অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

না খেয়ে মরছে মানুষ, কেউ খাচ্ছে ইঁদুর

ডেস্কঃ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভালো দিনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্র“তির ওপর ভর করেই উত্তরপ্রদেশের জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু রাজ্য সরকারের এক বছরের মধ্যেই বেরিয়ে পড়ল আসল সত্যিটা। যে স্বপ্ন বিজেপি সরকার দেখিয়েছিল, সেটা যে কতটা অন্তঃসারশূন্য, তা বুঝতে পেরেছে উত্তরপ্রদেশের মানুষ।

একদিকে যখন খাদ্যশষ্যের সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে মোদি সরকার ভোটের রাজনীতিতে মেতেছেন, ঠিক অন্যদিকে বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশে ইঁদুর খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সেই ইঁদুরই খাচ্ছেন তারা।

শুধু নিজেরাই নন, সন্তানদের মুখেও সেই বিষ তুলে দিচ্ছেন। পেটের জালা মেটাতে প্রতিদিন একটু একটু করে বিষপান করছেন উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চল জেলার বাসিন্দারা। দারিদ্র্য আর অনাহারের থাবা তাদের গ্রাস করছে ধীরে ধীরে। দিনের পর দিন ক্ষুধায় কাতরাতে কাতরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে ছেলে-বুড়ো সবাই।

কুশিনগড় শহর থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরের রাকবা দুলমা পাত্তি গ্রামের অবস্থা এতটাই করুন যে, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বছরখানেক আগেও দুই সন্তান নিয়ে বেশ ভালোই ছিলেন সোনা দেবী। ১৪ সেপ্টেম্বর তার মুখের হাসি নিভে গেছে। না খেতে পেয়ে মরে গেছে ছেলে দুটো। পেট পিঠের সঙ্গে লেগে যাওয়া শরীরটাকে পাঁজাকোলা করে হাসপাতালে নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। পাশের জঙ্গল খিড়কি গ্রামেও একই অবস্থা। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য না করতে পেরে মরল ভিরেন্দ্র মুশার ৬ বছরের ছেলে। আর যারা বেঁচে আছেন, তাদের হালও বেহাল।

একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরের মধ্যেই গুঁতোগুঁতি করে থাকেন আট থেকে ১০ জন। ১০০ দিনের কাজের খাতায় নাম থাকলেও কাজ পান না এখানকার বাসিন্দারা। পেটের জালা মেটাতে তাই ইঁদুরই ভরসা।

ফলে উত্তরপ্রদেশের এই প্রত্যন্ত এলাকায় একে একে বাড়ছে মৃত্যু। এখন পর্যন্ত একই পরিবারের চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ক্ষুদা এতটাই যে আরও শিশুর মৃত্যু বাড়ছে। এরা বোধহয় শুনতে পাননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভালো দিনের প্রতিশ্র“তি।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

না খেয়ে মরছে মানুষ, কেউ খাচ্ছে ইঁদুর

আপডেট টাইম : ০৪:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর ২০১৮

ডেস্কঃ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভালো দিনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্র“তির ওপর ভর করেই উত্তরপ্রদেশের জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু রাজ্য সরকারের এক বছরের মধ্যেই বেরিয়ে পড়ল আসল সত্যিটা। যে স্বপ্ন বিজেপি সরকার দেখিয়েছিল, সেটা যে কতটা অন্তঃসারশূন্য, তা বুঝতে পেরেছে উত্তরপ্রদেশের মানুষ।

একদিকে যখন খাদ্যশষ্যের সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে মোদি সরকার ভোটের রাজনীতিতে মেতেছেন, ঠিক অন্যদিকে বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশে ইঁদুর খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সেই ইঁদুরই খাচ্ছেন তারা।

শুধু নিজেরাই নন, সন্তানদের মুখেও সেই বিষ তুলে দিচ্ছেন। পেটের জালা মেটাতে প্রতিদিন একটু একটু করে বিষপান করছেন উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চল জেলার বাসিন্দারা। দারিদ্র্য আর অনাহারের থাবা তাদের গ্রাস করছে ধীরে ধীরে। দিনের পর দিন ক্ষুধায় কাতরাতে কাতরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে ছেলে-বুড়ো সবাই।

কুশিনগড় শহর থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরের রাকবা দুলমা পাত্তি গ্রামের অবস্থা এতটাই করুন যে, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বছরখানেক আগেও দুই সন্তান নিয়ে বেশ ভালোই ছিলেন সোনা দেবী। ১৪ সেপ্টেম্বর তার মুখের হাসি নিভে গেছে। না খেতে পেয়ে মরে গেছে ছেলে দুটো। পেট পিঠের সঙ্গে লেগে যাওয়া শরীরটাকে পাঁজাকোলা করে হাসপাতালে নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। পাশের জঙ্গল খিড়কি গ্রামেও একই অবস্থা। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য না করতে পেরে মরল ভিরেন্দ্র মুশার ৬ বছরের ছেলে। আর যারা বেঁচে আছেন, তাদের হালও বেহাল।

একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরের মধ্যেই গুঁতোগুঁতি করে থাকেন আট থেকে ১০ জন। ১০০ দিনের কাজের খাতায় নাম থাকলেও কাজ পান না এখানকার বাসিন্দারা। পেটের জালা মেটাতে তাই ইঁদুরই ভরসা।

ফলে উত্তরপ্রদেশের এই প্রত্যন্ত এলাকায় একে একে বাড়ছে মৃত্যু। এখন পর্যন্ত একই পরিবারের চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ক্ষুদা এতটাই যে আরও শিশুর মৃত্যু বাড়ছে। এরা বোধহয় শুনতে পাননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভালো দিনের প্রতিশ্র“তি।