পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান

ডেস্ক : আজ পবিত্র হজ। ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি মাতা লাকা ওয়ালমুলক’। অর্থাৎ, আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার। এই ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।

সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফ থেকে সাড়ে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে আরাফাত ময়দানে সারা দিন অবস্থান লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান নর-নারীর। বিশ্বের ১৭১টি দেশের ২৫-৩০ লাখ মুসলমান হজ পালনের জন্য কেউ হেঁটে, আবার কেউবা গাড়িতে চড়ে হাজির হবেন আরাফাতের ময়দানে।

পুরুষরা শ্বেত-শুভ্র সেলাইবিহীন ইহরামের দুই খণ্ড কাপড় পরে (নারীরা স্বাভাবিক কাপড়ে) তালবিয়া পাঠ করে মহান আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় লাখ লাখ হাজি আজ সৌদি আরবের মক্কা নগরীর মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করাই হজ।

আজ ফজরের নামাজের পর হজব্রত পালনকারী লাখ লাখ নর-নারী ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হবেন। অবস্থান করবেন সূর্যাস্ত পর্যন্ত। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল ভূমি মুসলমানদের অতি পবিত্র। এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন। হজের খুতবা শুনবেন এবং একই সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন।

আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে খুতবা পাঠ করবেন গ্র্যান্ড ইমাম। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহতায়ালার জিকির-আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে পড়বেন এবং সারা রাত সেখানে অবস্থান করবেন। প্রত্যেকে মিনায় জামারাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন।

আগামীকাল ১০ জিলহজ মুজদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন হাজীরা। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজীদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মীনাকে ডান দিকে রেখে হাজীরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) কংকর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে পশু কোরবানি দেন।

তৃতীয় পর্বে পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করবেন। চতুর্থ কাজ হাজীদের তাওয়াফে জিয়ারত। ১০ জিলহজ মিনায় রাতযাপন করে পরদিন মঙ্গলবার ১১ জিলহজ দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজীরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে কংকর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত। ১১ জিলহজ মিনায় রাতযাপন করে পরদিন বুধবার ১২ জিলহজ পুনরায় একইভাবে হাজীরা তিনটি শয়তানের ওপর প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন। শয়তানকে পাথর অর্থাৎ কংকর নিক্ষেপ করা শেষ করে সূর্যাস্তের আগেই মিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যাবেন।

আর মক্কায় পৌঁছার পর হাজীদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ী তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ী তাওয়াফ অর্থাৎ কাবা শরিফে পুনরায় সাতবার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজীরা পবিত্র হজব্রত পালন সম্পন্ন করবেন।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান

আপডেট টাইম : ০৮:৫৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮

ডেস্ক : আজ পবিত্র হজ। ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি মাতা লাকা ওয়ালমুলক’। অর্থাৎ, আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার। এই ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।

সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফ থেকে সাড়ে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে আরাফাত ময়দানে সারা দিন অবস্থান লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান নর-নারীর। বিশ্বের ১৭১টি দেশের ২৫-৩০ লাখ মুসলমান হজ পালনের জন্য কেউ হেঁটে, আবার কেউবা গাড়িতে চড়ে হাজির হবেন আরাফাতের ময়দানে।

পুরুষরা শ্বেত-শুভ্র সেলাইবিহীন ইহরামের দুই খণ্ড কাপড় পরে (নারীরা স্বাভাবিক কাপড়ে) তালবিয়া পাঠ করে মহান আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় লাখ লাখ হাজি আজ সৌদি আরবের মক্কা নগরীর মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করাই হজ।

আজ ফজরের নামাজের পর হজব্রত পালনকারী লাখ লাখ নর-নারী ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হবেন। অবস্থান করবেন সূর্যাস্ত পর্যন্ত। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল ভূমি মুসলমানদের অতি পবিত্র। এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন। হজের খুতবা শুনবেন এবং একই সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন।

আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে খুতবা পাঠ করবেন গ্র্যান্ড ইমাম। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহতায়ালার জিকির-আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে পড়বেন এবং সারা রাত সেখানে অবস্থান করবেন। প্রত্যেকে মিনায় জামারাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন।

আগামীকাল ১০ জিলহজ মুজদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন হাজীরা। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজীদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মীনাকে ডান দিকে রেখে হাজীরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) কংকর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে পশু কোরবানি দেন।

তৃতীয় পর্বে পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করবেন। চতুর্থ কাজ হাজীদের তাওয়াফে জিয়ারত। ১০ জিলহজ মিনায় রাতযাপন করে পরদিন মঙ্গলবার ১১ জিলহজ দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজীরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে কংকর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত। ১১ জিলহজ মিনায় রাতযাপন করে পরদিন বুধবার ১২ জিলহজ পুনরায় একইভাবে হাজীরা তিনটি শয়তানের ওপর প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন। শয়তানকে পাথর অর্থাৎ কংকর নিক্ষেপ করা শেষ করে সূর্যাস্তের আগেই মিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যাবেন।

আর মক্কায় পৌঁছার পর হাজীদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ী তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ী তাওয়াফ অর্থাৎ কাবা শরিফে পুনরায় সাতবার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজীরা পবিত্র হজব্রত পালন সম্পন্ন করবেন।