পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

৫ খুনে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার ভাগ্নে মাহফুজের

ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জে নৃশংস পাঁচ খুনের ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা ভাগ্নে মাহফুজ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ঘটনাস্থল থেকে নতুন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই বাসা থেকে শিল ও পাটায় রক্তের দাগ রয়েছে এমন কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দারা।

বুধবার রাতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মাহফুজ রিমান্ডে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার চেষ্টা করলেও খুনের ঘটনায় সে জড়িত এটা পরিস্কার। নিহত তাসলিমার ছেলে শান্ত’র মৃতদেহে স্কুলের পোশাক ছিল এবং তার কাধে তখনও স্কুল ব্যাগ ছিল। অর্থাৎ স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময়ই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় সে। তাছাড়া ঘরে পাওয়া রুটি-হালুয়া সম্ভবত তার জন্যই আনা হয়েছিল।

বাসার দুটি কামরায় দুটি মাত্র শোবার খাট থাকলেও সেখানে অতিরিক্ত কাঁথা দেখা যায়। সেগুলোর কিছু ছিল খাটে এবং কিছু ছিল মেঝেতে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে নিহত পরিবারের সদস্যদের বাইরেও কিছু লোক রাত্রি যাপন করে থাকতে পারে, যারা পরিবারের পূর্ব পরিচিত। যে পরিমান রক্ত থাকার কথা সে পরিমান রক্তও দেখা যায়নি। কাঁথাগুলোকে রক্ত শুষে নেবার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এটা নিশ্চিত যে, পাঁচজন মানুষকে অচেতন না করে কারো একার পক্ষে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব ছিল না।

সূত্র আরো জানায়, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ যে ২৫ ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছে তার মধ্যে চুলও রয়েছে। ওই চুল খুনিদের কারো কি না তা ফরেনসিক বিভাগ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাবার পরেই বলা যাবে। তাছাড়া নিহতদের চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না সেটাও পরিস্কার হওয়া যাবে রিপোর্ট হাতে পেলেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশীদ মন্ডল বলেন, রিমান্ডে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মাহফুজ দিয়েছে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের একেবারে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি।

পাঁচ খুনের ঘটনায় মামলার বাদি শফিকুল ইসলামের ভাগ্নে মাহফুজকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এর একদিন পর শরিয়তপুরের ডামুড্যা থেকে গ্রেফতারের পর সন্ধিগ্ধ নাজমা বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাজমা নিহত তাছলিমার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা ছিল না বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

ঘটনায় পুলিশের সন্দেহে থাকা নিহত মোরশেদুল ওরফে মোশারফের হোসিয়ারী কারখানার ৬ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার ডিবি অফিসে তলব করা হয়। এরা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম, নয়ন, রাসেল, নাজমুল, মো. দেলোয়ার ও মো. দেলু। এসময় ডিবি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন নিহত তাছলিমা ও তার ভাই মোরশেদুলের মা মোরশেদা বেগম, তাছলিমার স্বামী শফিকুল, খালাতো ভাই দেলোয়ার ও শাহাজাদা এবং মেঝো খালা রুমি বেগম।

নিহত তাছলিমার মা মোরশেদা বেগম বলেন, ‘ঢাকা কলাবাগান এলাকায় থাকার সময় থেকেই নাজমা আমার মাইয়াডারে টেকার লিগা বিভিন্ন সময় চাপ দিত। তাছলিমা প্রায়ই আমারে কইত, মা নাজমা মহিলাডা বিভিন্ন সময় আমারে আইয়া টেকার লিগা হুমকি দেয়। হেয় কয়, যদি তাড়াতাড়ি টেকা না দেই, তাইলে আমারে বাইচ্চাগো লইয়া শান্তিতে থাকতে দিব না। যেহানেই যাই, চুম্বকের মত টাইনা নিয়া আইব। তাদের চাপ সইতে না পেরে কলাবাগান ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে এসে প্রথমে অন্যত্র দুই স্থানে, এরপর নগরীর ২নং বাবুরাইল খানকার মোড় এলাকার খামারবাড়ি সংলগ্ন আমেরিকা প্রবাসী মো. ইসমাঈল মিয়ার ছয় তলা ভবনের নিচ তলায় ভাড়া নেন তাছলিমার পরিবার।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শফিকুল ইসলামের বড় বোন আছিয়া বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মাহফুজ সবার বড়। দুই সন্তান ও স্বামী শরফুল মিয়াকে নিয়ে আছিয়া বেগম শহরের পাইকপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। মাহফুজের বাবা শরফুল মিয়া ঝাল মুড়ি বিক্রেতা। শফিক-তাছলিমা দম্পত্তি যখন ঢাকার কলাবাগানে বসবাস করতেন তখন মাহফুজও ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পিয়নের কাজ করতো।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

“বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির

৫ খুনে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার ভাগ্নে মাহফুজের

আপডেট টাইম : ০৩:৫৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৬

ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জে নৃশংস পাঁচ খুনের ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা ভাগ্নে মাহফুজ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ঘটনাস্থল থেকে নতুন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই বাসা থেকে শিল ও পাটায় রক্তের দাগ রয়েছে এমন কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দারা।

বুধবার রাতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মাহফুজ রিমান্ডে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার চেষ্টা করলেও খুনের ঘটনায় সে জড়িত এটা পরিস্কার। নিহত তাসলিমার ছেলে শান্ত’র মৃতদেহে স্কুলের পোশাক ছিল এবং তার কাধে তখনও স্কুল ব্যাগ ছিল। অর্থাৎ স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময়ই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় সে। তাছাড়া ঘরে পাওয়া রুটি-হালুয়া সম্ভবত তার জন্যই আনা হয়েছিল।

বাসার দুটি কামরায় দুটি মাত্র শোবার খাট থাকলেও সেখানে অতিরিক্ত কাঁথা দেখা যায়। সেগুলোর কিছু ছিল খাটে এবং কিছু ছিল মেঝেতে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে নিহত পরিবারের সদস্যদের বাইরেও কিছু লোক রাত্রি যাপন করে থাকতে পারে, যারা পরিবারের পূর্ব পরিচিত। যে পরিমান রক্ত থাকার কথা সে পরিমান রক্তও দেখা যায়নি। কাঁথাগুলোকে রক্ত শুষে নেবার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এটা নিশ্চিত যে, পাঁচজন মানুষকে অচেতন না করে কারো একার পক্ষে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব ছিল না।

সূত্র আরো জানায়, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ যে ২৫ ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছে তার মধ্যে চুলও রয়েছে। ওই চুল খুনিদের কারো কি না তা ফরেনসিক বিভাগ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাবার পরেই বলা যাবে। তাছাড়া নিহতদের চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না সেটাও পরিস্কার হওয়া যাবে রিপোর্ট হাতে পেলেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশীদ মন্ডল বলেন, রিমান্ডে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মাহফুজ দিয়েছে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের একেবারে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি।

পাঁচ খুনের ঘটনায় মামলার বাদি শফিকুল ইসলামের ভাগ্নে মাহফুজকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এর একদিন পর শরিয়তপুরের ডামুড্যা থেকে গ্রেফতারের পর সন্ধিগ্ধ নাজমা বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাজমা নিহত তাছলিমার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা ছিল না বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

ঘটনায় পুলিশের সন্দেহে থাকা নিহত মোরশেদুল ওরফে মোশারফের হোসিয়ারী কারখানার ৬ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার ডিবি অফিসে তলব করা হয়। এরা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম, নয়ন, রাসেল, নাজমুল, মো. দেলোয়ার ও মো. দেলু। এসময় ডিবি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন নিহত তাছলিমা ও তার ভাই মোরশেদুলের মা মোরশেদা বেগম, তাছলিমার স্বামী শফিকুল, খালাতো ভাই দেলোয়ার ও শাহাজাদা এবং মেঝো খালা রুমি বেগম।

নিহত তাছলিমার মা মোরশেদা বেগম বলেন, ‘ঢাকা কলাবাগান এলাকায় থাকার সময় থেকেই নাজমা আমার মাইয়াডারে টেকার লিগা বিভিন্ন সময় চাপ দিত। তাছলিমা প্রায়ই আমারে কইত, মা নাজমা মহিলাডা বিভিন্ন সময় আমারে আইয়া টেকার লিগা হুমকি দেয়। হেয় কয়, যদি তাড়াতাড়ি টেকা না দেই, তাইলে আমারে বাইচ্চাগো লইয়া শান্তিতে থাকতে দিব না। যেহানেই যাই, চুম্বকের মত টাইনা নিয়া আইব। তাদের চাপ সইতে না পেরে কলাবাগান ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে এসে প্রথমে অন্যত্র দুই স্থানে, এরপর নগরীর ২নং বাবুরাইল খানকার মোড় এলাকার খামারবাড়ি সংলগ্ন আমেরিকা প্রবাসী মো. ইসমাঈল মিয়ার ছয় তলা ভবনের নিচ তলায় ভাড়া নেন তাছলিমার পরিবার।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শফিকুল ইসলামের বড় বোন আছিয়া বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মাহফুজ সবার বড়। দুই সন্তান ও স্বামী শরফুল মিয়াকে নিয়ে আছিয়া বেগম শহরের পাইকপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। মাহফুজের বাবা শরফুল মিয়া ঝাল মুড়ি বিক্রেতা। শফিক-তাছলিমা দম্পত্তি যখন ঢাকার কলাবাগানে বসবাস করতেন তখন মাহফুজও ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পিয়নের কাজ করতো।