পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

লালমনিরহাট জেলার স-মিল গুলোতে কোন প্রকার নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি ছাড়াই কাজ করছে স-মিল শ্রমিক শ্রমিকরা।

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট:
লালমনিরহাট জেলার স-মিলগুলোতে কোনো প্রকার নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি ছাড়াই কাজ করতে দেখা গেছে স-মিল শ্রমিকদের। স-মিল শ্রমিকদের অভিযোগ, আঘাতপ্রাপ্ত কিংবা অঙ্গহানি হলে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসার খরচ পান তারা অন্য কোনো খরচ মালিক পক্ষ দেন না বা কোনো ক্ষতিপূরণও দেয়া হয় না।

অপরদিকে মালিকরা বলছেন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিংবা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বন বিভাগ থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে না।

লালমনিরহাট বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, লাইসেন্সে এমন কোনো শর্ত নেই। তবে শ্রমিকের চিকিৎসা খরচ বা অন্যান্য খরচ বহনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মিল মালিক পক্ষের।

লালমনিরহাটে বিভিন্ন এলাকার স-মিলের শ্রমিকদের (মিস্ত্রী)’র সাথে কথা বললে তারা বলেন, ‘আমরা দির্ঘদিন থেকে কাজ করি। কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আমাদের অনেকের অঙ্গ হানির মত ঘটনা ঘটেছে এর ফলে বাসায় বেকার অবস্থায় বসে থাকতে হয়। মালিক শুধু প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা খরচ দেয়।

শহিদুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ধরে কাজ করি। কিন্তু কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য কি সরঞ্জাম লাগে তা আমরা জানিও না কিংবা মালিকও দেয় না। আমার জানামতে গত কয়েক বছরে অনেক এক্সিডেন্ট হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় আমাদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা উচিত’।

স-মিলে কাঠ কাটাতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, স-মিলের শ্রমিকদের অঙ্গহানির ঘটনা প্রায় ঘটছে এর ফলে শ্রমিকরা সারা জীবন অসহায়ত্ব জীবন যাপন করে এর দায় কেউই এরাতো পারে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স-মিল মালিক বলেন, ‘বন বিভাগ থেকে সুরক্ষার বিষয়ে কিংবা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমাদের দেয়া নাই। আমরা বহু বছর থেকে এভাবেই মিল চালিয়ে আসছি। আমরা আসলে এ বিষয়ে কী করতে হবে তা বুঝিও না বা জানিও না। তবে বন বিভাগ যদি কোনো নির্দেশনা দেয় তা আমরা মেনে চলবো’।

লালমনিরহাট সামাজিক বনায়ন, নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে লাইসেন্স নেয়ার আগে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমোদন নিতে হয়। আমার জানামতে লাইসেন্সে শুধু ফায়ার সেফটির বিষয়টি উল্লেখ করা আছে। শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয় না’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো এক্সিডেন্ট রেকর্ড বা তথ্য সংরক্ষণ করি না। তবে কেউ আমাদের জানালে তখনই বিষয়টি জানি। আর শ্রমিকের চিকিৎসা বা অন্যান্য খরচ মিল মালিকদের ওপর নির্ভর করে থাকে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

লালমনিরহাট জেলার স-মিল গুলোতে কোন প্রকার নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি ছাড়াই কাজ করছে স-মিল শ্রমিক শ্রমিকরা।

আপডেট টাইম : ০১:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ মে ২০২৪

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট:
লালমনিরহাট জেলার স-মিলগুলোতে কোনো প্রকার নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি ছাড়াই কাজ করতে দেখা গেছে স-মিল শ্রমিকদের। স-মিল শ্রমিকদের অভিযোগ, আঘাতপ্রাপ্ত কিংবা অঙ্গহানি হলে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসার খরচ পান তারা অন্য কোনো খরচ মালিক পক্ষ দেন না বা কোনো ক্ষতিপূরণও দেয়া হয় না।

অপরদিকে মালিকরা বলছেন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিংবা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বন বিভাগ থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে না।

লালমনিরহাট বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, লাইসেন্সে এমন কোনো শর্ত নেই। তবে শ্রমিকের চিকিৎসা খরচ বা অন্যান্য খরচ বহনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মিল মালিক পক্ষের।

লালমনিরহাটে বিভিন্ন এলাকার স-মিলের শ্রমিকদের (মিস্ত্রী)’র সাথে কথা বললে তারা বলেন, ‘আমরা দির্ঘদিন থেকে কাজ করি। কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আমাদের অনেকের অঙ্গ হানির মত ঘটনা ঘটেছে এর ফলে বাসায় বেকার অবস্থায় বসে থাকতে হয়। মালিক শুধু প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা খরচ দেয়।

শহিদুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ধরে কাজ করি। কিন্তু কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য কি সরঞ্জাম লাগে তা আমরা জানিও না কিংবা মালিকও দেয় না। আমার জানামতে গত কয়েক বছরে অনেক এক্সিডেন্ট হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় আমাদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা উচিত’।

স-মিলে কাঠ কাটাতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, স-মিলের শ্রমিকদের অঙ্গহানির ঘটনা প্রায় ঘটছে এর ফলে শ্রমিকরা সারা জীবন অসহায়ত্ব জীবন যাপন করে এর দায় কেউই এরাতো পারে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স-মিল মালিক বলেন, ‘বন বিভাগ থেকে সুরক্ষার বিষয়ে কিংবা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমাদের দেয়া নাই। আমরা বহু বছর থেকে এভাবেই মিল চালিয়ে আসছি। আমরা আসলে এ বিষয়ে কী করতে হবে তা বুঝিও না বা জানিও না। তবে বন বিভাগ যদি কোনো নির্দেশনা দেয় তা আমরা মেনে চলবো’।

লালমনিরহাট সামাজিক বনায়ন, নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে লাইসেন্স নেয়ার আগে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমোদন নিতে হয়। আমার জানামতে লাইসেন্সে শুধু ফায়ার সেফটির বিষয়টি উল্লেখ করা আছে। শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয় না’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো এক্সিডেন্ট রেকর্ড বা তথ্য সংরক্ষণ করি না। তবে কেউ আমাদের জানালে তখনই বিষয়টি জানি। আর শ্রমিকের চিকিৎসা বা অন্যান্য খরচ মিল মালিকদের ওপর নির্ভর করে থাকে।