অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

কে এই কিলার নূর হোসেন?

ডেস্ক: সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেন ছিলেন ট্রাকের হেলপার। ৯০ দশকের আগে ট্রাক হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে হয়ে উঠলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। চাঁদা আদায় করতেন নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। নদীর বালু তোলা থেকে শুরু করে যুক্ত হন মাদক ব্যবসায়। গড়ে তোলেন মাদক সাম্রাজ্য। অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চোরাকারবারী, ভাড়ায় মানুষ খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জুয়ার আসর ও অন্যের জমি দখল করাই হয়ে উঠে তার মূল পেশা।

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকার মৃত হাজী বদর উদ্দিনের ছেলে নূর হোসেন। ছয় ভাইয়ের মধ্যে নূর হোসেন তৃতীয়। পৈতৃক সূত্রেই জায়গা জমির মালিক নূর হোসেন। শিক্ষা ধিক্ষায় পিছিয়ে থাকা নূর হোসেন ইচ্ছা পোষণ করে গাড়ির চালক হওয়ার। ৯০ দশকের আগে সিদ্ধিরগঞ্জের আ. মান্নান কন্ট্রাকটারের মাধ্যমে ট্রাক হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করে।

রাজনৈতিক পালা বদলে দেশের শীর্ষ কোন দল বাদ দেননি আলোচিত এই নূর হোসেন। ১৯৮৫ সালে এরশাদের কর্মী হয়ে রাজনীতিতে নাম লেখান তিনি। পরে, ১৯৯২ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনের আশীর্বাদে। ১৯৯৫ সালে আদমজীতে খালেদা জিয়ার জনসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। বোমা হামলা চালান এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের গাড়িতে। চলে আসেন আলোচনায়। শুরু করেন প্রকাশ্য রাজনীতি। নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান সাংসদ নির্বাচিত হলে দলবদল করেন নূর হোসেন। ১৯৯৮ সালে চলে আসেন শামীম ওসমানের ছত্রছায়ায়। ছেড়ে দেন গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গ। গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। হত্যার চেষ্টা করেন প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলামকে।

২০০১ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান নূর হোসেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর দেশে ফিরে আসেন তিনি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের নেতাদের পেছনে খরচ করেন মোটা অংক। ২০১৩ সালে দখলে নেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদটি। পরিচিতি পান নারায়ণগঞ্জের সাংসদ শামীম ওসমানের কাছের লোক হিসেবে। পর পর দু’বার নির্বাচিত হন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের পর সকল অপকর্মের রহস্য ফাঁস হয়ে যায় তার।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

কে এই কিলার নূর হোসেন?

আপডেট টাইম : ০৫:০৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৭

ডেস্ক: সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেন ছিলেন ট্রাকের হেলপার। ৯০ দশকের আগে ট্রাক হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে হয়ে উঠলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। চাঁদা আদায় করতেন নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। নদীর বালু তোলা থেকে শুরু করে যুক্ত হন মাদক ব্যবসায়। গড়ে তোলেন মাদক সাম্রাজ্য। অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চোরাকারবারী, ভাড়ায় মানুষ খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জুয়ার আসর ও অন্যের জমি দখল করাই হয়ে উঠে তার মূল পেশা।

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকার মৃত হাজী বদর উদ্দিনের ছেলে নূর হোসেন। ছয় ভাইয়ের মধ্যে নূর হোসেন তৃতীয়। পৈতৃক সূত্রেই জায়গা জমির মালিক নূর হোসেন। শিক্ষা ধিক্ষায় পিছিয়ে থাকা নূর হোসেন ইচ্ছা পোষণ করে গাড়ির চালক হওয়ার। ৯০ দশকের আগে সিদ্ধিরগঞ্জের আ. মান্নান কন্ট্রাকটারের মাধ্যমে ট্রাক হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করে।

রাজনৈতিক পালা বদলে দেশের শীর্ষ কোন দল বাদ দেননি আলোচিত এই নূর হোসেন। ১৯৮৫ সালে এরশাদের কর্মী হয়ে রাজনীতিতে নাম লেখান তিনি। পরে, ১৯৯২ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনের আশীর্বাদে। ১৯৯৫ সালে আদমজীতে খালেদা জিয়ার জনসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। বোমা হামলা চালান এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের গাড়িতে। চলে আসেন আলোচনায়। শুরু করেন প্রকাশ্য রাজনীতি। নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান সাংসদ নির্বাচিত হলে দলবদল করেন নূর হোসেন। ১৯৯৮ সালে চলে আসেন শামীম ওসমানের ছত্রছায়ায়। ছেড়ে দেন গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গ। গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। হত্যার চেষ্টা করেন প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলামকে।

২০০১ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান নূর হোসেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর দেশে ফিরে আসেন তিনি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের নেতাদের পেছনে খরচ করেন মোটা অংক। ২০১৩ সালে দখলে নেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদটি। পরিচিতি পান নারায়ণগঞ্জের সাংসদ শামীম ওসমানের কাছের লোক হিসেবে। পর পর দু’বার নির্বাচিত হন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের পর সকল অপকর্মের রহস্য ফাঁস হয়ে যায় তার।