অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

মায়ের আহ্বানেই শিলা আত্মসমর্পণ করে

আত্মসমর্পণের জন্য যখন পুলিশের আহবানে যখন কাজ হচ্ছিল না তখন এগিয়ে আসেন নিহত জঙ্গি মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা মা ও ভাই। তারা শিলাকে আত্মসমর্পণের আহবান জানালে সেটাতে কাজ হয়। মা ও ভাইয়ের আহ্বানের পরই আত্মসমর্পণে রাজি হন নিহত জঙ্গি মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা।

এরপর নিজের সন্তান এবং আরেক জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষা ও তার সন্তানকে নিয়ে আশকোনার ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে এসে আত্মসমর্পণ করেন। জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে পরিবারের আহ্বান অনেক জরুরি সেটারও প্রমাণ হলো এই আত্মসর্মপনের মধ্যে।

এ ব্যাপারে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা বলেন, দেশ থেকে জঙ্গি নির্মূল করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার থেকে এ ব্যাপারে বেশি সোচ্চার হতে হবে। পরিবারের সদস্যরা চাইলে পুলিশের কাজ আরো সহজ হয়ে উঠবে।

তিনি জানান, শনিবার ভোর রাত থেকে রাজধানীর আশকোনায় ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। ওই ভবনের ভেতরে মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ও সন্তান, এর আগে নিহত জঙ্গি তানভীর কাদরির ছেলে আদর ও মাইনুদ্দীন নামে এক জঙ্গি রয়েছে বলে ধারণা করছিলেন তারা।

এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়ির ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমপর্ণ করতে বলা হয়। প্রথমে তারা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় সোয়াত টিম অভিযান শুরু করে। পুলিশ সদস্যরা নানা ভাবে তাদের আত্মসমর্পণের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। পুলিশ জীবিত অবস্থায় তাদের গ্রেফতারের জন্য চরম ধৈর্য দেখিয়েছে। তাদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করতে করতেই এক সময় সুমনের স্ত্রী হঠাত্ করে বেরিয়ে আসার কথা বলে।

শিশু মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসে সে। তার গায়ে সুইসাইডাল ভেস্ট বাধা ছিল। তাতে তাজা গ্রেনেড ছিল। পুলিশ তাকে ওই ভেস্ট পরে না আসার জন্য চ্যালেঞ্জ করে। কিন্তু ওই নারী ভেতরে গিয়ে আবার বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে সুইসাইড ভেস্টের সুইচ ধরে টান দেয়। এতে বিস্ফোরণ হয়। সঙ্গে থাকা ওই মহিলা তাত্ক্ষণিক মৃত্যুবরণ করে। সঙ্গে থাকা শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পুলিশ ওই শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

এদিকে পুলিশ কৌশলী হয়ে এরইমধ্যে জেবুন্নাহার শিলার মা ও ভাইকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। শিলার মা হ্যান্ড মাইকে তাকে ডাকতে থাকেন। বারবার আত্মসমর্পণের অনুরোধ জানায়। এরপর জঙ্গি মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা নিজের সন্তান এবং আরেক জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষা ও তার সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে বাইরে বের হয়ে আসে। তাদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

Tag :
লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

মায়ের আহ্বানেই শিলা আত্মসমর্পণ করে

আপডেট টাইম : ০৪:০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬

আত্মসমর্পণের জন্য যখন পুলিশের আহবানে যখন কাজ হচ্ছিল না তখন এগিয়ে আসেন নিহত জঙ্গি মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা মা ও ভাই। তারা শিলাকে আত্মসমর্পণের আহবান জানালে সেটাতে কাজ হয়। মা ও ভাইয়ের আহ্বানের পরই আত্মসমর্পণে রাজি হন নিহত জঙ্গি মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা।

এরপর নিজের সন্তান এবং আরেক জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষা ও তার সন্তানকে নিয়ে আশকোনার ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে এসে আত্মসমর্পণ করেন। জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে পরিবারের আহ্বান অনেক জরুরি সেটারও প্রমাণ হলো এই আত্মসর্মপনের মধ্যে।

এ ব্যাপারে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা বলেন, দেশ থেকে জঙ্গি নির্মূল করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার থেকে এ ব্যাপারে বেশি সোচ্চার হতে হবে। পরিবারের সদস্যরা চাইলে পুলিশের কাজ আরো সহজ হয়ে উঠবে।

তিনি জানান, শনিবার ভোর রাত থেকে রাজধানীর আশকোনায় ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। ওই ভবনের ভেতরে মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ও সন্তান, এর আগে নিহত জঙ্গি তানভীর কাদরির ছেলে আদর ও মাইনুদ্দীন নামে এক জঙ্গি রয়েছে বলে ধারণা করছিলেন তারা।

এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়ির ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমপর্ণ করতে বলা হয়। প্রথমে তারা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় সোয়াত টিম অভিযান শুরু করে। পুলিশ সদস্যরা নানা ভাবে তাদের আত্মসমর্পণের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। পুলিশ জীবিত অবস্থায় তাদের গ্রেফতারের জন্য চরম ধৈর্য দেখিয়েছে। তাদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করতে করতেই এক সময় সুমনের স্ত্রী হঠাত্ করে বেরিয়ে আসার কথা বলে।

শিশু মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসে সে। তার গায়ে সুইসাইডাল ভেস্ট বাধা ছিল। তাতে তাজা গ্রেনেড ছিল। পুলিশ তাকে ওই ভেস্ট পরে না আসার জন্য চ্যালেঞ্জ করে। কিন্তু ওই নারী ভেতরে গিয়ে আবার বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে সুইসাইড ভেস্টের সুইচ ধরে টান দেয়। এতে বিস্ফোরণ হয়। সঙ্গে থাকা ওই মহিলা তাত্ক্ষণিক মৃত্যুবরণ করে। সঙ্গে থাকা শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পুলিশ ওই শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

এদিকে পুলিশ কৌশলী হয়ে এরইমধ্যে জেবুন্নাহার শিলার মা ও ভাইকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। শিলার মা হ্যান্ড মাইকে তাকে ডাকতে থাকেন। বারবার আত্মসমর্পণের অনুরোধ জানায়। এরপর জঙ্গি মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা নিজের সন্তান এবং আরেক জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষা ও তার সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে বাইরে বের হয়ে আসে। তাদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।