখন।”

“আমি সব জায়গায়ই বলি, আমাদের যে প্রসিডিউরাল ল, এটার ৬০-৭০ ভাগ এখন অপ্রচলিত। একবিংশ শতাব্দীতে আমরা ডিজিটালাইজেশনের কথা বলি, কিন্তু আমাদের আইনগুলো সব অবসোলেট। ডিজিটালাইজেশনের জমানায় এই অবসোলেট আইন দিয়ে চলে না।”

আইন সংস্কারে আইন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন তিনি। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদেরও আরও গোছালো কাজের প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিচারপতি সিনহা বলেন, “কাস্টমস, ভ্যাট, সিভিল, ক্রিমিনাল, যতগুলো আইন আমরা পাই। এই আইনগুলো কার্যকর হওয়ার আগেই দুই-চারটা সংশোধনী চলে আসে। কোনটা কোন সময় সংশোধনী…আমরা হদিস পাই না।”

আইন প্রণয়ন পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “যেমন, আয়করের বিষয় হয়। পৃথিবীর সব জায়গায় যেটা হয়, সেটা হলো, করদাতাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয়। কমিশন প্রশ্ন উত্তর নিয়ে এরপর সুপারিশ করবে। প্রত্যেকটা আইন এভাবে করা উচিত। সব দেশেই এটা হয়, ব্যতিক্রম বাংলাদেশ।”

আইনগুলো যুগোপযোগী করার জন্য নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শও চেয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

আমলাতন্ত্রের সমালোচনা

প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রশ্ন উঠেছে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলাগুলো এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় কি-না।

“হ্যাঁ, এগুলো নিষ্পত্তি করা যায়। আমি প্রধান বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটা করার জন্য আমি একটা সেকশন খুলেছি। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে চাচ্ছি, আমাদের ব্যুরোক্রেটিকদের…

“আমি প্রোপোজাল এক্সিকিউটিভের কাছে পাঠিয়েছি, তিন মাস সেই ফাইলটা আটকে ছিল। গত সপ্তাহে সেটা প্ল্যানিং কমিশনে গিয়েছে।”

লোকবল কম হওয়ায় কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘লিগ্যাল এইড’র মাধ্যমে আইনজীবী বাংলাদেশেও নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি। এক্ষেত্রে মানসিকতা পরিবর্তনের উপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

“এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হলে প্রথম আমাদের ইগোইজম ত্যাগ করতে হবে। এটা ট্যাক্স ম্যাটার না। ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় দীর্ঘসূত্রতা একমাত্র এটার জন্য।”

সুপ্রিম কোর্টে এনবি আরের সেল চান অর্থমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সুপ্রিম কোর্টে এনবি আরের একটা সেল থাকা উচিত।

“আমি বলব না, আপনারা সেখানে সব সময় থাকেন। তবে যেদিন আপনাদের কেইস আছে, সেদিন আপনাদের অন্ততপক্ষে একজন মাস্ট বি প্রেজেন্ট দেয়ার। দিস ইজ অ্যান অর্ডার।”

“এরপর আরেকটা কথা আমি বলবো, রায় পড়া এবং পরীক্ষা করা। এটা অবশ্য আমাদের অভ্যাস, আমরা চট করে রায়ের শেষ দিকে চলে যাই। যাতে রায় পড়তে না হয়। যার ফলে মোকাদ্দমা সম্পর্কে মোটেই ধারণা থাকে না। আমি সিদ্ধান্তও দিয়ে দেই।”

“যারা সেলে কাজ করেন, তাদেরকে অন্য কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে রায় পড়ানোর অভ্যাসটা করানো দরকার। রায় না পড়লে রায় সম্পর্কে বক্তব্য রাখা সম্ভব হয় না। সেই বক্তব্য কার্যকর হয় না।”

অনুষ্ঠানে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কর কমিশনার আলমগীর হোসেন।

Tag :

নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

‘মরিচা ধরা’ আইন চলছে ‘ঘষামাজায়’: প্রধান বিচারপতি

আপডেট টাইম : ০১:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৫

ঢাকা : বাংলাদেশের ‘মরিচা ধরা’ অনেক আইন ‘ঘষামাজা’ করে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়োজনে ‘রাজস্ব মামলার ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকারিতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মুক্ত আলোচনার একটি প্রশ্নের সূত্র ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাদের আইন যেটা আছে, এখানে একজন প্রশ্নোত্তর পর্বে বেশ ভালোই প্রশ্নই করেছেন। এখানে উত্তর দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশ্নকর্তাকে ১০০ ভাগ সমর্থন করি।

“আমাদের আইন ১৮৭২ সাল থেকে, এর আগের আইন থেকে বর্তমান বিচার ব্যবস্থা চলছে। এই সেকেলে মরিচা ধরা আইনগুলোকে কোনোমতে এমনভাবে ঘষামাজা করি, এর কোনো মৌলিকত্বই নেই এখন।”

“আমি সব জায়গায়ই বলি, আমাদের যে প্রসিডিউরাল ল, এটার ৬০-৭০ ভাগ এখন অপ্রচলিত। একবিংশ শতাব্দীতে আমরা ডিজিটালাইজেশনের কথা বলি, কিন্তু আমাদের আইনগুলো সব অবসোলেট। ডিজিটালাইজেশনের জমানায় এই অবসোলেট আইন দিয়ে চলে না।”

আইন সংস্কারে আইন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন তিনি। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদেরও আরও গোছালো কাজের প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিচারপতি সিনহা বলেন, “কাস্টমস, ভ্যাট, সিভিল, ক্রিমিনাল, যতগুলো আইন আমরা পাই। এই আইনগুলো কার্যকর হওয়ার আগেই দুই-চারটা সংশোধনী চলে আসে। কোনটা কোন সময় সংশোধনী…আমরা হদিস পাই না।”

আইন প্রণয়ন পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “যেমন, আয়করের বিষয় হয়। পৃথিবীর সব জায়গায় যেটা হয়, সেটা হলো, করদাতাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয়। কমিশন প্রশ্ন উত্তর নিয়ে এরপর সুপারিশ করবে। প্রত্যেকটা আইন এভাবে করা উচিত। সব দেশেই এটা হয়, ব্যতিক্রম বাংলাদেশ।”

আইনগুলো যুগোপযোগী করার জন্য নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শও চেয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

আমলাতন্ত্রের সমালোচনা

প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রশ্ন উঠেছে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলাগুলো এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় কি-না।

“হ্যাঁ, এগুলো নিষ্পত্তি করা যায়। আমি প্রধান বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটা করার জন্য আমি একটা সেকশন খুলেছি। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে চাচ্ছি, আমাদের ব্যুরোক্রেটিকদের…

“আমি প্রোপোজাল এক্সিকিউটিভের কাছে পাঠিয়েছি, তিন মাস সেই ফাইলটা আটকে ছিল। গত সপ্তাহে সেটা প্ল্যানিং কমিশনে গিয়েছে।”

লোকবল কম হওয়ায় কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘লিগ্যাল এইড’র মাধ্যমে আইনজীবী বাংলাদেশেও নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি। এক্ষেত্রে মানসিকতা পরিবর্তনের উপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

“এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হলে প্রথম আমাদের ইগোইজম ত্যাগ করতে হবে। এটা ট্যাক্স ম্যাটার না। ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় দীর্ঘসূত্রতা একমাত্র এটার জন্য।”

সুপ্রিম কোর্টে এনবি আরের সেল চান অর্থমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সুপ্রিম কোর্টে এনবি আরের একটা সেল থাকা উচিত।

“আমি বলব না, আপনারা সেখানে সব সময় থাকেন। তবে যেদিন আপনাদের কেইস আছে, সেদিন আপনাদের অন্ততপক্ষে একজন মাস্ট বি প্রেজেন্ট দেয়ার। দিস ইজ অ্যান অর্ডার।”

“এরপর আরেকটা কথা আমি বলবো, রায় পড়া এবং পরীক্ষা করা। এটা অবশ্য আমাদের অভ্যাস, আমরা চট করে রায়ের শেষ দিকে চলে যাই। যাতে রায় পড়তে না হয়। যার ফলে মোকাদ্দমা সম্পর্কে মোটেই ধারণা থাকে না। আমি সিদ্ধান্তও দিয়ে দেই।”

“যারা সেলে কাজ করেন, তাদেরকে অন্য কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে রায় পড়ানোর অভ্যাসটা করানো দরকার। রায় না পড়লে রায় সম্পর্কে বক্তব্য রাখা সম্ভব হয় না। সেই বক্তব্য কার্যকর হয় না।”

অনুষ্ঠানে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কর কমিশনার আলমগীর হোসেন।