অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

ফার্মগেটে মামলা দিয়ে তবেই ছাড়

ডেস্ক : সকাল আটটা থেকেই একজন-দুজন করে করে ফার্মগেটমুখী হতে থাকে। এর মধ্যে আকাশে মেঘও জমতে শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে ফার্মগেট পদচারী সেতুর নিচে জড়ো হয় কয়েক’শ শিক্ষার্থী। চলতে থাকে স্লোগান-‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।

টানা পঞ্চম দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। ফার্মগেটের আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। আজ সকালে বৃষ্টিও হয়েছে। ভিজে একাকার হয়ে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হন।

সড়কে নেমেই শিক্ষার্থীরা যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষা শুরু করে। লাইসেন্স না থাকলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে যাচ্ছে পুলিশের কাছে। মামলা দিয়ে তবেই ছাড়। কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, বিজয় সরণি ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যাওয়ার সবগুলো সড়কেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে চেকপোস্ট বানিয়েছে। বিজয় সরণি যাওয়ার সড়কে তারা বিআরটিসির দোতলা একটি বাস আড়াআড়ি রেখে ব্যারিকেড তৈরি করে।

অ্যাম্বুলেন্স, হজযাত্রী ও জরুরি যান ছাড়া আর কোনো যানবাহন ফার্মগেট থেকে ছাড়া হয়নি। ফার্মগেট এলাকায় জরুরি যানের গায়ে সাদা কাগজে ‘ইএম (ইমার্জেন্সি)’ লিখে ছেড়ে দেওয়া হয়। যাতে পরবর্তীতে আর কেউ না আটকায়। কোনো কোনো গাড়িতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বসে কাচের ভেতর থেকে ইশারা দিয়ে গাড়ি পার করে দেয়। কেউ কেউ বিদেশযাত্রীর পাসপোর্ট দেখাতে দেখাতে যান পার করে দেয়।

সরকারি বিজ্ঞান কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সকাল থেকেই আছি। সরকার মুখে তো অনেক কিছুই বলছে শান্ত করার জন্য। কিন্তু দাবিগুলো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা আস্থা রাখতে পারছি না।’ তিনি জানালেন, বাসা থেকে এ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার সম্মতি পাচ্ছেন। লাইসেন্স পরীক্ষা করতে থাকা এক শিক্ষার্থী জানান, ‘বেশির ভাগ পুলিশেরই দেখলাম লাইসেন্স নাই। কীভাবে এরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করে! নিজেদের মধ্যেই তো ঘাপলা।’

হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট পদচারী সেতুর নিচে সমবেত হয়ে জাতীয় সংগীত গায়। তাদের সঙ্গে গলা মেলায় আশপাশে থাকা লোকজন। ফার্মগেটে আজ অনেক অভিভাবকও এসেছিলেন। এদের একজন পারভীন আক্তার। মেয়ে হলিক্রসের শিক্ষার্থী। পারভীন বলেন, ‘সকালেই মেয়েকে নিয়ে এসেছি। বৃষ্টিতে ভিজেছি, সেই কাপড় গায়েই শুকিয়েছে। ওদের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন আছে।’ নিজের নাক দেখিয়ে বলেন, ‘পুরান ঢাকায় আমার বাসা ছিল। বাসে যাতায়াত করে দুইবার অ্যাকসিডেন্ট করেছি। নাক ফেটে যায় একবার। কষ্ট সহ্য হতো না। পরে মেয়ের কলেজের কাছে এখন বাসা নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো ক্ষমতার আন্দোলন করছে না। নিরাপদ একটি সড়কের জন্য ন্যায্য দাবি নিয়ে সড়কে নেমেছে।

দুপুরের পর শিক্ষার্থীরা বিশাল একটি মিছিল বের করে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে। সার্ক ফোয়ারা মোড়ে এসে তারা আজকের মতো আন্দোলন শেষ করে। তবে জানালেন, আগামীকাল শুক্রবার হলেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবে শিক্ষার্থীরা।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

ফার্মগেটে মামলা দিয়ে তবেই ছাড়

আপডেট টাইম : ০৩:৪৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অগাস্ট ২০১৮

ডেস্ক : সকাল আটটা থেকেই একজন-দুজন করে করে ফার্মগেটমুখী হতে থাকে। এর মধ্যে আকাশে মেঘও জমতে শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে ফার্মগেট পদচারী সেতুর নিচে জড়ো হয় কয়েক’শ শিক্ষার্থী। চলতে থাকে স্লোগান-‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।

টানা পঞ্চম দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। ফার্মগেটের আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। আজ সকালে বৃষ্টিও হয়েছে। ভিজে একাকার হয়ে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হন।

সড়কে নেমেই শিক্ষার্থীরা যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষা শুরু করে। লাইসেন্স না থাকলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে যাচ্ছে পুলিশের কাছে। মামলা দিয়ে তবেই ছাড়। কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, বিজয় সরণি ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যাওয়ার সবগুলো সড়কেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে চেকপোস্ট বানিয়েছে। বিজয় সরণি যাওয়ার সড়কে তারা বিআরটিসির দোতলা একটি বাস আড়াআড়ি রেখে ব্যারিকেড তৈরি করে।

অ্যাম্বুলেন্স, হজযাত্রী ও জরুরি যান ছাড়া আর কোনো যানবাহন ফার্মগেট থেকে ছাড়া হয়নি। ফার্মগেট এলাকায় জরুরি যানের গায়ে সাদা কাগজে ‘ইএম (ইমার্জেন্সি)’ লিখে ছেড়ে দেওয়া হয়। যাতে পরবর্তীতে আর কেউ না আটকায়। কোনো কোনো গাড়িতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বসে কাচের ভেতর থেকে ইশারা দিয়ে গাড়ি পার করে দেয়। কেউ কেউ বিদেশযাত্রীর পাসপোর্ট দেখাতে দেখাতে যান পার করে দেয়।

সরকারি বিজ্ঞান কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সকাল থেকেই আছি। সরকার মুখে তো অনেক কিছুই বলছে শান্ত করার জন্য। কিন্তু দাবিগুলো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা আস্থা রাখতে পারছি না।’ তিনি জানালেন, বাসা থেকে এ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার সম্মতি পাচ্ছেন। লাইসেন্স পরীক্ষা করতে থাকা এক শিক্ষার্থী জানান, ‘বেশির ভাগ পুলিশেরই দেখলাম লাইসেন্স নাই। কীভাবে এরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করে! নিজেদের মধ্যেই তো ঘাপলা।’

হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট পদচারী সেতুর নিচে সমবেত হয়ে জাতীয় সংগীত গায়। তাদের সঙ্গে গলা মেলায় আশপাশে থাকা লোকজন। ফার্মগেটে আজ অনেক অভিভাবকও এসেছিলেন। এদের একজন পারভীন আক্তার। মেয়ে হলিক্রসের শিক্ষার্থী। পারভীন বলেন, ‘সকালেই মেয়েকে নিয়ে এসেছি। বৃষ্টিতে ভিজেছি, সেই কাপড় গায়েই শুকিয়েছে। ওদের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন আছে।’ নিজের নাক দেখিয়ে বলেন, ‘পুরান ঢাকায় আমার বাসা ছিল। বাসে যাতায়াত করে দুইবার অ্যাকসিডেন্ট করেছি। নাক ফেটে যায় একবার। কষ্ট সহ্য হতো না। পরে মেয়ের কলেজের কাছে এখন বাসা নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো ক্ষমতার আন্দোলন করছে না। নিরাপদ একটি সড়কের জন্য ন্যায্য দাবি নিয়ে সড়কে নেমেছে।

দুপুরের পর শিক্ষার্থীরা বিশাল একটি মিছিল বের করে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে। সার্ক ফোয়ারা মোড়ে এসে তারা আজকের মতো আন্দোলন শেষ করে। তবে জানালেন, আগামীকাল শুক্রবার হলেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবে শিক্ষার্থীরা।