অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

‘আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি’

প্রতিবেদক ।।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেনছেন, পঁচাত্তরের পর অবৈধভাবে মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতা দখল শুরু হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে যায়। আমরা জনগণের সমর্থনে সকল ষড়যন্ত্রকে পিছু ফেলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি।

শনিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে যাচ্ছিল তখনই সেই ভয়াবহ হামলা হয়। ওই দিন আমার পরিবারের ১৮ সদস্য নিহত হয়েছে। এভাবে বেঁচে থাকা যে কী কষ্টের তা যাদের স্বজন হারিয়েছে শুধু তারাই বুঝতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ধরে রেখেছে এর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরাই দলের প্রাণ।

তিনি বলেন, আমি গণমানুষের সমর্থনে বাংলাদেশে ফিরে আসি। যার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ করেছিল। অবর্তমানে সভাপতি বানিয়েছিল আমাকে। এ জন্য আমি আওয়ামী লীগের কাছে কৃতজ্ঞ; তারাই বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ভারতের সকল রাজনৈতিক দল, নেপাল, ভূটান, রাশিয়াসহ পৃথিবীর প্রতিটি জনগন স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশকে সমর্থন জানায়। সবার প্রতি রইল আমার কৃতজ্ঞতা। শত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে এদেশের মানুষের মুক্তি এনে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগই বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এই অর্জন এনেছে। এই ঐতিহ্যবাহী দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে নেমে এল অন্ধকার। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ১৪ দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা দেশ চালাচ্ছি। ২০০৮ সালে দেশের মানুষ আমাদের ভোট দেয়; ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পরে দেশ ক্ষ‍ুধামুক্ত-দারিদ্রমুক্ত করেছি। আজকের বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ’৯৬ সালে আমাদের নেওয়া সব কর্মসূচি বিএনপি বন্ধ করে দেয়। আবার শুরু করি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা আওয়ামী কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সংসদ সদস্য, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডের সব নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান আপনারা নিজ নিজ এলাকায় কতজন দরিদ্র, গৃহহারা, ঘর নেই, বাড়ি নেই, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী- তাদের তালিকা পাঠান। আমাদের দায়িত্ব তাদের উন্নয়ন, আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন; তাদের উন্নয়ন হবে। দেশে কোনো দরিদ্র্য মানুষ থাকবে না।

দরিদ্র মানুষের তালিকা তৈরি করতে এলাকার নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজ নিজ এলাকায় কতজন দরিদ্র, গৃহহারা, ঘর হারা, নিঃস্ব, হতদরিদ্র, বয়োবৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, তালিকা তৈরি করুন। আমরা বিনা পয়সায় ঘর তৈরি করে দেব।

অাওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনের প্রথব পর্ব শেষ হয়। মধ্যাহ্ন ভোজনের বিরতি শেষে বিকেল সাড়ে তিনটায় ফের শুরু হবে সম্মেলনের কার্যক্রম।

এর আগে কাল ১০টার দিকে এ সম্মেলন শুরু হয়। জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। বিদেশি অতিথিরাও বক্তব্য দেন।

ঐতিহ্যবাহী দলটির সম্মেলনকে ঘিরে আজ কয়েক দিন ধরেই এই উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীজুড়ে। নগরের বিভিন্ন জায়গায় রংবেরঙের ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। অনেক জায়গায় তৈরি করা হয়েছে ব্যানার। এ সম্মেলন উপলক্ষে পুরো নগরীতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

সম্মেলন উপলক্ষে কানায় কানায় পরিপূর্ণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পদচারণায় এখন মুখরিত।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

“বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির

‘আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি’

আপডেট টাইম : ১২:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৬

প্রতিবেদক ।।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেনছেন, পঁচাত্তরের পর অবৈধভাবে মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতা দখল শুরু হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে যায়। আমরা জনগণের সমর্থনে সকল ষড়যন্ত্রকে পিছু ফেলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি।

শনিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে যাচ্ছিল তখনই সেই ভয়াবহ হামলা হয়। ওই দিন আমার পরিবারের ১৮ সদস্য নিহত হয়েছে। এভাবে বেঁচে থাকা যে কী কষ্টের তা যাদের স্বজন হারিয়েছে শুধু তারাই বুঝতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ধরে রেখেছে এর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরাই দলের প্রাণ।

তিনি বলেন, আমি গণমানুষের সমর্থনে বাংলাদেশে ফিরে আসি। যার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ করেছিল। অবর্তমানে সভাপতি বানিয়েছিল আমাকে। এ জন্য আমি আওয়ামী লীগের কাছে কৃতজ্ঞ; তারাই বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ভারতের সকল রাজনৈতিক দল, নেপাল, ভূটান, রাশিয়াসহ পৃথিবীর প্রতিটি জনগন স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশকে সমর্থন জানায়। সবার প্রতি রইল আমার কৃতজ্ঞতা। শত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে এদেশের মানুষের মুক্তি এনে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগই বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এই অর্জন এনেছে। এই ঐতিহ্যবাহী দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে নেমে এল অন্ধকার। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ১৪ দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা দেশ চালাচ্ছি। ২০০৮ সালে দেশের মানুষ আমাদের ভোট দেয়; ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পরে দেশ ক্ষ‍ুধামুক্ত-দারিদ্রমুক্ত করেছি। আজকের বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ’৯৬ সালে আমাদের নেওয়া সব কর্মসূচি বিএনপি বন্ধ করে দেয়। আবার শুরু করি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা আওয়ামী কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সংসদ সদস্য, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডের সব নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান আপনারা নিজ নিজ এলাকায় কতজন দরিদ্র, গৃহহারা, ঘর নেই, বাড়ি নেই, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী- তাদের তালিকা পাঠান। আমাদের দায়িত্ব তাদের উন্নয়ন, আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন; তাদের উন্নয়ন হবে। দেশে কোনো দরিদ্র্য মানুষ থাকবে না।

দরিদ্র মানুষের তালিকা তৈরি করতে এলাকার নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজ নিজ এলাকায় কতজন দরিদ্র, গৃহহারা, ঘর হারা, নিঃস্ব, হতদরিদ্র, বয়োবৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, তালিকা তৈরি করুন। আমরা বিনা পয়সায় ঘর তৈরি করে দেব।

অাওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনের প্রথব পর্ব শেষ হয়। মধ্যাহ্ন ভোজনের বিরতি শেষে বিকেল সাড়ে তিনটায় ফের শুরু হবে সম্মেলনের কার্যক্রম।

এর আগে কাল ১০টার দিকে এ সম্মেলন শুরু হয়। জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। বিদেশি অতিথিরাও বক্তব্য দেন।

ঐতিহ্যবাহী দলটির সম্মেলনকে ঘিরে আজ কয়েক দিন ধরেই এই উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীজুড়ে। নগরের বিভিন্ন জায়গায় রংবেরঙের ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। অনেক জায়গায় তৈরি করা হয়েছে ব্যানার। এ সম্মেলন উপলক্ষে পুরো নগরীতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

সম্মেলন উপলক্ষে কানায় কানায় পরিপূর্ণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পদচারণায় এখন মুখরিত।