পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বরগুনায় নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড: হত্যা শেষে থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণ

তামান্না জেনিফার (বরগুনা) প্রতিনিধি :
বরগুনার কলেজ রোডে স্ত্রীকে নিজ হাতে কুপিয়ে হত্যা করে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন স্বামী আবুল কালাম (৩৫)।রোববার(১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৭ টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্বর্ণালঙ্কার তৈরি করা নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে বরগুনায় স্ত্রী আসমা আক্তার পুতুলকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পন করেছেন স্বামী।

পারিবারিক কলহে প্রায় সংসারে ঝগড়া লেগে থাকতো। তার অবসান ঘটেছে আসমা আক্তার পুতুলকে হত্যার মাধ্যমে।নিহত আসমা আক্তার পুতুল ৬নং কাজিরাবাদ ইউনিয়ন বকুলতলী গ্রামের মৃত মো. ইউনুস হাওলাদারের মেয়ে। ২০১৩ সালে পূর্বালী ব্যাংকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে চাকরি করে। ২০০৮ সালে ইসলামি শরিয়াত মোতাবেক তাদের বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাহাদের ০২টি সন্তান আছে। মোসা. রাকা মনি(১৩) ও মো. রাফি(৪)।

কালামের বাড়ির মালিক মো. রাসেল বলেন, পুতুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশকে আমিও ঘটনার বিষয় জানিয়েছিলাম।
এক বছরের বেশি সময় ধরে কালাম তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। তবে আমি তাদের মধ্যে কোনো ধরনের পারিবারিক কলহ দেখতে পাইনি। এমনকি প্রতিবেশী যারা আছে তারাও দেখেনি। রাতে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে বাসায় এসে দেখি আসমা আক্তারকে মেরে আহত করে ঘর থেকে কালাম চলে গেছে।

আসমার খালাতো ভাই আল-আমীন বলেন, প্রায় শুনতাম পারিবারিক কোন্দল। খবর শুনে বাড়ি থেকে ছুটে আসি,আসার পর দেখি মাটিতে নিথর দেহ পড়ে আছে। পরবর্তীতে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমার বোনের হত্যার বিচার চাই।

আসমার মেয়ে রাকা মনি বলেন, বাবা আমাকে ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পরিয়ে দেয়। লোকজন এসে আমাকে উঠায়। উঠে দেখি আমার মায়ের দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। এলাকার লোকজন হাসপাতাল নিয়ে আসে।

নিহতের বড় মেয়ে রাকা আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের রুলি বানানোকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই তর্কাতর্কি চলে আসছিলো তার বাবা-মায়ের মধ্যে।

পূবালী ব্যাংক, বরগুনা শাখার ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসাইন বলেন, আছমা আক্তার খুবই ভালো একজন স্টাফ ছিল তাদের। রোববার অফিস করে সন্ধ্যার পরে ব্যাংক থেকে বাসায় ফিরে গেছেন। তার কিছুক্ষণ পরেই এমন ঘটনা শুনতে পাই।

এ বিষয় বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, আবুল কালাম নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফ্লোরে পড়ে থাকা আহত অবস্থায় আসমা আক্তারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। এছাড়াও আবুল কালামকে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে আবুল কালামকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম বলেন, স্ত্রীর চাকরির বেতন না দেয়ায় এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঘাতক স্বামী আবুল কালাম বর্তমানে ট্রমাটাইজড অবস্থায় থাকায় এই মুহূর্তে বেশি কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছেনা।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বরগুনায় নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড: হত্যা শেষে থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণ

আপডেট টাইম : ১২:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

তামান্না জেনিফার (বরগুনা) প্রতিনিধি :
বরগুনার কলেজ রোডে স্ত্রীকে নিজ হাতে কুপিয়ে হত্যা করে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন স্বামী আবুল কালাম (৩৫)।রোববার(১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৭ টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্বর্ণালঙ্কার তৈরি করা নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে বরগুনায় স্ত্রী আসমা আক্তার পুতুলকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পন করেছেন স্বামী।

পারিবারিক কলহে প্রায় সংসারে ঝগড়া লেগে থাকতো। তার অবসান ঘটেছে আসমা আক্তার পুতুলকে হত্যার মাধ্যমে।নিহত আসমা আক্তার পুতুল ৬নং কাজিরাবাদ ইউনিয়ন বকুলতলী গ্রামের মৃত মো. ইউনুস হাওলাদারের মেয়ে। ২০১৩ সালে পূর্বালী ব্যাংকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে চাকরি করে। ২০০৮ সালে ইসলামি শরিয়াত মোতাবেক তাদের বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাহাদের ০২টি সন্তান আছে। মোসা. রাকা মনি(১৩) ও মো. রাফি(৪)।

কালামের বাড়ির মালিক মো. রাসেল বলেন, পুতুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশকে আমিও ঘটনার বিষয় জানিয়েছিলাম।
এক বছরের বেশি সময় ধরে কালাম তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। তবে আমি তাদের মধ্যে কোনো ধরনের পারিবারিক কলহ দেখতে পাইনি। এমনকি প্রতিবেশী যারা আছে তারাও দেখেনি। রাতে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে বাসায় এসে দেখি আসমা আক্তারকে মেরে আহত করে ঘর থেকে কালাম চলে গেছে।

আসমার খালাতো ভাই আল-আমীন বলেন, প্রায় শুনতাম পারিবারিক কোন্দল। খবর শুনে বাড়ি থেকে ছুটে আসি,আসার পর দেখি মাটিতে নিথর দেহ পড়ে আছে। পরবর্তীতে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমার বোনের হত্যার বিচার চাই।

আসমার মেয়ে রাকা মনি বলেন, বাবা আমাকে ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পরিয়ে দেয়। লোকজন এসে আমাকে উঠায়। উঠে দেখি আমার মায়ের দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। এলাকার লোকজন হাসপাতাল নিয়ে আসে।

নিহতের বড় মেয়ে রাকা আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের রুলি বানানোকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই তর্কাতর্কি চলে আসছিলো তার বাবা-মায়ের মধ্যে।

পূবালী ব্যাংক, বরগুনা শাখার ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসাইন বলেন, আছমা আক্তার খুবই ভালো একজন স্টাফ ছিল তাদের। রোববার অফিস করে সন্ধ্যার পরে ব্যাংক থেকে বাসায় ফিরে গেছেন। তার কিছুক্ষণ পরেই এমন ঘটনা শুনতে পাই।

এ বিষয় বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, আবুল কালাম নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফ্লোরে পড়ে থাকা আহত অবস্থায় আসমা আক্তারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। এছাড়াও আবুল কালামকে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে আবুল কালামকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম বলেন, স্ত্রীর চাকরির বেতন না দেয়ায় এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঘাতক স্বামী আবুল কালাম বর্তমানে ট্রমাটাইজড অবস্থায় থাকায় এই মুহূর্তে বেশি কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছেনা।