অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

ইলিশ রফতানি করতে চায় সরকার

ডেস্ক : ‘পাচার ঠেকাতে’ সরকার ইলিশ মাছ রফতানির কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।

সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন গত সপ্তাহে প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণ চন্দ।

নারায়ন চন্দ্র বলেন, ‘আমরা রপ্তানির দিকে যেতে চাচ্ছি এই কারণেও যে আমাদের ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে। সেজন্য আমরা কিছুটা রপ্তানি করতে চাই।’

২০১২ সালের ১ অগাস্ট থেকে ইলিশসহ সব মাছ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ‍প্রত্যাহার করা হয়।

সরকার ইলিশ মাছ রপ্তানি বন্ধ রাখলেও অবৈধভাবে তা পাচার হচ্ছে জানিয়ে নারায়ন বলেন, ‘এতে রাজস্ব থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয়। আমরা যদি রপ্তানি করি, তাহলে ওপেন পথটা করে দেওয়া যায়, গোপনে যাওয়ার পথটা তখন অনেকটা সঙ্কুচিত হয়ে যায়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বড় আকারের ইলিশ মাছ গোপনে পাচার হওয়ায় দেশের বাজারে বড় ইলিশ কম পাওয়া যায়। বড় মাছ বাজারে আনতে হলে গোপন পথটি বন্ধ করতে হবে, আমাদের সদর পথটি চালু করতে হবে।’

রপ্তানি হলেও মা ইলিশ সংরক্ষণে গত কয়েক বছর ধরে সরকার যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দাদনের হাত থেকে রক্ষায় তাদের সাবলম্বী করে তুলতে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করতে গবেষণা চলছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ দশমিক ৯৫ লাখ টন। আর ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়, তার ১১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের মত।

বিশ্বের মোট ইলিশের ৭৫ শতাংশ আহরণ করা হয় বাংলাদেশে। প্রত্য ক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ লাখ মানুষের জীবিকার উৎস এই ইলিশ।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায়, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডে ইলিশের বিভিন্ন প্রজাতির বিচরণ কমলেও সরকারের বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের আবেদনে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর গতবছর ইলিশকে বাংলাদেশের ‘ভৌগলিক নির্দেশক’ (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের ব্র্যান্ডিং ও শনাক্তকরণ সহজ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মাকসুদুল হাসান খান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

ইলিশ রফতানি করতে চায় সরকার

আপডেট টাইম : ০৬:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জানুয়ারী ২০১৮

ডেস্ক : ‘পাচার ঠেকাতে’ সরকার ইলিশ মাছ রফতানির কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।

সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন গত সপ্তাহে প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণ চন্দ।

নারায়ন চন্দ্র বলেন, ‘আমরা রপ্তানির দিকে যেতে চাচ্ছি এই কারণেও যে আমাদের ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে। সেজন্য আমরা কিছুটা রপ্তানি করতে চাই।’

২০১২ সালের ১ অগাস্ট থেকে ইলিশসহ সব মাছ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ‍প্রত্যাহার করা হয়।

সরকার ইলিশ মাছ রপ্তানি বন্ধ রাখলেও অবৈধভাবে তা পাচার হচ্ছে জানিয়ে নারায়ন বলেন, ‘এতে রাজস্ব থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয়। আমরা যদি রপ্তানি করি, তাহলে ওপেন পথটা করে দেওয়া যায়, গোপনে যাওয়ার পথটা তখন অনেকটা সঙ্কুচিত হয়ে যায়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বড় আকারের ইলিশ মাছ গোপনে পাচার হওয়ায় দেশের বাজারে বড় ইলিশ কম পাওয়া যায়। বড় মাছ বাজারে আনতে হলে গোপন পথটি বন্ধ করতে হবে, আমাদের সদর পথটি চালু করতে হবে।’

রপ্তানি হলেও মা ইলিশ সংরক্ষণে গত কয়েক বছর ধরে সরকার যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দাদনের হাত থেকে রক্ষায় তাদের সাবলম্বী করে তুলতে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করতে গবেষণা চলছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ দশমিক ৯৫ লাখ টন। আর ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়, তার ১১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের মত।

বিশ্বের মোট ইলিশের ৭৫ শতাংশ আহরণ করা হয় বাংলাদেশে। প্রত্য ক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ লাখ মানুষের জীবিকার উৎস এই ইলিশ।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায়, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডে ইলিশের বিভিন্ন প্রজাতির বিচরণ কমলেও সরকারের বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের আবেদনে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর গতবছর ইলিশকে বাংলাদেশের ‘ভৌগলিক নির্দেশক’ (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের ব্র্যান্ডিং ও শনাক্তকরণ সহজ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মাকসুদুল হাসান খান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।