অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

স্কুলের টাকা ব্যাংকের পরিবর্তে বিকাশ একাউন্টে

ঢাকা : ব্যাংকে অর্থ জমার পরিবর্তে বিকাশের মাধ্যমে জমা নেয়ার নতুন নিয়ম চালু করেছে রাজধানীর ফরিদাবাদস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক আদর্শ স্কুলের কর্তৃপক্ষ। ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন ফি ও ভর্তির টাকা জমা দেয়ার এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ। কারণ, এতে জমা দেয়া অর্থের হিসাব-নিকাশ থাকবে না। স্কুল খাতের অর্থ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া বিকাশের ফি বাবদ অভিভাবকদেরকে অতিরিক্ত অর্থও গুণতে হবে। তাই অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করানো থেকে বিরত রয়েছেন।

শ্যামপুরের ফরিদাবাদে বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনীতে অবস্থিত এ স্কুলটির কর্তৃপক্ষের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় কিছুদিন ধরে উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে। তারপরও বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটি তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। ইতিপূর্বে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে যে সকল পাওনা ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় করা হতো তা এখন শুধুমাত্র বিকাশ ও সিওর ক্যাশের মাধ্যমে জমা দিতে হবে এবং এ সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হবে না বলে কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, অভিভাবকরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এ পদ্ধতিতে তারা ছেলে-মেয়ে ভর্তি করাবেন না।

অভিভাবকদের মতে, ব্যাংকগুলো সরকারের নির্ধারিত নির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী চলে। একে আর্থিক নিরাপত্তার সর্বোচ্চ বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা হলে এর যথাযথ রেকর্ড লিপিবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিলে কাগজ পত্রের কোন প্রমাণ থাকে না। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর খরচও অভিভাবকদেরই বহন করতে হবে, যা তাদের জন্য নতুন বোঝা।

শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা নেয়ার এই নতুন পদ্ধতিটিকে মেনে নিতে না পারায় অভিভাবকরা প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। তারা জানান, এবছরের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে ভর্তির টাকা পয়সা জমা পড়েনি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এখনও ভর্তি হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি সঠিক সংখ্যার কথা জানাতে না পারলেও গতবছর ছাত্র সংখ্যা ৩৭০০ ছিল বলে জানান।

এ নয়া পদ্ধতির সিদ্ধান্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল একাই নিয়েছেন কিনা ? এর জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জিএম মো. নাসির উজ্জামান পদাধিকার বলে এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। মো. নাসির উজ্জামানের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে তিনি শীর্ষ নিউজকে বলেন, এমন কোন বাধ্যবাধকতা মূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। গত শনিবার(৩০ জানুয়ারী) ম্যানেজিং কমিটির মিটিং-এ আগের নিয়মের পাশাপাশি নতুন এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকের পাশাপাশি বিকাশ বা সিওর ক্যাশের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের সকল পাওনা বিদ্যালয়ে পরিশোধ করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, গত রোববারই এ সংক্রান্ত নোটিস বিদ্যালয়ে টানানোর কথা ছিল।

নোটিস টানানো হয়নি এ বিষয়টি জানানো হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ জিএম বলেন, আমি আগামীকালই এ বিষয়ে খোঁজ নিলে জানতে পারব।

নতুন এ পদ্ধতি কতটুকু নিরাপদ বা কেন নেয়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অভিভাবকরা তো অভিযোগ করছেন, আপনাদের অর্থ আত্মসাতের সুবিধার্থেই এ অদ্ভুত নিয়ম চালু করা হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান ব্যাংকের জিএম, স্কুল কমিটির সভাপতি নাসির উজ্জামান।

এদিকে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অবিলম্বে উদ্ভুত পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

স্কুলের টাকা ব্যাংকের পরিবর্তে বিকাশ একাউন্টে

আপডেট টাইম : ০৫:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

ঢাকা : ব্যাংকে অর্থ জমার পরিবর্তে বিকাশের মাধ্যমে জমা নেয়ার নতুন নিয়ম চালু করেছে রাজধানীর ফরিদাবাদস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক আদর্শ স্কুলের কর্তৃপক্ষ। ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন ফি ও ভর্তির টাকা জমা দেয়ার এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ। কারণ, এতে জমা দেয়া অর্থের হিসাব-নিকাশ থাকবে না। স্কুল খাতের অর্থ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া বিকাশের ফি বাবদ অভিভাবকদেরকে অতিরিক্ত অর্থও গুণতে হবে। তাই অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করানো থেকে বিরত রয়েছেন।

শ্যামপুরের ফরিদাবাদে বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনীতে অবস্থিত এ স্কুলটির কর্তৃপক্ষের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় কিছুদিন ধরে উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে। তারপরও বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটি তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। ইতিপূর্বে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে যে সকল পাওনা ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় করা হতো তা এখন শুধুমাত্র বিকাশ ও সিওর ক্যাশের মাধ্যমে জমা দিতে হবে এবং এ সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হবে না বলে কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, অভিভাবকরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এ পদ্ধতিতে তারা ছেলে-মেয়ে ভর্তি করাবেন না।

অভিভাবকদের মতে, ব্যাংকগুলো সরকারের নির্ধারিত নির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী চলে। একে আর্থিক নিরাপত্তার সর্বোচ্চ বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা হলে এর যথাযথ রেকর্ড লিপিবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিলে কাগজ পত্রের কোন প্রমাণ থাকে না। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর খরচও অভিভাবকদেরই বহন করতে হবে, যা তাদের জন্য নতুন বোঝা।

শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা নেয়ার এই নতুন পদ্ধতিটিকে মেনে নিতে না পারায় অভিভাবকরা প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। তারা জানান, এবছরের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে ভর্তির টাকা পয়সা জমা পড়েনি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এখনও ভর্তি হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি সঠিক সংখ্যার কথা জানাতে না পারলেও গতবছর ছাত্র সংখ্যা ৩৭০০ ছিল বলে জানান।

এ নয়া পদ্ধতির সিদ্ধান্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল একাই নিয়েছেন কিনা ? এর জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জিএম মো. নাসির উজ্জামান পদাধিকার বলে এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। মো. নাসির উজ্জামানের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে তিনি শীর্ষ নিউজকে বলেন, এমন কোন বাধ্যবাধকতা মূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। গত শনিবার(৩০ জানুয়ারী) ম্যানেজিং কমিটির মিটিং-এ আগের নিয়মের পাশাপাশি নতুন এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকের পাশাপাশি বিকাশ বা সিওর ক্যাশের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের সকল পাওনা বিদ্যালয়ে পরিশোধ করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, গত রোববারই এ সংক্রান্ত নোটিস বিদ্যালয়ে টানানোর কথা ছিল।

নোটিস টানানো হয়নি এ বিষয়টি জানানো হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ জিএম বলেন, আমি আগামীকালই এ বিষয়ে খোঁজ নিলে জানতে পারব।

নতুন এ পদ্ধতি কতটুকু নিরাপদ বা কেন নেয়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অভিভাবকরা তো অভিযোগ করছেন, আপনাদের অর্থ আত্মসাতের সুবিধার্থেই এ অদ্ভুত নিয়ম চালু করা হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান ব্যাংকের জিএম, স্কুল কমিটির সভাপতি নাসির উজ্জামান।

এদিকে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অবিলম্বে উদ্ভুত পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।