পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

শিশুপুত্র হত্যার দায়ে বাবা ও মা’য়ের ফাঁসি

ডেস্ক : নাটোরে শিশুপুত্র ইয়াসিন আরাফাত ইমনকে হত্যার দায়ে বাবা এমদাদুল হক মিলন ও সৎ মা নাহিদা বেগমকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার দুপুরে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল করিম এই আদেশ দেন। রায়ে বিচারক গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করার আদেশ দেন।

এমদাদুল হক মিলন বড়াইগ্রাম উপজেলার কামারদহ গ্রামের মৃত আছির উদ্দিনের ছেলে। দন্ডপ্রাপ্ত নাহিদা বেগম পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ইমনের মা কুলসুমা বেগমকে ভরণ-পোষণ না দেয়ায় ছেলেকে স্বামীর বাড়িতে রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাশের শ্রীখ- গ্রামে বাবার বাড়িতেই থাকতেন। ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় এমদাদুল হক মিলনের প্রথম স্ত্রী কুলসুমা বেগমের ছেলে কামারদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ইমন খেলার সময় তিনটি গ্যাস বেলুন নষ্ট করে ফেলে। এই ঘটনায় তার সৎ মা নাহিদা বেগম ও তার বাবা এমদাদুল হক মিলন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিহতের সৎ মা ও বাবা বৈদ্যুতিক শক লেগে ইমন মারা গেছে বলে এলাকায় প্রচার করতে থাকেন। কিন্তু নিহতের শরীরের কোথাও বৈদ্যুতিক শক লাগার কোন চিহ্ন না পাওয়ায় এলাকাবাসীদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ নিহতের গলায় কালো দাগ থাকায় সৎ মা ও বাবাকে আটক করে। এসময় জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা কুলসুমা বেগম বড়াইগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

কুলসুমা বেগম জানান, ২০০৭ সালে মিলনের সাথে তার বিয়ে হওয়ার পর জানতে পারেন তার স্বামী একটি হত্যা মামলার আসামি। চাচা আকবর হোসেন হত্যার সাথে তার স্বামী জড়িত এবং রাতে সড়কে ডাকাতি করে। স্বামীকে সুপথে ফেরানোর জন্য বাবার বাড়ি থেকে দু’দফায় সাড়ে তিন লাখ টাকা এনে স্বামীর হাতে দেন। আমার নামে জমি কেনার জন্য বলা হলেও সঠিক দলিল না করে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে মারপিটসহ নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৩ ছেলে ইমনকে বাবার কাছে রেখে তিনি বাপের বাড়ি চলে যান। বাবার বাড়িতে থাকার সময় ইমন মাঝে-মধ্যে গিয়ে তার বাবা ও সৎ মায়ের নির্যাতনের কথা জানাত। ঘটনার দিন রাতে লোকমুখে ইমনের মৃত্যুর খবর জানতে পারি। ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় হওয়ায় তিনি খুশি।

নাটোর জজ র্কোটের পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মামলাটির দীর্ঘ শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল করিম এই দুই জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- দেয়ার আদেশ দেন।

এই মামলায় রাষ্টপক্ষে তিনি নিজে ও আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

শিশুপুত্র হত্যার দায়ে বাবা ও মা’য়ের ফাঁসি

আপডেট টাইম : ০২:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৬

ডেস্ক : নাটোরে শিশুপুত্র ইয়াসিন আরাফাত ইমনকে হত্যার দায়ে বাবা এমদাদুল হক মিলন ও সৎ মা নাহিদা বেগমকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার দুপুরে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল করিম এই আদেশ দেন। রায়ে বিচারক গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করার আদেশ দেন।

এমদাদুল হক মিলন বড়াইগ্রাম উপজেলার কামারদহ গ্রামের মৃত আছির উদ্দিনের ছেলে। দন্ডপ্রাপ্ত নাহিদা বেগম পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ইমনের মা কুলসুমা বেগমকে ভরণ-পোষণ না দেয়ায় ছেলেকে স্বামীর বাড়িতে রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাশের শ্রীখ- গ্রামে বাবার বাড়িতেই থাকতেন। ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় এমদাদুল হক মিলনের প্রথম স্ত্রী কুলসুমা বেগমের ছেলে কামারদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ইমন খেলার সময় তিনটি গ্যাস বেলুন নষ্ট করে ফেলে। এই ঘটনায় তার সৎ মা নাহিদা বেগম ও তার বাবা এমদাদুল হক মিলন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিহতের সৎ মা ও বাবা বৈদ্যুতিক শক লেগে ইমন মারা গেছে বলে এলাকায় প্রচার করতে থাকেন। কিন্তু নিহতের শরীরের কোথাও বৈদ্যুতিক শক লাগার কোন চিহ্ন না পাওয়ায় এলাকাবাসীদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ নিহতের গলায় কালো দাগ থাকায় সৎ মা ও বাবাকে আটক করে। এসময় জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা কুলসুমা বেগম বড়াইগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

কুলসুমা বেগম জানান, ২০০৭ সালে মিলনের সাথে তার বিয়ে হওয়ার পর জানতে পারেন তার স্বামী একটি হত্যা মামলার আসামি। চাচা আকবর হোসেন হত্যার সাথে তার স্বামী জড়িত এবং রাতে সড়কে ডাকাতি করে। স্বামীকে সুপথে ফেরানোর জন্য বাবার বাড়ি থেকে দু’দফায় সাড়ে তিন লাখ টাকা এনে স্বামীর হাতে দেন। আমার নামে জমি কেনার জন্য বলা হলেও সঠিক দলিল না করে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে মারপিটসহ নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৩ ছেলে ইমনকে বাবার কাছে রেখে তিনি বাপের বাড়ি চলে যান। বাবার বাড়িতে থাকার সময় ইমন মাঝে-মধ্যে গিয়ে তার বাবা ও সৎ মায়ের নির্যাতনের কথা জানাত। ঘটনার দিন রাতে লোকমুখে ইমনের মৃত্যুর খবর জানতে পারি। ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় হওয়ায় তিনি খুশি।

নাটোর জজ র্কোটের পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মামলাটির দীর্ঘ শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল করিম এই দুই জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- দেয়ার আদেশ দেন।

এই মামলায় রাষ্টপক্ষে তিনি নিজে ও আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন।