পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

উত্তরা ও কেরানীগঞ্জ বিআরটিএ অফিসে হানা মন্ত্রীর

ফারুক আহমেদ সুজন : দালালদের খুঁজতে মন্ত্রণালয় ছেড়ে সরকারি অফিসে ছুটছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার ভয়ে পালাচ্ছেন দালালরা। হাতে-নাতে মন্ত্রী পাকড়াও করছেন অনেককে।

উত্তরা বিআরটিএ অফিস থেকে ধরেছেন এক দালাল হোতাকে। এরপর কেরানীগঞ্জে বিআরটিএ অফিসে হানা দেওয়ার আগেই পালিয়েছে দালাল চক্র। দালাল ধরতে মন্ত্রীর এই দৌঁড় চলছে বিআরটিএর এক অফিস থেকে আরেক অফিসে।

শুধু দালালই নয়, তাদের সহযোগী বিআরটিএ কর্মকর্তা খুঁজতে এরকম আচমকা চুপিসারে অভিযানে বের হচ্ছেন মন্ত্রী। ফেসবুক ও টেলিফোনে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভিযোগে এসব তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি।

বুধবার (১১ মে) সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রী যখন হঠাৎ হাজির বিআরটিএ-র উত্তরা অফিসে। তখন দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায় দালালদের। কিন্তু দৌঁড় দেওয়ার আগেই লিটন নামের একজন ধরা পড়েন। ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে আসা সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে তিনি টাকা আদায় করতেন। নিজের পরিচয় দিতেন বিআরটিএ’র ‘ডিডি’ হিসেবে।

দীর্ঘদিন থেকে তাকে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন ম্যজিস্ট্রেটরা। অবশেষে মন্ত্রীর সামনে তাকে ধরে দেয় জনতা। তার পকেট থেকে এক হাজার ও পাঁচশো টাকার দুই বান্ডিল নোট জব্ধ করা হয়।

পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিআরটিএ‘র আরও দালাল চক্রের সন্ধান পান ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানের সময় মন্ত্রী বিআরটিএ’র প্রতিটি তলার কক্ষে কক্ষে ঢুকে তল্লাশি চালান। এমনকি অফিসের বাথরুমেও মন্ত্রী খুঁজে দেখেন কেউ লুকিয়ে আছে কি না।

মন্ত্রী এ সময় বিআরটিএ‘র বিভিন্ন কর্মকর্তার টেবিলের সামনে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের অনেককে চূড়ান্তভাবে হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।

মন্ত্রীর এমন অভিযানে লাইসেন্স করতে আসা ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরে মন্ত্রী চলে যান কেরানীগঞ্জে বিআরটিএ’র আরেকটি অফিসে। সেখানে অফিসের গেট বন্ধ রেখে তল্লাশি চালান মন্ত্রী। আগতদের কাছ থেকে দালালদের সম্পর্কে তথ্য চান তিনি।

তবে ওবায়দুল কাদের বুঝতে পারেন টের পেয়ে পালিয়েছে দালাল চক্র। জনমানুষের ভোগান্তি ঠেকাতে এরকম আচমকা অভিযান অব্যাহত রাখতে চান তিনি।

শুধু বিআরটিএ নয় বিআরটিসি সহ তার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সরকারি অফিস, যানবাহনে অভিযান করছেন নিয়মিত। প্রকৃত চিত্র খুঁজে বের করে কাউকে না জানিয়েই অভিযানে যাচ্ছেন সেতুমন্ত্রী।

উত্তরা বিআরটিএর অফিস থেকে মন্ত্রী যখন ক্ষিলক্ষেত হয়ে মতিঝিলের দিকে যাচ্ছেন। তখন একটি বিআরটিসি বাস দেখে থেমে গেলেন। নিজের গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে তিনি উঠে গেলেন যাত্রীবাহী বিআরটিসির ওই বাসে। বাসের আসন, পাখা, সিট ঠিক আছে কি না তা দেখলেন। যাত্রীদের কাছে কোন অভিযোগ আছে কি না তাও জানতে চাইলেন।

হঠাৎ যাত্রী বেশে গাড়িতে মন্ত্রীর এমন আগমন দেখে হচকিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। কেউ কেউ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন। আবার সিটে বসে থাকা অনেক যাত্রীর বিশ্বাসই হচ্ছিলো না মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গাড়িতে উঠে দাঁড়িয়ে আছেন।

মন্ত্রী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বললেন অনেক যাত্রীর সঙ্গে। এ সময় বিস্মিত যাত্রীদের অনেকেই মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধরে রাখছিলেন মন্ত্রীর আগন্তুক আগমন। আরেকজন তরুণী যাত্রী মন্ত্রীর এমন দৃশ্যকে সেলফিবন্দি করেও রাখছেন এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

রাস্তায় মন্ত্রীর এমন ছুটোছুটি ইদানিং প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ অসন্তোষ নিজ চোখে দেখতে এবং তড়িৎ সমাধানে মন্ত্রী চুপিসারে বের হয়ে পড়ছেন মন্ত্রী।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

উত্তরা ও কেরানীগঞ্জ বিআরটিএ অফিসে হানা মন্ত্রীর

আপডেট টাইম : ০৩:১৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মে ২০১৬

ফারুক আহমেদ সুজন : দালালদের খুঁজতে মন্ত্রণালয় ছেড়ে সরকারি অফিসে ছুটছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার ভয়ে পালাচ্ছেন দালালরা। হাতে-নাতে মন্ত্রী পাকড়াও করছেন অনেককে।

উত্তরা বিআরটিএ অফিস থেকে ধরেছেন এক দালাল হোতাকে। এরপর কেরানীগঞ্জে বিআরটিএ অফিসে হানা দেওয়ার আগেই পালিয়েছে দালাল চক্র। দালাল ধরতে মন্ত্রীর এই দৌঁড় চলছে বিআরটিএর এক অফিস থেকে আরেক অফিসে।

শুধু দালালই নয়, তাদের সহযোগী বিআরটিএ কর্মকর্তা খুঁজতে এরকম আচমকা চুপিসারে অভিযানে বের হচ্ছেন মন্ত্রী। ফেসবুক ও টেলিফোনে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভিযোগে এসব তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি।

বুধবার (১১ মে) সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রী যখন হঠাৎ হাজির বিআরটিএ-র উত্তরা অফিসে। তখন দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায় দালালদের। কিন্তু দৌঁড় দেওয়ার আগেই লিটন নামের একজন ধরা পড়েন। ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে আসা সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে তিনি টাকা আদায় করতেন। নিজের পরিচয় দিতেন বিআরটিএ’র ‘ডিডি’ হিসেবে।

দীর্ঘদিন থেকে তাকে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন ম্যজিস্ট্রেটরা। অবশেষে মন্ত্রীর সামনে তাকে ধরে দেয় জনতা। তার পকেট থেকে এক হাজার ও পাঁচশো টাকার দুই বান্ডিল নোট জব্ধ করা হয়।

পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিআরটিএ‘র আরও দালাল চক্রের সন্ধান পান ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানের সময় মন্ত্রী বিআরটিএ’র প্রতিটি তলার কক্ষে কক্ষে ঢুকে তল্লাশি চালান। এমনকি অফিসের বাথরুমেও মন্ত্রী খুঁজে দেখেন কেউ লুকিয়ে আছে কি না।

মন্ত্রী এ সময় বিআরটিএ‘র বিভিন্ন কর্মকর্তার টেবিলের সামনে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের অনেককে চূড়ান্তভাবে হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।

মন্ত্রীর এমন অভিযানে লাইসেন্স করতে আসা ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরে মন্ত্রী চলে যান কেরানীগঞ্জে বিআরটিএ’র আরেকটি অফিসে। সেখানে অফিসের গেট বন্ধ রেখে তল্লাশি চালান মন্ত্রী। আগতদের কাছ থেকে দালালদের সম্পর্কে তথ্য চান তিনি।

তবে ওবায়দুল কাদের বুঝতে পারেন টের পেয়ে পালিয়েছে দালাল চক্র। জনমানুষের ভোগান্তি ঠেকাতে এরকম আচমকা অভিযান অব্যাহত রাখতে চান তিনি।

শুধু বিআরটিএ নয় বিআরটিসি সহ তার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সরকারি অফিস, যানবাহনে অভিযান করছেন নিয়মিত। প্রকৃত চিত্র খুঁজে বের করে কাউকে না জানিয়েই অভিযানে যাচ্ছেন সেতুমন্ত্রী।

উত্তরা বিআরটিএর অফিস থেকে মন্ত্রী যখন ক্ষিলক্ষেত হয়ে মতিঝিলের দিকে যাচ্ছেন। তখন একটি বিআরটিসি বাস দেখে থেমে গেলেন। নিজের গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে তিনি উঠে গেলেন যাত্রীবাহী বিআরটিসির ওই বাসে। বাসের আসন, পাখা, সিট ঠিক আছে কি না তা দেখলেন। যাত্রীদের কাছে কোন অভিযোগ আছে কি না তাও জানতে চাইলেন।

হঠাৎ যাত্রী বেশে গাড়িতে মন্ত্রীর এমন আগমন দেখে হচকিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। কেউ কেউ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন। আবার সিটে বসে থাকা অনেক যাত্রীর বিশ্বাসই হচ্ছিলো না মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গাড়িতে উঠে দাঁড়িয়ে আছেন।

মন্ত্রী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বললেন অনেক যাত্রীর সঙ্গে। এ সময় বিস্মিত যাত্রীদের অনেকেই মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধরে রাখছিলেন মন্ত্রীর আগন্তুক আগমন। আরেকজন তরুণী যাত্রী মন্ত্রীর এমন দৃশ্যকে সেলফিবন্দি করেও রাখছেন এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

রাস্তায় মন্ত্রীর এমন ছুটোছুটি ইদানিং প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ অসন্তোষ নিজ চোখে দেখতে এবং তড়িৎ সমাধানে মন্ত্রী চুপিসারে বের হয়ে পড়ছেন মন্ত্রী।