পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬,৬৮৬ জনের মৃত্যু

ডেস্কঃ করোনায় প্রায় দুই মাস বাসসহ পরিবহন বন্ধ থাকলেও ২০২০ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬ হাজার ৬৮৬ জন। এ সব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৬০০ জন যাত্রী। শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

২০২০ সালে দেশে বিচ্ছিন্নভাবে ৪ হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই সময় দেশে রেলপথে ৩২৩টি দুর্ঘটনায় ৩১৮ জন নিহত হয়েছেন ও আহত হয়েছেন ৭৯ জন। নৌপথে ১৮৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১৩ জন ও আহত হয়েছেন ৩৪২ জন এবং নিখোঁজ হয়েছেন আরও ৩৭১ জন।
সড়ক, রেল, নৌ-পথে সর্বমোট ৫ হাজার ৩৯৭ টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩১৭ জন নিহত এবং ৯ হজার ২১ জন আহত হয়েছেন।
২০১৯ এর তুলনায় ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯-এর তুলনায় ২০২০ সালে ১২ শতাংশ দুর্ঘটনা কমেছে। কিন্তু এটাকে কম বলা যাবে না। কারণ, করোনায় দুই মাসের বেশি সময় গণপরিবহন বন্ধ ছিল। সে হিসেবে ২০২০ এ সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে সড়কে মারা গেছে ৭ হাজার ৮৫৫ জন। ২০২০ সালে মারা গেছে ৬ হাজার ৬৮৬ জন।
২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ নসিমন মাহিন্দ্রা-লেগুনায়, ১ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ০ দশমিক ১৯ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাসে দুর্ঘটনা বেড়েছে। এদিকে গত বছরের তুলনায় বাস-ট্রাকে দুর্ঘটনা কমেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাসে ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা কমেছে। একইভাবে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-লরিতে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে এবং ০ দশমিক ৮৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দুর্ঘটনা কমেছে।

পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে। একইভাবে, বেপরোয় গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হায়িয়ে খাদে পড়ার ঘটনা ০ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ ০ দশমিক ১৬ শতাংশ কমলেও মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ২৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে এবং ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। ২০১৯ সালের চেয়ে বিদায়ী বছরে আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও জাতীয় মহাসড়কে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, লেভেল ক্রসিং এ ০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ফিডার রোডে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার ১৫টি কারণ তুলে ধরেছে। সেগুলো হলো- বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তার ত্রুটি, ফিটসেববিহীন যান, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার, মাসক সেবন করে গাড়ি চালানো, ফিডার রোড থেকে হঠাৎ মহাসড়কে উঠে আসা, ফুটপাত দখলে থাকা বা ফুটপাত না থাকা, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ না থাকা, ছোট যানের বৃদ্ধি, সড়কে চাঁদাবাজি, রাস্তার পাশে হাটবাজার এবং ত্রুটিপূর্ণ যান রাস্তায় নামানো। এসব সমস্যা সমাধান করে ১২টি সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এর আগে, করোনার বছর ২০২০ সালে প্রায় দুই মাস বাসসহ পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে চার হাজার ৯৬৯ জনের। এ সময়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে চার হাজার ৯২টি। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৫ হাজার ৮৫ জন। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এতে সড়ক দুর্ঘটনার ১৩টি কারণও তুলে ধরা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬,৬৮৬ জনের মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৫:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২১

ডেস্কঃ করোনায় প্রায় দুই মাস বাসসহ পরিবহন বন্ধ থাকলেও ২০২০ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬ হাজার ৬৮৬ জন। এ সব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৬০০ জন যাত্রী। শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

২০২০ সালে দেশে বিচ্ছিন্নভাবে ৪ হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই সময় দেশে রেলপথে ৩২৩টি দুর্ঘটনায় ৩১৮ জন নিহত হয়েছেন ও আহত হয়েছেন ৭৯ জন। নৌপথে ১৮৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১৩ জন ও আহত হয়েছেন ৩৪২ জন এবং নিখোঁজ হয়েছেন আরও ৩৭১ জন।
সড়ক, রেল, নৌ-পথে সর্বমোট ৫ হাজার ৩৯৭ টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩১৭ জন নিহত এবং ৯ হজার ২১ জন আহত হয়েছেন।
২০১৯ এর তুলনায় ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯-এর তুলনায় ২০২০ সালে ১২ শতাংশ দুর্ঘটনা কমেছে। কিন্তু এটাকে কম বলা যাবে না। কারণ, করোনায় দুই মাসের বেশি সময় গণপরিবহন বন্ধ ছিল। সে হিসেবে ২০২০ এ সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে সড়কে মারা গেছে ৭ হাজার ৮৫৫ জন। ২০২০ সালে মারা গেছে ৬ হাজার ৬৮৬ জন।
২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ নসিমন মাহিন্দ্রা-লেগুনায়, ১ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ০ দশমিক ১৯ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাসে দুর্ঘটনা বেড়েছে। এদিকে গত বছরের তুলনায় বাস-ট্রাকে দুর্ঘটনা কমেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাসে ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা কমেছে। একইভাবে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-লরিতে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে এবং ০ দশমিক ৮৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দুর্ঘটনা কমেছে।

পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে। একইভাবে, বেপরোয় গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হায়িয়ে খাদে পড়ার ঘটনা ০ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ ০ দশমিক ১৬ শতাংশ কমলেও মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ২৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে এবং ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। ২০১৯ সালের চেয়ে বিদায়ী বছরে আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও জাতীয় মহাসড়কে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, লেভেল ক্রসিং এ ০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ফিডার রোডে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার ১৫টি কারণ তুলে ধরেছে। সেগুলো হলো- বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তার ত্রুটি, ফিটসেববিহীন যান, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার, মাসক সেবন করে গাড়ি চালানো, ফিডার রোড থেকে হঠাৎ মহাসড়কে উঠে আসা, ফুটপাত দখলে থাকা বা ফুটপাত না থাকা, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ না থাকা, ছোট যানের বৃদ্ধি, সড়কে চাঁদাবাজি, রাস্তার পাশে হাটবাজার এবং ত্রুটিপূর্ণ যান রাস্তায় নামানো। এসব সমস্যা সমাধান করে ১২টি সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এর আগে, করোনার বছর ২০২০ সালে প্রায় দুই মাস বাসসহ পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে চার হাজার ৯৬৯ জনের। এ সময়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে চার হাজার ৯২টি। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৫ হাজার ৮৫ জন। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এতে সড়ক দুর্ঘটনার ১৩টি কারণও তুলে ধরা হয়।