পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক, হত্যা-পুশ ইন বন্ধে কঠোর বার্তা Logo ১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ৫ পাস করেনি কেউ Logo পাটগ্রাম পৌরসভায় IUGIP প্রকল্পের আওতায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে পরামর্শকরণ সভা Logo বিআরটিএ মিরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৪ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo লালমনিরহাটে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, আমন চাষিদের বিক্ষোভ Logo বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ

ছাত্রলীগেই ডুবছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

পিএনএস ডেস্ক: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে এখন শুধই ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে ছাত্রদল শিবিরের কার্যক্রম না থাকায় সর্বত্রই এখন ছাত্রলীগ। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে শাবি ছাত্রলীগ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় এক সময়ের অগ্রণী এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ক্রমাগত ছাত্রলীগের অপকর্মের কারণে ডুবতে বসেছে। ছাত্রলীগের বিতর্কিকত কর্মকান্ডে বার বার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ছাত্রদল-শিবির সবাই ছাত্রলীগ:
২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী ১০ম জাতীয় নির্বাচনের ৬ মাস আগেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায় ছাত্রলীগ। হাইপ্রোফাইল নেতারা দেন গা ঢাকা। অনেকেই যোগ দেন ছাত্রদল-শিবিরে। নির্বাচনের পরে এসব কর্মীদের নিয়েই গড়ে ওঠে নতুন ছাত্রলীগ। এরপরই শুরু হয়েছে ছাত্রলীগের নতুন অধ্যায়। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ড আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে শাবি ছাত্রলীগকে। অভ্যান্তরীন কোন্দলে সুমন হত্যা, উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষদের পিটুনী, সাংস্কৃতিক কর্মী পেটানো, আলোচিত বদরুল কান্ড, ভর্তি পরীক্ষায় জালিযাতিতে যুক্ত থাকাসহ বিভিন্ন অঘটনের জন্ম দিয়েছে শাবি ছাত্রলীগ।

অভ্যান্তরীন কোন্দল চরমে:
নতুন কর্মীদের জায়গা দিতে কক্ষ দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিভিন্ন গ্রুপের নেতারা। আবাসিক হলগুলো হয়ে ওঠেছে দেশী-বিদেশী অস্ত্রের গুদামঘরে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামান্য ঘটনাতেই শুরু হয় সংঘর্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারায় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন। সুমন হত্যার দু;বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচিত ছাত্রলীগ নেতারা বীর দর্পে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

উপাচার্য বিরোধী শিক্ষকদের পিটুনী:
উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে থাকা শিক্ষকদের উপর হামলা করে আলোচনায় আসে শাবি ছাত্রলীগ। ২০১৫ সালে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যখন সমস্যা সমাধানে কাজ করছিলেন তখনই আন্দোলনরত শিক্ষকদের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় ইমেজ সংকটে পড়ে ছাত্রলীগ। শিক্ষক পেটানের ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। প্রধানমন্ত্রীও ছাত্রলীগের আগাছা উপড়ে ফেলার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিন নেতাকে সাময়িক বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে আবার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় ছাত্রলীগ। এভাবেই পার পেয়ে যায় শিক্ষক পেটানো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

আলোচিত ‘বদরূল’ কাণ্ড:
বর্তমান সময়ে শাবি ছাত্রলীগের সবচেয়ে বেশি ইমেজ ক্ষুন্ন হয়েছে আলোচিত বদরুল কাণ্ডে। শাবি ছাত্রলীগ কর্মী বদরুলের বর্তমান অবস্থা যাচাই বাঁছাই না করেই ডেকে এনে সহ-সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বদরুল। ছাত্রলীগ নেতার এমন নৃশংস কাণ্ডে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ। খাদিজাকে কোপানের দৃশ্য ভাইরাল হলে তা বিশ্ব মিডিয়াতেও আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিনত হয়। অযোগ্য কর্মীকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়ায় ব্যক্তি বদরুলের অপকর্মের দায় পড়ে পুরো ছাত্রলীগের উপর। ঢাকায় দর্জি বিশ্বজিৎকে হত্যার পর বদরুলের ঘটনা সবচেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয় ছাত্রলীগ তথা আওয়ামী লীগকে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগ ও প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়। খাদিজাও সুস্থ হয়ে উঠলে সাময়িকভাবে ইমেজ রক্ষা পায় ছাত্রলীগের।

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতেও ছাত্রলীগ কর্মী:
২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সম্মান ১ম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার দিনে জালিয়াতির অভিযোগে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত শাহপরাণ হল থেকে ছাত্রলীগ কর্মী আল আমিনকে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ১৬টি অত্যাধুনিক ডিভাইস। ঘটনার পরই থানায় ছুটে যান ওই ছাত্রলীগ কর্মীর আশ্রয়দাতা নেতা। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন আলোচিত ওই ছাত্রলীগ নেতা। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির মত কাজেও ছাত্রলীগ কর্মী জড়িত থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে চলছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।

ছাত্রলীগে জিম্মি শাবি প্রশাসন:
ছাত্রলীগের হাতে ক্রমেই জিম্মি হয়ে পড়ছে শাবি প্রশাসন। বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত থাকলেও ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না প্রশাসন। ২০১৫ সালে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষক পেটানোর পর আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগের একাংশ। গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ গোলাগুলিতে লিপ্ত হলেও তাদেও বিরদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ক্যাম্পাস বন্ধের নির্দেশ দিলে আন্দোলনে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ২১ ঘণ্টার অবরোধে ক্যাম্পাস খুলতে বাধ্য হয় শাবি প্রশাসন।

কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি:
শাবি ছাত্রলীগের এসব অপকর্মের তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি প্রতিনিধি সরেজমিনে এসে তদন্ত করেছে। কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে আবারও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে ক্যাম্পাসে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে আলোচিত বদরুল, মোশাররফ হোসেন রাজুকে বহিস্কার করেছে ছাত্রলীগ। এছাড়া ছাত্রলীগ প্রক্টরীয়াল বিধি মেনে ভর্তি পরীক্ষায় বন্ধ রেখেছে রাজনৈতিক সমাবেশ। পাশাপাশি ছাত্রদল-শিবির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে চালাবে শুদ্ধি আভিযান।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন

পিএনএস/আলআমীন

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক, হত্যা-পুশ ইন বন্ধে কঠোর বার্তা

ছাত্রলীগেই ডুবছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট টাইম : ০৫:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬

পিএনএস ডেস্ক: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে এখন শুধই ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে ছাত্রদল শিবিরের কার্যক্রম না থাকায় সর্বত্রই এখন ছাত্রলীগ। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে শাবি ছাত্রলীগ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় এক সময়ের অগ্রণী এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ক্রমাগত ছাত্রলীগের অপকর্মের কারণে ডুবতে বসেছে। ছাত্রলীগের বিতর্কিকত কর্মকান্ডে বার বার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ছাত্রদল-শিবির সবাই ছাত্রলীগ:
২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী ১০ম জাতীয় নির্বাচনের ৬ মাস আগেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায় ছাত্রলীগ। হাইপ্রোফাইল নেতারা দেন গা ঢাকা। অনেকেই যোগ দেন ছাত্রদল-শিবিরে। নির্বাচনের পরে এসব কর্মীদের নিয়েই গড়ে ওঠে নতুন ছাত্রলীগ। এরপরই শুরু হয়েছে ছাত্রলীগের নতুন অধ্যায়। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ড আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে শাবি ছাত্রলীগকে। অভ্যান্তরীন কোন্দলে সুমন হত্যা, উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষদের পিটুনী, সাংস্কৃতিক কর্মী পেটানো, আলোচিত বদরুল কান্ড, ভর্তি পরীক্ষায় জালিযাতিতে যুক্ত থাকাসহ বিভিন্ন অঘটনের জন্ম দিয়েছে শাবি ছাত্রলীগ।

অভ্যান্তরীন কোন্দল চরমে:
নতুন কর্মীদের জায়গা দিতে কক্ষ দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিভিন্ন গ্রুপের নেতারা। আবাসিক হলগুলো হয়ে ওঠেছে দেশী-বিদেশী অস্ত্রের গুদামঘরে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামান্য ঘটনাতেই শুরু হয় সংঘর্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারায় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন। সুমন হত্যার দু;বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচিত ছাত্রলীগ নেতারা বীর দর্পে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

উপাচার্য বিরোধী শিক্ষকদের পিটুনী:
উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে থাকা শিক্ষকদের উপর হামলা করে আলোচনায় আসে শাবি ছাত্রলীগ। ২০১৫ সালে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যখন সমস্যা সমাধানে কাজ করছিলেন তখনই আন্দোলনরত শিক্ষকদের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় ইমেজ সংকটে পড়ে ছাত্রলীগ। শিক্ষক পেটানের ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। প্রধানমন্ত্রীও ছাত্রলীগের আগাছা উপড়ে ফেলার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিন নেতাকে সাময়িক বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে আবার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় ছাত্রলীগ। এভাবেই পার পেয়ে যায় শিক্ষক পেটানো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

আলোচিত ‘বদরূল’ কাণ্ড:
বর্তমান সময়ে শাবি ছাত্রলীগের সবচেয়ে বেশি ইমেজ ক্ষুন্ন হয়েছে আলোচিত বদরুল কাণ্ডে। শাবি ছাত্রলীগ কর্মী বদরুলের বর্তমান অবস্থা যাচাই বাঁছাই না করেই ডেকে এনে সহ-সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বদরুল। ছাত্রলীগ নেতার এমন নৃশংস কাণ্ডে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ। খাদিজাকে কোপানের দৃশ্য ভাইরাল হলে তা বিশ্ব মিডিয়াতেও আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিনত হয়। অযোগ্য কর্মীকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়ায় ব্যক্তি বদরুলের অপকর্মের দায় পড়ে পুরো ছাত্রলীগের উপর। ঢাকায় দর্জি বিশ্বজিৎকে হত্যার পর বদরুলের ঘটনা সবচেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয় ছাত্রলীগ তথা আওয়ামী লীগকে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগ ও প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়। খাদিজাও সুস্থ হয়ে উঠলে সাময়িকভাবে ইমেজ রক্ষা পায় ছাত্রলীগের।

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতেও ছাত্রলীগ কর্মী:
২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সম্মান ১ম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার দিনে জালিয়াতির অভিযোগে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত শাহপরাণ হল থেকে ছাত্রলীগ কর্মী আল আমিনকে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ১৬টি অত্যাধুনিক ডিভাইস। ঘটনার পরই থানায় ছুটে যান ওই ছাত্রলীগ কর্মীর আশ্রয়দাতা নেতা। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন আলোচিত ওই ছাত্রলীগ নেতা। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির মত কাজেও ছাত্রলীগ কর্মী জড়িত থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে চলছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।

ছাত্রলীগে জিম্মি শাবি প্রশাসন:
ছাত্রলীগের হাতে ক্রমেই জিম্মি হয়ে পড়ছে শাবি প্রশাসন। বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত থাকলেও ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না প্রশাসন। ২০১৫ সালে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষক পেটানোর পর আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগের একাংশ। গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ গোলাগুলিতে লিপ্ত হলেও তাদেও বিরদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ক্যাম্পাস বন্ধের নির্দেশ দিলে আন্দোলনে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ২১ ঘণ্টার অবরোধে ক্যাম্পাস খুলতে বাধ্য হয় শাবি প্রশাসন।

কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি:
শাবি ছাত্রলীগের এসব অপকর্মের তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি প্রতিনিধি সরেজমিনে এসে তদন্ত করেছে। কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে আবারও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে ক্যাম্পাসে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে আলোচিত বদরুল, মোশাররফ হোসেন রাজুকে বহিস্কার করেছে ছাত্রলীগ। এছাড়া ছাত্রলীগ প্রক্টরীয়াল বিধি মেনে ভর্তি পরীক্ষায় বন্ধ রেখেছে রাজনৈতিক সমাবেশ। পাশাপাশি ছাত্রদল-শিবির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে চালাবে শুদ্ধি আভিযান।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন

পিএনএস/আলআমীন