
বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে ভীষণ আনন্দে হাঁটছিলেন ফারহিন ফরহাদ রিয়া। এসেছিলেন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টকার্ড নিতে। কার্ডটি হাতে পাওয়ার পরে তার চোখে-মুখে খেলে গেলো খুশির ঝলক। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া এ শিার্থী বলেন, স্মার্টকার্ড তো বেশ স্মার্টই হয়েছে। রঙটাও হালকা গ্রিন। এ যেনো বাংলাদেশের গ্রিনকার্ড। তবে ছবিটা সাদাকালো না হয়ে রঙিন হলে আরও ভালো হতো, মন্তব্য তার। রিয়ার বাবা ফরহাদ আহমেদ ব্যবসায়ী। তিনিও স্মার্টকার্ড পেয়ে বেশ খুশি। বলেন, এটা একটা ভালো কাজ হলো। এখন সহজেই সেবা পাওয়া যাবে। একই এলাকার ভোটার জাহিদ জীবন তো একে গ্রিনকার্ডই বললেন। তার যুক্তি, স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে, নাগরিক সুবিধা পেতে যেমন গ্রিনকার্ড দরকার হয়, তেমন আমাদের জন্যও তো এটা দরকার। সেবা পেতে এখন থেকে এই কার্ড দরকার হবে, আবার বাংলাদেশি নাগরিকত্বের প্রমাণও দেবে এই কার্ড। এটাই তো বাংলাদেশের গ্রিনকার্ড। কেননা, স্মার্টকার্ড ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো সেবা পাওয়া যাবে না। মহিউদ্দীন শিকদার এখন যাত্রবাড়ীতে নিজের বাসায় থাকেন। তবে ২০০৮ সালে ভোটার হয়েছিলেন বেইলী রোডে। তাই এখন স্মার্টকার্ড নিতে এসেছেন। তিনি বলেন, স্মার্টকার্ড না বলে এটাকে গ্রিনকার্ডই বলা উচিত। এর রঙটাও সবুজ। এটা না থাকার অর্থ নাগরিকত্বের প্রমাণ না থাকা। এটা দিয়ে পাওয়া যাবে সরকারি-বেসরকারি সেবা। গত ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরদিন (৩ অক্টোবর) থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উত্তরা এবং ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) রমনা থানায় কার্ড বিতরণ করছে ইসি। ডিএনসিসি’তে উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে এবং ডিএসসিসিতে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে কার্ড বিতরণ ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতেও স্মার্টকার্ড বিতরণ করছে ইসি। বর্তমানে চলছে পাইলটিং। এরপর বড় পরিসরে ঢাকার সব এলাকায় ও ফুলবাড়ির পুরো উপজেলায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। স্মার্টকার্ড বিতরণের ষষ্ঠ দিন শনিবারও (০৮ অক্টোবর) অনেকে কার্ড না পেয়ে ফিরে গেছেন। যাদের নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রেখেছে ইসি নিয়োজিত অপারেটররা। পরবর্তীতে তাদের কার্ড প্রস্তুত হলে স্থায়ী ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ্ উদ্দিন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বে ২০১১ সালে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি প্রকল্প হাতে নেয় নির্বাচন কমিশন। যার নাম ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর অ্যানহেন্সিং এক্সেস টু সার্ভিস বা আইডিইএ। ১০ বছর মেয়াদী স্মার্টকার্ড তৈরি করতে দুই ডলার ব্যয় হয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে ফের নির্দিষ্ট টাকা পরিশোধ করে নবায়ন করতে হবে। মোট ১০ সংখ্যার স্মার্টকার্ডের সামনের অংশে ব্যক্তির নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ, ছবি, এনআইডি নম্বর ও স্বার দেওয়া আছে। উপরের বাম পাশে রয়েছে বাংলাদেশের মনোগ্রাম, ডান পাশে ছবি ও তার উপরে জন্ম তারিখ। আছে জাতীয় পতাকার জলছাপ। আর পেছনে বর্তমান ঠিকানা, জন্মস্থান, শাপলা, ছবি ও ছবির উপরে জন্মতারিখ।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















