অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

৩ মাস পর বেড়িয়ে এলো শিশু হানজালাল হত্যার রহস্য, যা জানা গেল

ডেস্ক: বগুড়ার গাবতলীতে তিন মাস পর শিশু হানজালাল (৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত করেছে পুলিশ। মাদক সেবনের টাকা সংগ্রহ এবং নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্যেই হানজালালকে হত্যা করে ওষুধব্যবসায়ী মজনু মিয়া।

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। গ্রেপ্তার করা আসামি মনজু মিয়াকে আজ শনিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মজনু মিয়া গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর নিশুপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন এবং দুটি সিমকার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা। এর আগে, অপহরণের ৩৮ দিন পর ২১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া বটতলা হাঁড়িপুকুর থেকে ওই শিশুর বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যার শিকার হানজালাল নিশুপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী পিন্টু মিয়া প্রামাণিকের ছেলে। এ ঘটনায় পিন্টু মিয়া বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় হত্যা মামলা করে।

পুলিশ সুপার জানান, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর, বিকেল ৩টার নিশুপাড়া বাজারে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি তা ওষুধের দোকানে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। এমন সময় মনজু মিয়া শিশু হানজালালকে সুকৌশলে দোকানে ডেকে নেয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল হানজালালের হাতে দিয়ে দোকানের সাটার নামিয়ে দেয়। পরবর্তীকালে শিশু হানজালালের সামনে মাদকসেবন করা কালে তাকে অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ দাবির পরিকল্পনা করে। তারপর দোকানে থাকা স্কস্টেপ মুখে লাগানোর চেষ্টাকালে হানজালাল চিৎকার দেয় এবং ছোটাছুটির চেষ্টা করে। পরে আসামি হাত দিয়ে হানজালালকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ স্কস্টেপ দিয়ে মুড়িয়ে গুমের জন্য দোকানের একটি তাকের মধ্যে রেখে দিয়ে বাড়িতে চলে যায়। পরে বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে এসে লাশ সেখানে ভরে ইটযুক্ত করে পাশের পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার কয়েকদিন পরে আনন্দ কুমার দাশ নামে এক ভিক্ষুককে ভাতা দেওয়ার কথা বলে তার ভোটার আইডি কার্ড এবং আঙুলের ছাপ দিয়ে শহরের সাতমাথা এলাকা থেকে একটি সিমকার্ড সংগ্রহ করে। পরে শহর থেকে ভয়েস পরিবর্তন করে কথা বলা যায় এমন একটি মোবাইল ফোন কিনে মনজু মিয়া। নতুন কেনা ফোন দিয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে হানজালালের মায়ের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ করে। পরবর্তীতে মনজু মিয়া ২১ জানুয়ারি হানজালালের মা-কে জানায়, তার সন্তানের লাশ পুকুরের পাশে পানিতে রাখা আছে। পরে লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ‘খুনি অনেক চালাক প্রকৃতির। মুক্তিপণের টাকা দাবির সময় বার বার স্থান ও কণ্ঠ পরিবর্তন করে আসছিল। তাই রহস্য উন্মোচনে সময় লেগেছে।’

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

৩ মাস পর বেড়িয়ে এলো শিশু হানজালাল হত্যার রহস্য, যা জানা গেল

আপডেট টাইম : ০৩:০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ মার্চ ২০২১

ডেস্ক: বগুড়ার গাবতলীতে তিন মাস পর শিশু হানজালাল (৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত করেছে পুলিশ। মাদক সেবনের টাকা সংগ্রহ এবং নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্যেই হানজালালকে হত্যা করে ওষুধব্যবসায়ী মজনু মিয়া।

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। গ্রেপ্তার করা আসামি মনজু মিয়াকে আজ শনিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মজনু মিয়া গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর নিশুপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন এবং দুটি সিমকার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা। এর আগে, অপহরণের ৩৮ দিন পর ২১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া বটতলা হাঁড়িপুকুর থেকে ওই শিশুর বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যার শিকার হানজালাল নিশুপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী পিন্টু মিয়া প্রামাণিকের ছেলে। এ ঘটনায় পিন্টু মিয়া বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় হত্যা মামলা করে।

পুলিশ সুপার জানান, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর, বিকেল ৩টার নিশুপাড়া বাজারে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি তা ওষুধের দোকানে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। এমন সময় মনজু মিয়া শিশু হানজালালকে সুকৌশলে দোকানে ডেকে নেয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল হানজালালের হাতে দিয়ে দোকানের সাটার নামিয়ে দেয়। পরবর্তীকালে শিশু হানজালালের সামনে মাদকসেবন করা কালে তাকে অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ দাবির পরিকল্পনা করে। তারপর দোকানে থাকা স্কস্টেপ মুখে লাগানোর চেষ্টাকালে হানজালাল চিৎকার দেয় এবং ছোটাছুটির চেষ্টা করে। পরে আসামি হাত দিয়ে হানজালালকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ স্কস্টেপ দিয়ে মুড়িয়ে গুমের জন্য দোকানের একটি তাকের মধ্যে রেখে দিয়ে বাড়িতে চলে যায়। পরে বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে এসে লাশ সেখানে ভরে ইটযুক্ত করে পাশের পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার কয়েকদিন পরে আনন্দ কুমার দাশ নামে এক ভিক্ষুককে ভাতা দেওয়ার কথা বলে তার ভোটার আইডি কার্ড এবং আঙুলের ছাপ দিয়ে শহরের সাতমাথা এলাকা থেকে একটি সিমকার্ড সংগ্রহ করে। পরে শহর থেকে ভয়েস পরিবর্তন করে কথা বলা যায় এমন একটি মোবাইল ফোন কিনে মনজু মিয়া। নতুন কেনা ফোন দিয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে হানজালালের মায়ের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ করে। পরবর্তীতে মনজু মিয়া ২১ জানুয়ারি হানজালালের মা-কে জানায়, তার সন্তানের লাশ পুকুরের পাশে পানিতে রাখা আছে। পরে লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ‘খুনি অনেক চালাক প্রকৃতির। মুক্তিপণের টাকা দাবির সময় বার বার স্থান ও কণ্ঠ পরিবর্তন করে আসছিল। তাই রহস্য উন্মোচনে সময় লেগেছে।’