পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

‘কথা কম বলুন’ প্রধান বিচারপতিকে সুরঞ্জিত

ঢাকা: বিচার বিভাগের ‘কোন্দল’ প্রকাশ্যে এনে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দায়ী করে তাকে কথা ‘কম’ বলার পরামর্শ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

অবসরে যাওয়ার পর বিচারকদের রায় লেখা ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে বক্তব্য দিয়ে প্রধান বিচারপতি অনধিকার চর্চা করেছেন বলেও মনে করছেন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রের অন্যতম এই প্রণেতা।

আজ সোমবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার বছর পূর্তিতে বিচারপতি এস কে সিনহার বাণীর প্রসঙ্গটি তোলেন সুরঞ্জিত।

গত ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির ওই বক্তব্য আসার পর থেকে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তার ভিত্তিতে বিএনপি বলছে, অবসরের পরে লেখা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের রায়ও তাহলে অবৈধ।

সুরঞ্জিত বলেন, “সাংবিধানিকভাবে তিনি (প্রধান বিচারপতি) দেশের প্রধান তিনজনের একজন। প্রধান বিচারপতিরা প্রধান বিচার করেন, প্রধান প্রধান কথা বলেন না। এই পদে থেকে সাধারণত প্রধান কথা শোনা যায় না।

“এই পদে থেকে তিনি এমন কিছু কথা বলে ফেলেছেন, যা জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে কথা বলতে বলতে তিনি কোথায় চলে যাচ্ছেন, তার সীমানা থাকছে না।”

বিচারপতি সিনহার বক্তব্যে সংবিধানের সমর্থন নেই বলে দাবি করেন বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য এবং পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত।

“তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন, যা সংবিধানের কোথাও নেই। সংবিধান রচনা করেছি আমি। সংবিধানের কোন জায়গায় লেখা আছে যে বিচারপতিরা অবসরে গেলে রায় লেখা যাবে না? এ কথা সংবিধানের কোথাও লেখা নেই।”

“উনি যা বলেছেন, এটা তো কোনো আইন নয়। উনি যদি মনে করেন, শপথ শেষ হয়ে গেলে আর বিচার দেখতে দেব না, সেটা অবসরে যাওয়ার কতদিন আগ থেকে, জাজমেন্ট ঘোষণা করতে হবে? এটাও আইনে আনতে হবে।”

প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের অন্তঃকোন্দল প্রকাশ্য হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

‘কথা কম বলুন’ প্রধান বিচারপতিকে সুরঞ্জিত

আপডেট টাইম : ০২:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০১৬

ঢাকা: বিচার বিভাগের ‘কোন্দল’ প্রকাশ্যে এনে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দায়ী করে তাকে কথা ‘কম’ বলার পরামর্শ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

অবসরে যাওয়ার পর বিচারকদের রায় লেখা ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে বক্তব্য দিয়ে প্রধান বিচারপতি অনধিকার চর্চা করেছেন বলেও মনে করছেন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রের অন্যতম এই প্রণেতা।

আজ সোমবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার বছর পূর্তিতে বিচারপতি এস কে সিনহার বাণীর প্রসঙ্গটি তোলেন সুরঞ্জিত।

গত ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির ওই বক্তব্য আসার পর থেকে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তার ভিত্তিতে বিএনপি বলছে, অবসরের পরে লেখা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের রায়ও তাহলে অবৈধ।

সুরঞ্জিত বলেন, “সাংবিধানিকভাবে তিনি (প্রধান বিচারপতি) দেশের প্রধান তিনজনের একজন। প্রধান বিচারপতিরা প্রধান বিচার করেন, প্রধান প্রধান কথা বলেন না। এই পদে থেকে সাধারণত প্রধান কথা শোনা যায় না।

“এই পদে থেকে তিনি এমন কিছু কথা বলে ফেলেছেন, যা জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে কথা বলতে বলতে তিনি কোথায় চলে যাচ্ছেন, তার সীমানা থাকছে না।”

বিচারপতি সিনহার বক্তব্যে সংবিধানের সমর্থন নেই বলে দাবি করেন বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য এবং পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত।

“তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন, যা সংবিধানের কোথাও নেই। সংবিধান রচনা করেছি আমি। সংবিধানের কোন জায়গায় লেখা আছে যে বিচারপতিরা অবসরে গেলে রায় লেখা যাবে না? এ কথা সংবিধানের কোথাও লেখা নেই।”

“উনি যা বলেছেন, এটা তো কোনো আইন নয়। উনি যদি মনে করেন, শপথ শেষ হয়ে গেলে আর বিচার দেখতে দেব না, সেটা অবসরে যাওয়ার কতদিন আগ থেকে, জাজমেন্ট ঘোষণা করতে হবে? এটাও আইনে আনতে হবে।”

প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের অন্তঃকোন্দল প্রকাশ্য হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য।