অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের

বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের জন্য এবং এখানে যার ধর্ম সে স্বাধীনভাবে সম্মানের সঙ্গে পালন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর লালবাগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উতসব পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে ঢাকেশ্বরীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপরই তিনি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করে। পরে মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমসহ ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতারা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ধর্ম-বর্ণের মানুষ এক হয়ে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছে। সকলের রক্ত, লাখো শহীদের রক্ত একাকার হয়ে মিশে গেছে। মুসলিম-হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সকল ধর্মের মানুষ মিলে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছে।তিনি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা স্মরণ করে বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল সকল ধর্মের মানুষ তার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। সকলে মিলেমিশে এ দেশে বাস করবে। বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ ও দারিদ্র্যমুক্ত। “এ ল্য নিয়েই আওয়ামী লীগ কাজ করে। সেজন্য আওয়ামী লীগ মতায় এলে দেশ উন্নত হয়। কারণ আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখি। জনগণের কল্যাণে কাজ করি।” প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি, নিয়ে যাচ্ছি, আগামীতেও নিয়ে যাবো। কারণ জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না। ধর্মের নাম নিয়ে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, সৌহার্দ্যের ধর্ম, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। ইসলামে জঙ্গিবাদের জায়গা নেই। যারা এসব করে তারা ধর্মবিরোধী কাজ করে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখানে যার যার ধর্ম সে সে স্বাধীনভাবে পালন করবে। এই পরিবেশটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। ধর্ম যার যার, উতসব সবার। সকলের তরে সকলে আমরা, আমরা মানবের তরে। আসুন সবাই মিলে একসঙ্গে দেশকে গড়ে তুলি। এভাবেই আমরা দেশকে পরিচালিত করছি।“আমরা সংঘাত চাই না। শান্তি চাই, সম্প্রীতি চাই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উন্নতি চাই। সে ল্য নিয়েই আমাদের পথচলা।” পবিত্র কোরআনের সুরা কাফিরুনের একটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামে বলা আছে যার যার ধর্ম তার তার কাছে। সকল ধর্মের মূলেই মানবতা আর মানবকল্যাণের কথা বলা আছে। “এটা সবাইকে মেনে চলতে হবে যে, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের জন্য। এখানে যার যার ধর্ম সে স্বাধীনভাবে সম্মানের সঙ্গে পালন করবে।” ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে চলে যান। সেখানেও তিনি প্রথমে পূজা উতসব পরিদর্শন করেন। এরপর যোগ দেন আয়োজিত শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে। এতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিন থেকে এ দেশের প্রতিটি ধর্মের প্রতিটি উতসব সবাই উদযাপন করবে। ধর্ম যার যার, উতসব আমাদের সবার।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের

আপডেট টাইম : ০৪:২১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অক্টোবর ২০১৬

বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের জন্য এবং এখানে যার ধর্ম সে স্বাধীনভাবে সম্মানের সঙ্গে পালন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর লালবাগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উতসব পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে ঢাকেশ্বরীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপরই তিনি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করে। পরে মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমসহ ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতারা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ধর্ম-বর্ণের মানুষ এক হয়ে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছে। সকলের রক্ত, লাখো শহীদের রক্ত একাকার হয়ে মিশে গেছে। মুসলিম-হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সকল ধর্মের মানুষ মিলে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছে।তিনি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা স্মরণ করে বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল সকল ধর্মের মানুষ তার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। সকলে মিলেমিশে এ দেশে বাস করবে। বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ ও দারিদ্র্যমুক্ত। “এ ল্য নিয়েই আওয়ামী লীগ কাজ করে। সেজন্য আওয়ামী লীগ মতায় এলে দেশ উন্নত হয়। কারণ আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখি। জনগণের কল্যাণে কাজ করি।” প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি, নিয়ে যাচ্ছি, আগামীতেও নিয়ে যাবো। কারণ জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না। ধর্মের নাম নিয়ে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, সৌহার্দ্যের ধর্ম, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। ইসলামে জঙ্গিবাদের জায়গা নেই। যারা এসব করে তারা ধর্মবিরোধী কাজ করে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখানে যার যার ধর্ম সে সে স্বাধীনভাবে পালন করবে। এই পরিবেশটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। ধর্ম যার যার, উতসব সবার। সকলের তরে সকলে আমরা, আমরা মানবের তরে। আসুন সবাই মিলে একসঙ্গে দেশকে গড়ে তুলি। এভাবেই আমরা দেশকে পরিচালিত করছি।“আমরা সংঘাত চাই না। শান্তি চাই, সম্প্রীতি চাই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উন্নতি চাই। সে ল্য নিয়েই আমাদের পথচলা।” পবিত্র কোরআনের সুরা কাফিরুনের একটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামে বলা আছে যার যার ধর্ম তার তার কাছে। সকল ধর্মের মূলেই মানবতা আর মানবকল্যাণের কথা বলা আছে। “এটা সবাইকে মেনে চলতে হবে যে, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের জন্য। এখানে যার যার ধর্ম সে স্বাধীনভাবে সম্মানের সঙ্গে পালন করবে।” ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে চলে যান। সেখানেও তিনি প্রথমে পূজা উতসব পরিদর্শন করেন। এরপর যোগ দেন আয়োজিত শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে। এতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিন থেকে এ দেশের প্রতিটি ধর্মের প্রতিটি উতসব সবাই উদযাপন করবে। ধর্ম যার যার, উতসব আমাদের সবার।