পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

প্রসূতির অস্ত্রোপচারে ‘চক্ষু বিশেষজ্ঞ’! মা-নবজাতকের মৃত্যু

শরীয়তপুর: চক্ষু বিশেষজ্ঞ দাবি করা এক চিকিৎসকের অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) সময় মা ও নবজাতক দুজনই মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। ওই চিকিৎসকের নাম এম এ দাউদ। ক্লিনিকের দেয়ালে লেখা ‘এম এ দাউদ, এমবিবিএস, বিসিএস (হেলথ), চক্ষু বিশেষজ্ঞ, পিজিটি (জেঃ সার্জন)। সিনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জন।’ ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছে।

নিহত ওই প্রসূতির নাম ময়না বেগম (৩০)। তিনি ডামুড্যা উপজেলার চরমাল গাঁও ভাদুরি কান্দির জসিম ভূইয়ার স্ত্রী।

নিহত ময়নার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানায়, আজ সকালেই ময়না বেগমকে সন্তান প্রসব করানোর জন্য শরীয়তপুর নার্সিং হোম নামের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষ-নিরীক্ষা শেষে দুপুর ২টার দিকে ওই প্রসূতিকে অস্ত্রোপচার কক্ষে (অপারেশন থিয়েটার) নেওয়া হয়। এর পর ভেতর থেকে ময়নার চিৎকার শোনা যেতে থাকে। কিছুক্ষণ পর চিৎকার বন্ধ হয়ে যায়। স্বজনরা বিকেল ৩টার দিকে জানতে পারে ময়না বেগম মারা গেছেন। ময়নার কেনো মৃত্যু হলো জানতে চাইলে ক্লিনিকের কর্মীরা স্বজনদের মারধর করে। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এর আগেই চিকিৎসক এম এ দাউদ ও ক্লিনিকের কর্মীরা পালিয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিক ভাঙচুর করে। বর্তমানে ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে।

নিহত ময়না বেগমের বাবা হাসেম রাঢ়ি বলেন, ‘আমার মেয়েকে আপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর সে খুব চিৎকার করতে থাকে। আমরা খোঁজ নিতে গেলে আমাদের অন্য কক্ষে আটকে রাখা হয়।

বিকেল ৩টার দিকে জানতে পারি, আমার মেয়ে মারা গেছে। কীভাবে মারা গেছে জানতে চাইলে তারা আমাদের মারধর করে। ওই চিকিৎসক চোখের বিশেষজ্ঞ না, তা আমরা আগে জানতাম না। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

ঘটনার সময় ক্লিনিকে উপস্থিত ছিলেন ময়না বেগমের ননদ ফরিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘ময়নার অস্ত্রোপচার করেছেন এক বৃদ্ধ চিকিৎসক। তাঁকে অবেদন করা (অ্যানাসথেসিয়া) হয়নি। সিজারিয়ানের সময় সে অনেক চিৎকার করেছে। কিছুক্ষণ পর জানতে পারি সে ও তার বাচ্চা মারা গেছে।’

ঘট্নার পর বিকেল ৫টার দিকে ক্লিনিকে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। অপারেশন থিয়েটারের মেঝেতে ওই প্রসূতির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশের কক্ষে ছিল নবজাতকের মরদেহ।

শরীয়তপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, অবহেলায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

প্রসূতির অস্ত্রোপচারে ‘চক্ষু বিশেষজ্ঞ’! মা-নবজাতকের মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৪:৫২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৫

শরীয়তপুর: চক্ষু বিশেষজ্ঞ দাবি করা এক চিকিৎসকের অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) সময় মা ও নবজাতক দুজনই মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। ওই চিকিৎসকের নাম এম এ দাউদ। ক্লিনিকের দেয়ালে লেখা ‘এম এ দাউদ, এমবিবিএস, বিসিএস (হেলথ), চক্ষু বিশেষজ্ঞ, পিজিটি (জেঃ সার্জন)। সিনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জন।’ ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছে।

নিহত ওই প্রসূতির নাম ময়না বেগম (৩০)। তিনি ডামুড্যা উপজেলার চরমাল গাঁও ভাদুরি কান্দির জসিম ভূইয়ার স্ত্রী।

নিহত ময়নার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানায়, আজ সকালেই ময়না বেগমকে সন্তান প্রসব করানোর জন্য শরীয়তপুর নার্সিং হোম নামের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষ-নিরীক্ষা শেষে দুপুর ২টার দিকে ওই প্রসূতিকে অস্ত্রোপচার কক্ষে (অপারেশন থিয়েটার) নেওয়া হয়। এর পর ভেতর থেকে ময়নার চিৎকার শোনা যেতে থাকে। কিছুক্ষণ পর চিৎকার বন্ধ হয়ে যায়। স্বজনরা বিকেল ৩টার দিকে জানতে পারে ময়না বেগম মারা গেছেন। ময়নার কেনো মৃত্যু হলো জানতে চাইলে ক্লিনিকের কর্মীরা স্বজনদের মারধর করে। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এর আগেই চিকিৎসক এম এ দাউদ ও ক্লিনিকের কর্মীরা পালিয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিক ভাঙচুর করে। বর্তমানে ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে।

নিহত ময়না বেগমের বাবা হাসেম রাঢ়ি বলেন, ‘আমার মেয়েকে আপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর সে খুব চিৎকার করতে থাকে। আমরা খোঁজ নিতে গেলে আমাদের অন্য কক্ষে আটকে রাখা হয়।

বিকেল ৩টার দিকে জানতে পারি, আমার মেয়ে মারা গেছে। কীভাবে মারা গেছে জানতে চাইলে তারা আমাদের মারধর করে। ওই চিকিৎসক চোখের বিশেষজ্ঞ না, তা আমরা আগে জানতাম না। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

ঘটনার সময় ক্লিনিকে উপস্থিত ছিলেন ময়না বেগমের ননদ ফরিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘ময়নার অস্ত্রোপচার করেছেন এক বৃদ্ধ চিকিৎসক। তাঁকে অবেদন করা (অ্যানাসথেসিয়া) হয়নি। সিজারিয়ানের সময় সে অনেক চিৎকার করেছে। কিছুক্ষণ পর জানতে পারি সে ও তার বাচ্চা মারা গেছে।’

ঘট্নার পর বিকেল ৫টার দিকে ক্লিনিকে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। অপারেশন থিয়েটারের মেঝেতে ওই প্রসূতির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশের কক্ষে ছিল নবজাতকের মরদেহ।

শরীয়তপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, অবহেলায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।