পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি দেশকে গড়ে তুলতে হলে দক্ষমানব শক্তির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। শুধু দেশের জন্য নয়, যারা বিদেশে কাজ করবেন তাদেরও দক্ষ হয়ে যেতে হবে। তাহলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবো।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ২৩তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আইডিইবি’র সভাপতি এ কে এম এ হামিদ।

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা, জলাধার রক্ষা, গাছ লাগানোসহ দেশের উন্নয়নে আপনারা কাজ করবেন। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এ জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট করছি। ইতোমধ্যে ১০০টি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তারা। স্বাধীনতার পরে কালভার্ট, ব্রিজ ও স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অর্থাৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত একটা বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য সবকিছুতেই ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অবদান রয়েছে। ১৯৫৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, প্রকৌশল শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে আমরা ১২টি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছি। এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষ জনশক্তি বের হলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। ২০৪১ সালের যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, আশা করছি সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন ৪১ সালে এদেশের মানুষ সেই বাংলাদেশ পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষে দেশের প্রতিটি গৃহহীন মানুষ ঘর পাবে, সে ব্যবস্থা নেব। গ্রামে বসবাসকারীদের শহরের সুবিধা নিশ্চিত করে দিতে চাই। ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য শহরের বিমানবন্দরগুলো ঠিক করে দিচ্ছি। সেসব আন্তর্জাতিক মানের করে দিচ্ছি যেন চলাচলে কোনো অসুবিধা না হয়। নৌ বন্দরগুলো ঠিক করে দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, কৃষিজমি, জলাধারসহ পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষা করে প্রকৌশলীদের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ অঞ্চল। সে যেন প্রকৃতির প্রতিঘাত থেকে রক্ষা পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। মুজিববর্ষের কর্মসূচির বড় পদক্ষেপ হবে প্রতিবেশ ও পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ, বৃক্ষরোপণের চেষ্টা করা, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে যেন মূল ভূখণ্ডের ফসলি জমি নষ্ট না হয়।

প্রকৌশলীদের দাবি দাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আপনাদের দাবি দাওয়ার বিষয়টা আমি জানি। আমি গতবারের আমার বক্তৃতার একটা কপি পেলাম। খারাপ লাগলো যে আমার কথার বাস্তবায়ন হয়নি। অর্থমন্ত্রণালয়ে গেলে সবইতো একটু আটকা পড়ে যায়। তবে আপনাদেরও উচিত ছিলো বিষয়টা বাজেট প্রণয়নের আগেই সামনে আনা। এখন আমি দেখবো বিষয়টা কিভাবে সমাধান করা যায়। রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে ডিসিপ্লিনের বিষয় আছে।

এসময় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে ঢাকায় আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীকে নির্বাচিত করায় নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইডিইবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণ করবেন।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৯:৫৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি দেশকে গড়ে তুলতে হলে দক্ষমানব শক্তির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। শুধু দেশের জন্য নয়, যারা বিদেশে কাজ করবেন তাদেরও দক্ষ হয়ে যেতে হবে। তাহলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবো।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ২৩তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আইডিইবি’র সভাপতি এ কে এম এ হামিদ।

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা, জলাধার রক্ষা, গাছ লাগানোসহ দেশের উন্নয়নে আপনারা কাজ করবেন। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এ জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট করছি। ইতোমধ্যে ১০০টি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তারা। স্বাধীনতার পরে কালভার্ট, ব্রিজ ও স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অর্থাৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত একটা বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য সবকিছুতেই ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অবদান রয়েছে। ১৯৫৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, প্রকৌশল শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে আমরা ১২টি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছি। এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষ জনশক্তি বের হলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। ২০৪১ সালের যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, আশা করছি সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন ৪১ সালে এদেশের মানুষ সেই বাংলাদেশ পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষে দেশের প্রতিটি গৃহহীন মানুষ ঘর পাবে, সে ব্যবস্থা নেব। গ্রামে বসবাসকারীদের শহরের সুবিধা নিশ্চিত করে দিতে চাই। ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য শহরের বিমানবন্দরগুলো ঠিক করে দিচ্ছি। সেসব আন্তর্জাতিক মানের করে দিচ্ছি যেন চলাচলে কোনো অসুবিধা না হয়। নৌ বন্দরগুলো ঠিক করে দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, কৃষিজমি, জলাধারসহ পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষা করে প্রকৌশলীদের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ অঞ্চল। সে যেন প্রকৃতির প্রতিঘাত থেকে রক্ষা পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। মুজিববর্ষের কর্মসূচির বড় পদক্ষেপ হবে প্রতিবেশ ও পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ, বৃক্ষরোপণের চেষ্টা করা, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে যেন মূল ভূখণ্ডের ফসলি জমি নষ্ট না হয়।

প্রকৌশলীদের দাবি দাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আপনাদের দাবি দাওয়ার বিষয়টা আমি জানি। আমি গতবারের আমার বক্তৃতার একটা কপি পেলাম। খারাপ লাগলো যে আমার কথার বাস্তবায়ন হয়নি। অর্থমন্ত্রণালয়ে গেলে সবইতো একটু আটকা পড়ে যায়। তবে আপনাদেরও উচিত ছিলো বিষয়টা বাজেট প্রণয়নের আগেই সামনে আনা। এখন আমি দেখবো বিষয়টা কিভাবে সমাধান করা যায়। রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে ডিসিপ্লিনের বিষয় আছে।

এসময় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে ঢাকায় আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীকে নির্বাচিত করায় নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইডিইবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণ করবেন।