অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

জাফলংয়ে পাথর আমদানি বন্ধ: বিপাকে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা

সিলেট: সিলেটের জাফলং বল্লার ঘাট থেকে গত ৯ মাস ধরে পাথর আমদানী বন্ধ রয়েছে। এতে কয়েকশ’ ব্যবসায়ী ও কয়েক হাজার শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন। পাথরের অভাবে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৫ শতাধিক স্টোন ক্রাশার মিল (পাথর ভাঙ্গার কল)। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে পাথর আমদানি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের মার্চ মাসে পরিবেশগত কারণ দেখিয়ে ভারতীয় উচ্চ আদালত মেঘালয়ের পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলনের উপর নিষেষধাজ্ঞা জারি করে। এ কারণেই গত এপ্রিল মাস থেকে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে সম্প্রতি উত্তোলিত পাথর রফতানিতে ভারতের উচ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমদানি শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাথর ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মোট পাথরের চাহিদার ৬০ ভাগ পাথর ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এছাড়াও বাকি ৪০ ভাগ পাথর জাফলং ও ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে উত্তোলন করা হয়।

এদিকে, পাথর আমদানি বন্ধ হওয়াতে শতকোটি টাকা ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন পাথর ব্যবসায়ীরা। শুধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এমন নয়, প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।

জানা যায়, আমদানি বন্ধ থাকায় বেড়ে গেছে পাথরের দামও। সাত মাসে প্রতি ঘনফুট পাথর ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অধিক দাম দিয়েও পাথর পাওয়া যাচ্ছে না।

সিলেটের আমদানিকারকরা জানান, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও তামাবিল সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি পাথর আমদানি করা হয়। এই দুই শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার টন পাথর আমদানি করা হয়। তবে গত নয় মাস ধরে আমদানি বন্ধ রয়েছে। এরফলে বেকার হয়ে পড়েছেন আমদানি-রফতানির সাথে জড়িত শ্রমিকরা। আটকে আছে ব্যবসায়ীদের মোটা অংকের এলসির টাকা।

এদিকে, পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে পড়েছে সিলেটের পাথর ভাঙ্গার কলগুলো।

সিলেট স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, সিলেটে পাঁচ শতাধিক পাথর ভাঙ্গার কল রয়েছে। পাথর সঙ্কটের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৩শ’ কল বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাকীগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এরফলে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। পাথর কল মালিকরা শতাধিক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সভাপতি ও পাথর আমদানিকারক মাসুদ আহমদ চৌধুরী শীর্ষ নিউজ জানান, পাথর সঙ্কটের কারণে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্টোন ক্রাশার মিল এখন বন্ধ হওয়ার পথে। আমদানী বন্ধ হওয়াতে ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনছেন। এছাড়াও হাজারো শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জাফলং বল্লাঘাট পাথর কোয়ারির বারকী শ্রমিক আক্কাছ, নিয়ামত, রফিক, আকরাম শীর্ষ নিউজকে জানান, কয়েকমাস যাবত কোয়ারিতে কাজ নেই। কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় আমার মতো হাজারও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

জাফলংয়ে পাথর আমদানি বন্ধ: বিপাকে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা

আপডেট টাইম : ০৩:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

সিলেট: সিলেটের জাফলং বল্লার ঘাট থেকে গত ৯ মাস ধরে পাথর আমদানী বন্ধ রয়েছে। এতে কয়েকশ’ ব্যবসায়ী ও কয়েক হাজার শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন। পাথরের অভাবে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৫ শতাধিক স্টোন ক্রাশার মিল (পাথর ভাঙ্গার কল)। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে পাথর আমদানি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের মার্চ মাসে পরিবেশগত কারণ দেখিয়ে ভারতীয় উচ্চ আদালত মেঘালয়ের পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলনের উপর নিষেষধাজ্ঞা জারি করে। এ কারণেই গত এপ্রিল মাস থেকে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে সম্প্রতি উত্তোলিত পাথর রফতানিতে ভারতের উচ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমদানি শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাথর ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মোট পাথরের চাহিদার ৬০ ভাগ পাথর ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এছাড়াও বাকি ৪০ ভাগ পাথর জাফলং ও ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে উত্তোলন করা হয়।

এদিকে, পাথর আমদানি বন্ধ হওয়াতে শতকোটি টাকা ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন পাথর ব্যবসায়ীরা। শুধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এমন নয়, প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।

জানা যায়, আমদানি বন্ধ থাকায় বেড়ে গেছে পাথরের দামও। সাত মাসে প্রতি ঘনফুট পাথর ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অধিক দাম দিয়েও পাথর পাওয়া যাচ্ছে না।

সিলেটের আমদানিকারকরা জানান, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও তামাবিল সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি পাথর আমদানি করা হয়। এই দুই শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার টন পাথর আমদানি করা হয়। তবে গত নয় মাস ধরে আমদানি বন্ধ রয়েছে। এরফলে বেকার হয়ে পড়েছেন আমদানি-রফতানির সাথে জড়িত শ্রমিকরা। আটকে আছে ব্যবসায়ীদের মোটা অংকের এলসির টাকা।

এদিকে, পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে পড়েছে সিলেটের পাথর ভাঙ্গার কলগুলো।

সিলেট স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, সিলেটে পাঁচ শতাধিক পাথর ভাঙ্গার কল রয়েছে। পাথর সঙ্কটের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৩শ’ কল বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাকীগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এরফলে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। পাথর কল মালিকরা শতাধিক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সভাপতি ও পাথর আমদানিকারক মাসুদ আহমদ চৌধুরী শীর্ষ নিউজ জানান, পাথর সঙ্কটের কারণে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্টোন ক্রাশার মিল এখন বন্ধ হওয়ার পথে। আমদানী বন্ধ হওয়াতে ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনছেন। এছাড়াও হাজারো শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জাফলং বল্লাঘাট পাথর কোয়ারির বারকী শ্রমিক আক্কাছ, নিয়ামত, রফিক, আকরাম শীর্ষ নিউজকে জানান, কয়েকমাস যাবত কোয়ারিতে কাজ নেই। কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় আমার মতো হাজারও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।