অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

রিশা হত্যায় ওবায়দুলের বোন-দুলাভাই আটক

দিনাজপুর : রাজধানী ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার ঘাতক ওবায়দুলের বোন মোছা. খাদিজা বেগম (৪০) এবং দুলাভাই মো. খাদেমুল ইসলামকে (৪৬)আটক করেছে পুলিশ। এ সময় খাদেমুল ইসলামের মা খতেজা বেগমকে (৭৫)আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

তবে অল্পের জন্য পুলিশের হাতছাড়া হয়েছে ঘাতক ওবায়দুল। সোমবার দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় লাটের হাট বাজারে তাকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘাতক ওবায়দুলের নিজ বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে অভিযান চালায় রমনা থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন। অভিযানের পর বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছে পরিবারের অপর সদস্যরা।

ওবায়দুলের বোন মোছা. খাজিদা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় আমাদের বাড়িতে আসে ওবায়দুল। সকালে আমাদের সঙ্গে নাস্তা করে। বিশ্রাম নিয়ে দুপুরে গোসল করে বাড়ি হতে বেড়িয়ে যায়। তারপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সে স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেছে এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছে আমাদের কারো কাছে জানায়নি।

প্রতিবেশী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তার দেখা হয়। তার সঙ্গে তেমন কোনো কথা হয়নি। তবে রোববার বিকেল পর্যন্ত আমি তাকে দেখেছি। তখন পর্যন্ত জানি না সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ বাচ্চু মিয়া জানান, ওবায়দুলের বাবা মোঃ আব্দুস সামাদ। পেশায় তিনি বিভিন্ন শস্যের পাইকার ছিলেন। প্রথম স্ত্রী বুধিরন ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে মারা যাওয়ার পর মোছাঃ চন্দনী বেগমকে বিয়ে করেন। চন্দনী কোল জুড়ে আসে ১ ছেলে এবং ৪ মেয়ে। একমাত্র ছেলে ওবায়দুল যখন চকদফর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র তখন তার মা চন্দনী বেগম মারা যান। এরপর পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বাবা আব্দুস সামাদ পাইকার তাকে ঠাকুরগাঁও ম্যাজিক কার্ট টেইলার্সে রেখে আসেন। অভাবের সংসারের কথা শুনে শিশু ওবায়দুলকে টেইর্লাসে কাজের সুযোগ দেন টেইলার্সের মালিক গৌরাঙ্গ। এরপর তিনি আব্দুস সামাদ বিয়ে করেন আখেলিমা নামে স্বামী পরিতাক্ত্য এক মহিলাকে। আনুমানিক ৫ বছর আগে মারা যান আব্দুস সামাদ পাইকার।

বাবার মৃত্যুর পরও ওবায়দুল প্রায় এখানে আসতেন। প্রতিটি ঈদ সে এখানে পালন করেছেন। তাকে সর্বশেষ গত সোমবার দুপুরে লাটের হাট বাজারে দেখা গেছে। তখন পর্যন্ত বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জানান পর আমরা হতবাক হয়েছি।

মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মজিদুল ইসলাম মাস্টার জানান, এই ছেলে একটি মেয়েকে শুধু হত্যা করেনি। আমাদের কলঙ্কিত করেছি। আমরা এই এলাকার মানুষ লজ্জিত এবং শোকাহত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। ইতিমধ্যে এলাকার মানুষ তাকে আটক করতে সকল প্রকার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

বীরগঞ্জ থানার ওসি আবু আককাছ আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় রমনা থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘাতক মোঃ ওবায়দুল খান (২৯)এর নিজ বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে অভিযান চালায়। সেখান থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বোন ও দুলাভাইকে আটক করা হয়।

কাকরাইলে বুধবার বখাটে যুবক ওবায়দুলের ছুরিকাঘাতে আহত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রিশার মা বুধবারই ওবায়দুলকে আসামি করে রমনা থানায় একটি মামলা করেছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

রিশা হত্যায় ওবায়দুলের বোন-দুলাভাই আটক

আপডেট টাইম : ০৪:০৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০১৬

দিনাজপুর : রাজধানী ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার ঘাতক ওবায়দুলের বোন মোছা. খাদিজা বেগম (৪০) এবং দুলাভাই মো. খাদেমুল ইসলামকে (৪৬)আটক করেছে পুলিশ। এ সময় খাদেমুল ইসলামের মা খতেজা বেগমকে (৭৫)আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

তবে অল্পের জন্য পুলিশের হাতছাড়া হয়েছে ঘাতক ওবায়দুল। সোমবার দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় লাটের হাট বাজারে তাকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘাতক ওবায়দুলের নিজ বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে অভিযান চালায় রমনা থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন। অভিযানের পর বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছে পরিবারের অপর সদস্যরা।

ওবায়দুলের বোন মোছা. খাজিদা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় আমাদের বাড়িতে আসে ওবায়দুল। সকালে আমাদের সঙ্গে নাস্তা করে। বিশ্রাম নিয়ে দুপুরে গোসল করে বাড়ি হতে বেড়িয়ে যায়। তারপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সে স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেছে এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছে আমাদের কারো কাছে জানায়নি।

প্রতিবেশী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তার দেখা হয়। তার সঙ্গে তেমন কোনো কথা হয়নি। তবে রোববার বিকেল পর্যন্ত আমি তাকে দেখেছি। তখন পর্যন্ত জানি না সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ বাচ্চু মিয়া জানান, ওবায়দুলের বাবা মোঃ আব্দুস সামাদ। পেশায় তিনি বিভিন্ন শস্যের পাইকার ছিলেন। প্রথম স্ত্রী বুধিরন ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে মারা যাওয়ার পর মোছাঃ চন্দনী বেগমকে বিয়ে করেন। চন্দনী কোল জুড়ে আসে ১ ছেলে এবং ৪ মেয়ে। একমাত্র ছেলে ওবায়দুল যখন চকদফর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র তখন তার মা চন্দনী বেগম মারা যান। এরপর পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বাবা আব্দুস সামাদ পাইকার তাকে ঠাকুরগাঁও ম্যাজিক কার্ট টেইলার্সে রেখে আসেন। অভাবের সংসারের কথা শুনে শিশু ওবায়দুলকে টেইর্লাসে কাজের সুযোগ দেন টেইলার্সের মালিক গৌরাঙ্গ। এরপর তিনি আব্দুস সামাদ বিয়ে করেন আখেলিমা নামে স্বামী পরিতাক্ত্য এক মহিলাকে। আনুমানিক ৫ বছর আগে মারা যান আব্দুস সামাদ পাইকার।

বাবার মৃত্যুর পরও ওবায়দুল প্রায় এখানে আসতেন। প্রতিটি ঈদ সে এখানে পালন করেছেন। তাকে সর্বশেষ গত সোমবার দুপুরে লাটের হাট বাজারে দেখা গেছে। তখন পর্যন্ত বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জানান পর আমরা হতবাক হয়েছি।

মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মজিদুল ইসলাম মাস্টার জানান, এই ছেলে একটি মেয়েকে শুধু হত্যা করেনি। আমাদের কলঙ্কিত করেছি। আমরা এই এলাকার মানুষ লজ্জিত এবং শোকাহত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। ইতিমধ্যে এলাকার মানুষ তাকে আটক করতে সকল প্রকার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

বীরগঞ্জ থানার ওসি আবু আককাছ আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় রমনা থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘাতক মোঃ ওবায়দুল খান (২৯)এর নিজ বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে অভিযান চালায়। সেখান থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বোন ও দুলাভাইকে আটক করা হয়।

কাকরাইলে বুধবার বখাটে যুবক ওবায়দুলের ছুরিকাঘাতে আহত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রিশার মা বুধবারই ওবায়দুলকে আসামি করে রমনা থানায় একটি মামলা করেছেন।