পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

বগুড়ায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সাড়ে ৫ হাজার খাতা গায়েব!

বগুড়া : জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের হেফাজত থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সাড়ে পাঁচ হাজার খাতা রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে।

এ কারণে ফলাফল পুনঃমুল্যায়নের জন্য আবেদনকারী পরীক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৫ এর ফলাফল ঘোষণার পর শিবগঞ্জ উপজেলার খাতাগুলো বস্তায় ভরে শিবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গোডাউনে রাখা হয়। ওই গোডাউনে তালা দিয়ে একটি চাবি উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান এবং অপর একটি চাবি সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু রায়হানের হেফাজতে রাখা হয়।

৩১ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৫ এর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী যাদের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি তাদেরকে ২০০ টাকা মুল্যায়ন ফি জমা সাপেক্ষে খাতা পুনঃমুল্যায়নের আবেদন করতে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। সেই অনুযায়ী বগুড়া জেলার ১২ উপজেলা থেকে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। ১৯ জানুয়ারির মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আবেদনকারীদের খাতাগুলো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ২১ জানুয়ারি পুনঃমুল্যায়নের ফলাফল ঢাকায় পাঠানোর শেষ তারিখ ছিল। বিভিন্ন উপজেলা থেকে খাতা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হলেও শিবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেশ কিছু খাতা পাঠাতে ব্যর্থ হন। ফলে খাতা গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানতে পারেন। পরদিন তিনি সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার সাহাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- শেরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাউয়ুম ও কাহালু উপজেলা শিক্ষা অফিসার সারেয়ার হোসেন।

তদন্ত কমিটি গত ২৫ জানুয়ারি ঘটনাস্থল তদন্ত করে জানতে পারে- উপজেলা শিক্ষা অফিসের তত্ত্বাবধানে শিবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোডাউনে ২০১৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার খাতা ২৮টি বস্তায় ভরে রাখা হয়। সেখান থেকে তিনটি বস্তা উধাও হয়ে যায়। উধাও হওয়া তিনটি বস্তায় সাড়ে পাঁচ হাজার খাতা ছিল বলে তদন্ত কমিটির প্রধান জানান।

তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার সাহা আরো জানান, গোডাউনের তালা অরক্ষিত দেখা গেছে। কিভাবে তিন বস্তা খাতা উধাও হয়ে গেলো এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে টিনের চালা কেটে দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে যেতে পারে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষক বলেছেন- গোডাউনের টিনের চালা কাটা নেই।

এ বিষয়ে জানার জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসেন আলী জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও তদন্ত কমিটি রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

বগুড়ায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সাড়ে ৫ হাজার খাতা গায়েব!

আপডেট টাইম : ০৩:৩৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৬

বগুড়া : জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের হেফাজত থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সাড়ে পাঁচ হাজার খাতা রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে।

এ কারণে ফলাফল পুনঃমুল্যায়নের জন্য আবেদনকারী পরীক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৫ এর ফলাফল ঘোষণার পর শিবগঞ্জ উপজেলার খাতাগুলো বস্তায় ভরে শিবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গোডাউনে রাখা হয়। ওই গোডাউনে তালা দিয়ে একটি চাবি উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান এবং অপর একটি চাবি সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু রায়হানের হেফাজতে রাখা হয়।

৩১ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৫ এর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী যাদের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি তাদেরকে ২০০ টাকা মুল্যায়ন ফি জমা সাপেক্ষে খাতা পুনঃমুল্যায়নের আবেদন করতে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। সেই অনুযায়ী বগুড়া জেলার ১২ উপজেলা থেকে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। ১৯ জানুয়ারির মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আবেদনকারীদের খাতাগুলো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ২১ জানুয়ারি পুনঃমুল্যায়নের ফলাফল ঢাকায় পাঠানোর শেষ তারিখ ছিল। বিভিন্ন উপজেলা থেকে খাতা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হলেও শিবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেশ কিছু খাতা পাঠাতে ব্যর্থ হন। ফলে খাতা গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানতে পারেন। পরদিন তিনি সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার সাহাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- শেরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাউয়ুম ও কাহালু উপজেলা শিক্ষা অফিসার সারেয়ার হোসেন।

তদন্ত কমিটি গত ২৫ জানুয়ারি ঘটনাস্থল তদন্ত করে জানতে পারে- উপজেলা শিক্ষা অফিসের তত্ত্বাবধানে শিবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোডাউনে ২০১৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার খাতা ২৮টি বস্তায় ভরে রাখা হয়। সেখান থেকে তিনটি বস্তা উধাও হয়ে যায়। উধাও হওয়া তিনটি বস্তায় সাড়ে পাঁচ হাজার খাতা ছিল বলে তদন্ত কমিটির প্রধান জানান।

তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার সাহা আরো জানান, গোডাউনের তালা অরক্ষিত দেখা গেছে। কিভাবে তিন বস্তা খাতা উধাও হয়ে গেলো এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে টিনের চালা কেটে দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে যেতে পারে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষক বলেছেন- গোডাউনের টিনের চালা কাটা নেই।

এ বিষয়ে জানার জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসেন আলী জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও তদন্ত কমিটি রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন।