অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বাকশিল্পাচার্য নরেন বিশ্বাস জয়ন্তী উদ্যাপন করলো কণ্ঠশীলন

গতকাল ১৬ই নভেম্বর ২০১৫ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ঢাকায় সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান কণ্ঠশীলন প্রশিক্ষক বাক্শিল্পাচার্য অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস-এর জন্ম দিবসে নরেন বিশ্বাস জয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বাকশিল্পাচার্য নরেন বিশ্বাসের স্বকণ্ঠে ধারণকৃত আবৃত্তি দিয়ে অনুষ্ঠানের আরম্ভ হয়। এরপর নরেন বিশ্বাসের জীবনী পাঠ করেন শিরিন ইসলাম। নরেন বিশ্বাসকে নিবেদন করে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নীলোৎপল সাধ্য। নরেন বিশ্বাসের প্রতিকৃতিতে আবৃত্তি ও নাট্য সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত থেকে অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ম. হামিদ। তিনি বলেন বলেন, অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের আজীবন বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করার যে পরিক্রমা তা বর্ণনা করেন।

বাংলা ভাষার প্রমিত উচ্চারিত রূপের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ, নিরলস কর্ম পরিচালনা, সকলকিছু ভুলে গিয়ে শুধু ভাষা নিয়েই তাঁর নিবিড় গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, প্রতি শুক্রবারের কণ্ঠশীলনের ক্লাস, বিভিন্ন আবৃত্তি ও নাটকের দলের ক্লাস-এ তার কোনো বিরতি ছিলো না। একসময় তিনি চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেন। প্রায় অন্ধ চোখে অন্যের হাত ধ’রে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলে যেতেন-উচ্চারণের ক্লাস নিতে।

দেশে আর কোন উচ্চারণ বিশারদ ছিল না? কাঠ-কাঠ ক্লাসটিকে মধুর করে শিক্ষার্থীর হৃদয় পর্যন্ত নেয়ার কাজটি হয়ত অনেকে করতে পারতেন না। সেটি পারতেন কেবল নরেন বিশ্বাস। তাঁর ক্লাশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা এবং আনন্দ দুটোই গ্রহণ করতেন। এত সহজ-সরল-নির্মল নির্মাণের উচ্চারণ বিধান মুখে মুখে ফোটাতে আর কে পারে? এই বুদ্ধির জগতে সকলে যখন ইমারত-লালসায় উন্মুখ তখন কথা বলতে যেয়ে কার উচ্চারণের কী হল তার খবর কে রাখে? আর সেই সূত্রাবলীর পর্বত-অক্ষর জ্ঞানই বা অর্জনের কী মানে- যদি অন্য সবকিছু দিয়ে এই ভুল ঢেকে দেয়া যায়।

সব প্রশ্ন উল্টোবাণে নিস্তব্ধ নিথর হয়ে পড়ে যখন নরেন বিশ্বাস তাঁর ঐশ্বর্যময় স্বরের দ্বার খুলতে আরম্ভ করতেন এক এক করে। এই বিস্ময়কর সৃষ্টির ফল এই সমাজ এখন বহন করছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাষ্ট্রিক সুরুচি প্রকাশের মাধ্যম এই ভাষাটির প্রকাশ আজ আন্তরিক হয়েছে এবং প্রেমময়- যাঁদের কারণে, তাঁদেরই অন্যতম প্রধান অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস।

আরও আলোচনা করেন কণ্ঠশীলন সভাপতি, প্রশিক্ষক, নির্দেশক, আবৃত্তিশিল্পী গোলাম সারোয়ার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় নরোত্তম হালদার এবং সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন লিটন বারুরী।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রথিতযশা আবৃত্তিশিল্পীরা একক আবৃত্তি করেন। আবৃত্তিশিল্পীরা হলেন কাজী মদিনা, আশরাফুল আলম, রূপা চক্রবর্তী, বেলায়েত হোসেন, হাসান আরিফ, আহ্কাম উল্লাহ, রফিকুল ইসলাম, রেজীনা ওয়ালী লীনা, মাসকুর এ সাত্তার কল্লোল, ইকবাল খোরশেদ, পারভেজ চৌধুরী, ফকরুল ইসলাম তারা, ড. শাহাদাত হোসেন নিপু, ফয়জুল আলম পাপ্পু, নায়লা তারান্নুম কাকলী, ফয়জুল্লাহ সাইদ, এনামুল হক বাবু, তামান্না তিথি, আহসান উল্লাহ তমাল, শামসুদ্দোহা, মজুমদার বিপ্লব, জি এম মোর্শেদ, সুপ্রভা সেবতী, মোস্তফা কামাল, বিলকিস আহমদ, নাদিমুল ইসলাম, ইলা রহমান ও কবি এ এফ আকরাম হোসেন।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বাকশিল্পাচার্য নরেন বিশ্বাস জয়ন্তী উদ্যাপন করলো কণ্ঠশীলন

আপডেট টাইম : ০৩:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৬

গতকাল ১৬ই নভেম্বর ২০১৫ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ঢাকায় সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান কণ্ঠশীলন প্রশিক্ষক বাক্শিল্পাচার্য অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস-এর জন্ম দিবসে নরেন বিশ্বাস জয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বাকশিল্পাচার্য নরেন বিশ্বাসের স্বকণ্ঠে ধারণকৃত আবৃত্তি দিয়ে অনুষ্ঠানের আরম্ভ হয়। এরপর নরেন বিশ্বাসের জীবনী পাঠ করেন শিরিন ইসলাম। নরেন বিশ্বাসকে নিবেদন করে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নীলোৎপল সাধ্য। নরেন বিশ্বাসের প্রতিকৃতিতে আবৃত্তি ও নাট্য সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত থেকে অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ম. হামিদ। তিনি বলেন বলেন, অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের আজীবন বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করার যে পরিক্রমা তা বর্ণনা করেন।

বাংলা ভাষার প্রমিত উচ্চারিত রূপের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ, নিরলস কর্ম পরিচালনা, সকলকিছু ভুলে গিয়ে শুধু ভাষা নিয়েই তাঁর নিবিড় গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, প্রতি শুক্রবারের কণ্ঠশীলনের ক্লাস, বিভিন্ন আবৃত্তি ও নাটকের দলের ক্লাস-এ তার কোনো বিরতি ছিলো না। একসময় তিনি চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেন। প্রায় অন্ধ চোখে অন্যের হাত ধ’রে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলে যেতেন-উচ্চারণের ক্লাস নিতে।

দেশে আর কোন উচ্চারণ বিশারদ ছিল না? কাঠ-কাঠ ক্লাসটিকে মধুর করে শিক্ষার্থীর হৃদয় পর্যন্ত নেয়ার কাজটি হয়ত অনেকে করতে পারতেন না। সেটি পারতেন কেবল নরেন বিশ্বাস। তাঁর ক্লাশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা এবং আনন্দ দুটোই গ্রহণ করতেন। এত সহজ-সরল-নির্মল নির্মাণের উচ্চারণ বিধান মুখে মুখে ফোটাতে আর কে পারে? এই বুদ্ধির জগতে সকলে যখন ইমারত-লালসায় উন্মুখ তখন কথা বলতে যেয়ে কার উচ্চারণের কী হল তার খবর কে রাখে? আর সেই সূত্রাবলীর পর্বত-অক্ষর জ্ঞানই বা অর্জনের কী মানে- যদি অন্য সবকিছু দিয়ে এই ভুল ঢেকে দেয়া যায়।

সব প্রশ্ন উল্টোবাণে নিস্তব্ধ নিথর হয়ে পড়ে যখন নরেন বিশ্বাস তাঁর ঐশ্বর্যময় স্বরের দ্বার খুলতে আরম্ভ করতেন এক এক করে। এই বিস্ময়কর সৃষ্টির ফল এই সমাজ এখন বহন করছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাষ্ট্রিক সুরুচি প্রকাশের মাধ্যম এই ভাষাটির প্রকাশ আজ আন্তরিক হয়েছে এবং প্রেমময়- যাঁদের কারণে, তাঁদেরই অন্যতম প্রধান অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস।

আরও আলোচনা করেন কণ্ঠশীলন সভাপতি, প্রশিক্ষক, নির্দেশক, আবৃত্তিশিল্পী গোলাম সারোয়ার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় নরোত্তম হালদার এবং সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন লিটন বারুরী।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রথিতযশা আবৃত্তিশিল্পীরা একক আবৃত্তি করেন। আবৃত্তিশিল্পীরা হলেন কাজী মদিনা, আশরাফুল আলম, রূপা চক্রবর্তী, বেলায়েত হোসেন, হাসান আরিফ, আহ্কাম উল্লাহ, রফিকুল ইসলাম, রেজীনা ওয়ালী লীনা, মাসকুর এ সাত্তার কল্লোল, ইকবাল খোরশেদ, পারভেজ চৌধুরী, ফকরুল ইসলাম তারা, ড. শাহাদাত হোসেন নিপু, ফয়জুল আলম পাপ্পু, নায়লা তারান্নুম কাকলী, ফয়জুল্লাহ সাইদ, এনামুল হক বাবু, তামান্না তিথি, আহসান উল্লাহ তমাল, শামসুদ্দোহা, মজুমদার বিপ্লব, জি এম মোর্শেদ, সুপ্রভা সেবতী, মোস্তফা কামাল, বিলকিস আহমদ, নাদিমুল ইসলাম, ইলা রহমান ও কবি এ এফ আকরাম হোসেন।