পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

সাদাকালো ফানুস

541563_1517904235119558_5108356160188602024_nরুবা রহমান: প্রথম দেখাতেই ছেলেটিকে আমার ভালো লেগে গেছে।ওর চোখের একটা গভীর ভাষা আছে সেখানে সুখ না দুঃখ কোনটা বেশি আজও পুরোটা পড়া হয়নি আমার।যখনই সময় পাই,বারান্দায় গিয়ে তাকে দেখি।কারণে-অকারণেই বাসায় ডেকে আনি।কি নাম বলেছিল মনে নেই,আমি ‘সুজন’ বলে ডাকি।সে খুব বিরক্ত হয়ে বলে..”আমার নামতো সুজন না!সুজন ডাকেন ক্যন?”
আমি হেসে বলি.”সুজন মানে জানিস?”নাসূঁচক মাথা নাড়ায়।
আবার হেসে বলি..’দুষ্টু পোলাপাইন।যারা দুষ্টমি করে তাদের নাম সুজন রাখা হয়।’
ওকে দেখলেই আপন লাগে,মায়ার ঢেউ খেলে যায় তাই হয়তো ওকে সুজন ডাকতেই এতো ভালো লাগে।আজ বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় গিয়ে দেখি সে খেলছে।আজই প্রথম খেলতে দেখে আমি অবাক হলাম।
মনের ভিতরে সারিবদ্ধ হয়ে অসংখ্য প্রশ্ন ভাবাচ্ছে আমায়।১০-১১বছরের একটি ছেলে কেমন করে কাঠ মিস্ত্রি হয়?কেন রোজ বিকেলে খেলতে দেখিনা?কেন কাঠ,পেরেক,হাতুরি নিয়ে সকাল শুরু হয়?
আমি অন্তত মাসে ৩বার বাড়ি যাই মাকে দেখতে।এই ছোট্ট ছেলেটি ২ ঈদ ছাড়া কখনোই বাড়ি যায়না!যে বয়সে আমাদের সন্তানের দিন কাটে খেলায়,আহ্লাদে মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে,দস্যিপণায়,স্কুল শেষে কাঁদামাখা ড্রেস নিয়ে ঘরে ফিরে।
সেই বয়সেই দারিদ্রতা সুজনকে আগামীর কাঠমিস্ত্রি হবার স্বপ্ন দেখায়!

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

সাদাকালো ফানুস

আপডেট টাইম : ০৬:২৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৪

541563_1517904235119558_5108356160188602024_nরুবা রহমান: প্রথম দেখাতেই ছেলেটিকে আমার ভালো লেগে গেছে।ওর চোখের একটা গভীর ভাষা আছে সেখানে সুখ না দুঃখ কোনটা বেশি আজও পুরোটা পড়া হয়নি আমার।যখনই সময় পাই,বারান্দায় গিয়ে তাকে দেখি।কারণে-অকারণেই বাসায় ডেকে আনি।কি নাম বলেছিল মনে নেই,আমি ‘সুজন’ বলে ডাকি।সে খুব বিরক্ত হয়ে বলে..”আমার নামতো সুজন না!সুজন ডাকেন ক্যন?”
আমি হেসে বলি.”সুজন মানে জানিস?”নাসূঁচক মাথা নাড়ায়।
আবার হেসে বলি..’দুষ্টু পোলাপাইন।যারা দুষ্টমি করে তাদের নাম সুজন রাখা হয়।’
ওকে দেখলেই আপন লাগে,মায়ার ঢেউ খেলে যায় তাই হয়তো ওকে সুজন ডাকতেই এতো ভালো লাগে।আজ বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় গিয়ে দেখি সে খেলছে।আজই প্রথম খেলতে দেখে আমি অবাক হলাম।
মনের ভিতরে সারিবদ্ধ হয়ে অসংখ্য প্রশ্ন ভাবাচ্ছে আমায়।১০-১১বছরের একটি ছেলে কেমন করে কাঠ মিস্ত্রি হয়?কেন রোজ বিকেলে খেলতে দেখিনা?কেন কাঠ,পেরেক,হাতুরি নিয়ে সকাল শুরু হয়?
আমি অন্তত মাসে ৩বার বাড়ি যাই মাকে দেখতে।এই ছোট্ট ছেলেটি ২ ঈদ ছাড়া কখনোই বাড়ি যায়না!যে বয়সে আমাদের সন্তানের দিন কাটে খেলায়,আহ্লাদে মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে,দস্যিপণায়,স্কুল শেষে কাঁদামাখা ড্রেস নিয়ে ঘরে ফিরে।
সেই বয়সেই দারিদ্রতা সুজনকে আগামীর কাঠমিস্ত্রি হবার স্বপ্ন দেখায়!