অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

বগুড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় ১৪৪ ধারা জারী

বগুড়া: বগুড়ার সোনাতলায় নির্বাচনী সহিংসতায় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি ২৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে।

সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামে শনিবার এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠানপাড়া গ্রামে ব্যাপারী পরিবারের সঙ্গে মিয়া পরিবারের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে একই গ্রামের ব্যাপারী পরিবারের প্রার্থী সেলিম পরাজিত হন এবং মিয়া পরিবার থেকে আব্দুস সামাদ বিজয়ী হন। শনিবার সকাল ৯টার দিকে বিজয়ী মেম্বার আব্দুস সামাদের কর্মী সমর্থকরা গ্রামের একটি সরকারি খাস পুকুর দখলে নিতে গেলে পরাজিত প্রার্থী সেলিমের লোকজন বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ও বল্লম ছাড়াও দেশীয় বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে মিজান, সাহেব আলী, মিঠু, ঠাণ্ডা মিয়া, রশিদ, মমিনুল, মানিক ও জয়নাল আবেদীনকে সোনাতলা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে জয়নাল আবেদীনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ শুরু করলে গ্রামবাসী পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসলে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে রোববার বেলা ১২টা পর্যন্ত পাঠানপাড়া গ্রামে ১৪৪ ধারা জারী করেন। পরে মাইকে প্রচার করে ১৪৪ ধারা মেনে চলার জন্য গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংঘর্ষের পর এলাকায় বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রাম পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় ধলু মিয়া (৬০) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা হাবিুবর রহমান জানান, পুনরায় লোকজন সমবেত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ওই গ্রামে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

বগুড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় ১৪৪ ধারা জারী

আপডেট টাইম : ০৪:০১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০১৬

বগুড়া: বগুড়ার সোনাতলায় নির্বাচনী সহিংসতায় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি ২৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে।

সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামে শনিবার এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠানপাড়া গ্রামে ব্যাপারী পরিবারের সঙ্গে মিয়া পরিবারের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে একই গ্রামের ব্যাপারী পরিবারের প্রার্থী সেলিম পরাজিত হন এবং মিয়া পরিবার থেকে আব্দুস সামাদ বিজয়ী হন। শনিবার সকাল ৯টার দিকে বিজয়ী মেম্বার আব্দুস সামাদের কর্মী সমর্থকরা গ্রামের একটি সরকারি খাস পুকুর দখলে নিতে গেলে পরাজিত প্রার্থী সেলিমের লোকজন বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ও বল্লম ছাড়াও দেশীয় বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে মিজান, সাহেব আলী, মিঠু, ঠাণ্ডা মিয়া, রশিদ, মমিনুল, মানিক ও জয়নাল আবেদীনকে সোনাতলা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে জয়নাল আবেদীনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ শুরু করলে গ্রামবাসী পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসলে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে রোববার বেলা ১২টা পর্যন্ত পাঠানপাড়া গ্রামে ১৪৪ ধারা জারী করেন। পরে মাইকে প্রচার করে ১৪৪ ধারা মেনে চলার জন্য গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংঘর্ষের পর এলাকায় বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রাম পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় ধলু মিয়া (৬০) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা হাবিুবর রহমান জানান, পুনরায় লোকজন সমবেত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ওই গ্রামে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে।