অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

গাজীপুরে ভাগ্নিকে হত্যার দায়ে মামার মৃত্যুদণ্ড

গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার নাজনীন নামের ৭ বছরের এক শিশুকে হত্যার দায়ে মো. রিপন মিয়া (৩৩) নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং রবিউল ও মোজাফ্ফর নামের আরও দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ রায় দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রিপন মিয়া শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার হাসমত আলীর ছেলে। এছাড়া যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত অপর দুই আসামিরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ভাটকান্দি গ্রামের মো. রহিমের ছেলে রবিউল ইসলাম (২০) ও শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার দিঘিরপাড় এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে মো. মোজাফ্ফর (১৯)। তাদেরকে পাঁচ হাজার জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

জানা যায়, শিশু নাজনীনের মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর নাজনীন শ্রীপুরের চকপাড়ায় নানা হাসমত আলীর বাড়িতে থাকত। গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে রিপন মিয়া তার দুই সহযোগীকে নিয়ে আপন ভাগ্নি নাজমীনকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরদিন নিহত শিশু নাজনীনের মা মোসাম্মৎ আসমা বেগম শ্রীপুর থানায় মামলা করেন।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর স্ত্রী মিনুজা বেগম ও নাতনি নাজমীনকে বাড়িতে রেখে হাসমত আলী টাঙ্গাইল বেড়াতে যান। ওই দিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নানির সঙ্গে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা নাজমীনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে উঠানে জবাই করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মা আছমা বেগম বাদী হয়ে ৩০ অক্টোবর প্রতিবেশী আবদুল করিম, আবদুল কাদির ও আবদুল মোতালেবকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খন্দকার আমিনুর রহমান মামলার তদন্ত করে নিহত শিশুর আপন মামা মো. রিপন মিয়া এবং তার দুই সহযোগী রবিউল ও মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করে। এজাহারভুক্ত তিনজনের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে রিপন মিয়াসহ দুই সহযোগী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ ২০১৬ সালে ৬ জানুয়ারি রিপন মিয়া, রবিউল ও মোজাফফরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে রিপন মিয়া স্বীকার করেন, পূর্বশত্রুতা ও জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষ করিম গংদের ফাঁসাতেই তিনি তার ভাগ্নিকে হত্যা করেছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

গাজীপুরে ভাগ্নিকে হত্যার দায়ে মামার মৃত্যুদণ্ড

আপডেট টাইম : ০৫:১৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার নাজনীন নামের ৭ বছরের এক শিশুকে হত্যার দায়ে মো. রিপন মিয়া (৩৩) নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং রবিউল ও মোজাফ্ফর নামের আরও দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ রায় দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রিপন মিয়া শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার হাসমত আলীর ছেলে। এছাড়া যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত অপর দুই আসামিরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ভাটকান্দি গ্রামের মো. রহিমের ছেলে রবিউল ইসলাম (২০) ও শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার দিঘিরপাড় এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে মো. মোজাফ্ফর (১৯)। তাদেরকে পাঁচ হাজার জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

জানা যায়, শিশু নাজনীনের মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর নাজনীন শ্রীপুরের চকপাড়ায় নানা হাসমত আলীর বাড়িতে থাকত। গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে রিপন মিয়া তার দুই সহযোগীকে নিয়ে আপন ভাগ্নি নাজমীনকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরদিন নিহত শিশু নাজনীনের মা মোসাম্মৎ আসমা বেগম শ্রীপুর থানায় মামলা করেন।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর স্ত্রী মিনুজা বেগম ও নাতনি নাজমীনকে বাড়িতে রেখে হাসমত আলী টাঙ্গাইল বেড়াতে যান। ওই দিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নানির সঙ্গে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা নাজমীনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে উঠানে জবাই করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মা আছমা বেগম বাদী হয়ে ৩০ অক্টোবর প্রতিবেশী আবদুল করিম, আবদুল কাদির ও আবদুল মোতালেবকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খন্দকার আমিনুর রহমান মামলার তদন্ত করে নিহত শিশুর আপন মামা মো. রিপন মিয়া এবং তার দুই সহযোগী রবিউল ও মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করে। এজাহারভুক্ত তিনজনের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে রিপন মিয়াসহ দুই সহযোগী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ ২০১৬ সালে ৬ জানুয়ারি রিপন মিয়া, রবিউল ও মোজাফফরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে রিপন মিয়া স্বীকার করেন, পূর্বশত্রুতা ও জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষ করিম গংদের ফাঁসাতেই তিনি তার ভাগ্নিকে হত্যা করেছেন।