অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

করোনায় বাংলাদেশি চিকিৎসকের মৃত্যু, যা বললেন তার ছেলে

ডেস্ক: করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। ইতোমধ্যে বিশ্বের ২০৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এর বিষাক্ত ছোবল পড়েছে যুক্তরাজ্যেও।

ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, আমেরিকার মতো এই মারণ ভাইরাসের দাপটে কাঁপছে যুক্তরাজ্যও। ভেঙে পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাত। দেখা দিয়েছে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) সঙ্কট। এরই মধ্যে ডাক্তারদের পিপিই সঙ্কট নিয়ে বরিস জনসনকে সতর্ক করা আব্দুল মাবুদ চৌধুরী নামের এক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাতে মারা গেছেন।

আব্দুল মাবুদ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৫ দিন ধরে হাসপতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি একজন ইউরোলজিস্ট ছিলেন। লন্ডনের হোমারটন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাংলাদেশের হবিগঞ্জে।

গত ২৩ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। এর কয়েকদিন আগে তিনি বরিস জনসনকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে লেখেন, সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য জরুরিভিত্তিতে পিপিই দরকার। নাহলে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী মারা যেতে পারেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। এটিই তার ফেসবুকের শেষ স্টেটাস। এরপর বুধবার রাতে মারা যান তিনি। তার ছেলে ইনতিসার চৌধুরী জানান, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তার বাবা পরিবারের কারো সঙ্গে যোগযোগ করেননি। মনে এক ধরনের কষ্ট নিয়ে পিপিই সঙ্কটের কথা লেখেন তিনি।

আব্দুল মাবুদ চৌধুরীর ছেলে ইনতিসার চৌধুরী বলেন, আমার বাবা পিপিই সঙ্কটের পোস্টটি ফেসবুকে লেখেন। তিনি দেখিয়েছেন, তার সহকর্মীদের প্রতি তিনি কতোটা যত্নবান ছিলেন। তিনি বলেন, আমার বাবার সাহস ছিল, যে সরকার যা করছে তার মধ্যে ভুল ছিল; সেটা ধরিয়ে দিতে পেরেছে। এর জন্য আমি গর্বিত।

ইনতিসার চৌধুরী বলেন, করোনার সঙ্গে লাড়াই করে তিনি যা করেছেন; তার জন্য আমি গর্বিত। গতকাল আমি এটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি, আমি অবাক হইনি। আমি সত্যিই অবাক হইনি। কারণ তিনি জনগণের জন্য একজন মানুষ ছিলেন। করোনাযুদ্ধে লড়ে যাওয়া যুক্তরাজ্যের শেষ স্বাস্থ্যকর্মীটি তিনি হতে পারেননি দুর্ভাগ্যক্রমে।

আব্দুল মাবুদ চৌধুরী রেখে গেছেন স্ত্রীসহ ১৮ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১১ বছর বয়সী এক কন্য সন্তান। তার মুত্যুতে যুক্তরাজ্যের মুসলিম ডক্টরস এসোসিয়েশন শোক জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, ইউরোলজিস্ট মাবুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান রেখে গেছেন। আমাদের প্রার্থনা তাদের সঙ্গে রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে একটি বার্তা লিখেছিলেন; যাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের আরো ভালো পিপিই জোগান দেওয়া হয়।

মাবুদ চৌধুরীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে হোমার্টন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী ট্রেসি ফ্লেচার বলেছেন, ইউরোলজি বিভাগের প্রতিটি সদস্য, ওয়ার্ড, থিয়েটার এবং ব্যবস্থাপনায় যারা চিনতেন তারাই সবাই তাকে খুব মিস করবেন। দুঃখের এই সময়ে আমাদের প্রার্থনা রয়েছে তার পরিবারের সঙ্গে। সূত্র: আইবিসি নিউজ

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

করোনায় বাংলাদেশি চিকিৎসকের মৃত্যু, যা বললেন তার ছেলে

আপডেট টাইম : ১০:১৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২০

ডেস্ক: করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। ইতোমধ্যে বিশ্বের ২০৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এর বিষাক্ত ছোবল পড়েছে যুক্তরাজ্যেও।

ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, আমেরিকার মতো এই মারণ ভাইরাসের দাপটে কাঁপছে যুক্তরাজ্যও। ভেঙে পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাত। দেখা দিয়েছে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) সঙ্কট। এরই মধ্যে ডাক্তারদের পিপিই সঙ্কট নিয়ে বরিস জনসনকে সতর্ক করা আব্দুল মাবুদ চৌধুরী নামের এক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাতে মারা গেছেন।

আব্দুল মাবুদ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৫ দিন ধরে হাসপতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি একজন ইউরোলজিস্ট ছিলেন। লন্ডনের হোমারটন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাংলাদেশের হবিগঞ্জে।

গত ২৩ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। এর কয়েকদিন আগে তিনি বরিস জনসনকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে লেখেন, সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য জরুরিভিত্তিতে পিপিই দরকার। নাহলে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী মারা যেতে পারেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। এটিই তার ফেসবুকের শেষ স্টেটাস। এরপর বুধবার রাতে মারা যান তিনি। তার ছেলে ইনতিসার চৌধুরী জানান, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তার বাবা পরিবারের কারো সঙ্গে যোগযোগ করেননি। মনে এক ধরনের কষ্ট নিয়ে পিপিই সঙ্কটের কথা লেখেন তিনি।

আব্দুল মাবুদ চৌধুরীর ছেলে ইনতিসার চৌধুরী বলেন, আমার বাবা পিপিই সঙ্কটের পোস্টটি ফেসবুকে লেখেন। তিনি দেখিয়েছেন, তার সহকর্মীদের প্রতি তিনি কতোটা যত্নবান ছিলেন। তিনি বলেন, আমার বাবার সাহস ছিল, যে সরকার যা করছে তার মধ্যে ভুল ছিল; সেটা ধরিয়ে দিতে পেরেছে। এর জন্য আমি গর্বিত।

ইনতিসার চৌধুরী বলেন, করোনার সঙ্গে লাড়াই করে তিনি যা করেছেন; তার জন্য আমি গর্বিত। গতকাল আমি এটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি, আমি অবাক হইনি। আমি সত্যিই অবাক হইনি। কারণ তিনি জনগণের জন্য একজন মানুষ ছিলেন। করোনাযুদ্ধে লড়ে যাওয়া যুক্তরাজ্যের শেষ স্বাস্থ্যকর্মীটি তিনি হতে পারেননি দুর্ভাগ্যক্রমে।

আব্দুল মাবুদ চৌধুরী রেখে গেছেন স্ত্রীসহ ১৮ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১১ বছর বয়সী এক কন্য সন্তান। তার মুত্যুতে যুক্তরাজ্যের মুসলিম ডক্টরস এসোসিয়েশন শোক জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, ইউরোলজিস্ট মাবুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান রেখে গেছেন। আমাদের প্রার্থনা তাদের সঙ্গে রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে একটি বার্তা লিখেছিলেন; যাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের আরো ভালো পিপিই জোগান দেওয়া হয়।

মাবুদ চৌধুরীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে হোমার্টন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী ট্রেসি ফ্লেচার বলেছেন, ইউরোলজি বিভাগের প্রতিটি সদস্য, ওয়ার্ড, থিয়েটার এবং ব্যবস্থাপনায় যারা চিনতেন তারাই সবাই তাকে খুব মিস করবেন। দুঃখের এই সময়ে আমাদের প্রার্থনা রয়েছে তার পরিবারের সঙ্গে। সূত্র: আইবিসি নিউজ