পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

সেই রাতে তিনশ’ যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি

ডেস্ক: নাম মিলন খান। পেশায় ট্রলারচালক। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে আগুন দেখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া তিনশ’ যাত্রীকে উদ্ধার করেছেন তিনি। বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের তীরে ও মুমূর্ষুদের হাসপাতালের পথ পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছেন মিলন খান।

মিলন লঞ্চঘাট বেড়িবাঁধ এলাকার মৃত সরুব আলীর ছেলে। স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পাঁচজনের সংসার তার। প্রতিদিন ১০ টাকার বিনিময়ে ট্রলারে করে সদরের দিয়াকুল থেকে শহরের লঞ্চঘাটে যাত্রী পারাপার করেন তিনি। তবে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দিন তিনি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি। ঘটনার দিন রাত তিনটা থেকে পরদিন শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত আহত যাত্রীদের পারাপারের কাজ করেছেন তিনি।

ট্রলারচালক মিলন খান বলেন, ‘রাত তিনটার দিকে নদীতে যাত্রীদের চিৎকার ও আগুন দেখে ট্রলার নিয়ে রওনা দেই। গিয়ে দেখি আগুন থেকে বাঁচতে যাত্রীরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ভেসে আছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে যাই। এলাকার লোকজন তাদের আশ্রয় দেন। তাদের অনেকেই দগ্ধ ছিলেন। কারও কারও হাত-পা ভাঙা ছিল। তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন ছিল। দিয়াকুল গ্রামের মানুষের সহায়তায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩০০ যাত্রী পারাপার করে তীরে ও হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেছি। আমি কারও কাছ থেকে কোনো ভাড়া নিইনি। টাকাই সব নয়। বিপদে মানুষকে সহায়তা করেছি, এটাও কম নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছি। তবে আরো মানুষকে বাঁচাতে পারলে মনটা ভালো লাগত।’

গত ২৩ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দিবাগত গভীর রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান-১০ এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এদের মধ্যে ৩৭ জনের বাড়িই বরগুনায়। ওই ঘটনায় আহত শতাধিক যাত্রী। নিখোঁজ অনেকে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

সেই রাতে তিনশ’ যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি

আপডেট টাইম : ০৫:২৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১

ডেস্ক: নাম মিলন খান। পেশায় ট্রলারচালক। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে আগুন দেখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া তিনশ’ যাত্রীকে উদ্ধার করেছেন তিনি। বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের তীরে ও মুমূর্ষুদের হাসপাতালের পথ পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছেন মিলন খান।

মিলন লঞ্চঘাট বেড়িবাঁধ এলাকার মৃত সরুব আলীর ছেলে। স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পাঁচজনের সংসার তার। প্রতিদিন ১০ টাকার বিনিময়ে ট্রলারে করে সদরের দিয়াকুল থেকে শহরের লঞ্চঘাটে যাত্রী পারাপার করেন তিনি। তবে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দিন তিনি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি। ঘটনার দিন রাত তিনটা থেকে পরদিন শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত আহত যাত্রীদের পারাপারের কাজ করেছেন তিনি।

ট্রলারচালক মিলন খান বলেন, ‘রাত তিনটার দিকে নদীতে যাত্রীদের চিৎকার ও আগুন দেখে ট্রলার নিয়ে রওনা দেই। গিয়ে দেখি আগুন থেকে বাঁচতে যাত্রীরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ভেসে আছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে যাই। এলাকার লোকজন তাদের আশ্রয় দেন। তাদের অনেকেই দগ্ধ ছিলেন। কারও কারও হাত-পা ভাঙা ছিল। তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন ছিল। দিয়াকুল গ্রামের মানুষের সহায়তায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩০০ যাত্রী পারাপার করে তীরে ও হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেছি। আমি কারও কাছ থেকে কোনো ভাড়া নিইনি। টাকাই সব নয়। বিপদে মানুষকে সহায়তা করেছি, এটাও কম নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছি। তবে আরো মানুষকে বাঁচাতে পারলে মনটা ভালো লাগত।’

গত ২৩ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দিবাগত গভীর রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান-১০ এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এদের মধ্যে ৩৭ জনের বাড়িই বরগুনায়। ওই ঘটনায় আহত শতাধিক যাত্রী। নিখোঁজ অনেকে।