পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

আগামীকাল নোয়াখালী জেলা আ’লীগের সম্মেলন

বাংলার খবর২৪.কম, নোয়াখালী: আগামীকাল শনিবার নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে পুরো এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্মেলনে কোনো প্যানেল ঘোষনা করা না হলেও অঘোষিত সব প্যানেলকেই ভোট করছে সব প্রার্থী।

দীর্ঘ ১০ বছর পর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনকে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা গেলেও সম্মেলনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে বর্তমান কমিটির সম্মেলন করার কোন ক্ষমতা নেই উল্লেখ করে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নোয়াখালী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে দাবি করেছেন।

এর আগে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী নিরাপত্তা চেয়ে নোয়াখালী সদর থানায় জিডি করেছেন।

অপরদিকে নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরণ জেলা সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রাচরণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ছে দলীয় নেতা-কর্মীরা। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খায়রুল আলম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী গোপন প্যানেলে ভোট করছেন।

শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ- সভাপতি মোহাম্মদ আলী মাইজদী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেন, বর্তমান জেলা আ’লীগ সম্মেলন আহবান করার অধিকার নেই। কারণ এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ নয়। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটির মধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন, ১ জন বিদেশে রয়েছেন, ১ জন অব্যাহতি প্রাপ্ত, ৩৮ জন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে কমিটিতে মাত্র ১৮ জন সদস্য রয়েছে। এই ১৮ জনকে নিয়েই একরামুল করিম চৌধুরী কথিত সম্মেলন করতে যাচ্ছেন। তবে তিনি সম্মেলন বয়কট করার ঘোষনা দেন।

এ সময় নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আয়েশা আলী, জেলা আ’লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মিন্টু ও সদস্য ইব্রাহিম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মোহম্মদ আলী সম্মেলন বন্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এরআগে মঙ্গলবার নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নোয়াখালী সদর থানায় জিডি করেন জেলা আ’লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে জেলাব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠে।

অপরদিকে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শিল্পপতি মামুনুর রশিদ কিরণ বুধবার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে জানান, শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্মেলন হলে আমিই সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবো।

তিনি আরো জানান, আমি একজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হলেও এখনো পর্যন্ত আমাকে কাউন্সিলরদের তালিকা দেয়া হয়নি।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শান্তিপূর্ণ ভাবে হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন একাধিক কাউন্সিলর। মূলত জেলা সম্মেলনকে ঘিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবিএম খায়রুল আলম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মামুনুর রশিদ কিরণের গ্রুপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সবার মধ্যে একটা সংশয় কাজ করছে শনিবার সম্মেলন হবে কিনা।

এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলনটা হোক। যারা সম্মেলন বানচাল করতে চায় তারা গণতন্ত্র ও দলের শত্রু।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শিল্পপতি আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরণ বলেন, সম্মেলনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে নির্বাচিত হবে আমি তাকে সাধুবাদ জানাবো।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরিফ বলেন, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ কোনো প্রকার বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

আগামীকাল নোয়াখালী জেলা আ’লীগের সম্মেলন

আপডেট টাইম : ০৬:৩১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম, নোয়াখালী: আগামীকাল শনিবার নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে পুরো এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্মেলনে কোনো প্যানেল ঘোষনা করা না হলেও অঘোষিত সব প্যানেলকেই ভোট করছে সব প্রার্থী।

দীর্ঘ ১০ বছর পর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনকে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা গেলেও সম্মেলনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে বর্তমান কমিটির সম্মেলন করার কোন ক্ষমতা নেই উল্লেখ করে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নোয়াখালী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে দাবি করেছেন।

এর আগে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী নিরাপত্তা চেয়ে নোয়াখালী সদর থানায় জিডি করেছেন।

অপরদিকে নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরণ জেলা সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রাচরণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ছে দলীয় নেতা-কর্মীরা। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খায়রুল আলম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী গোপন প্যানেলে ভোট করছেন।

শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ- সভাপতি মোহাম্মদ আলী মাইজদী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেন, বর্তমান জেলা আ’লীগ সম্মেলন আহবান করার অধিকার নেই। কারণ এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ নয়। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটির মধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন, ১ জন বিদেশে রয়েছেন, ১ জন অব্যাহতি প্রাপ্ত, ৩৮ জন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে কমিটিতে মাত্র ১৮ জন সদস্য রয়েছে। এই ১৮ জনকে নিয়েই একরামুল করিম চৌধুরী কথিত সম্মেলন করতে যাচ্ছেন। তবে তিনি সম্মেলন বয়কট করার ঘোষনা দেন।

এ সময় নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আয়েশা আলী, জেলা আ’লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মিন্টু ও সদস্য ইব্রাহিম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মোহম্মদ আলী সম্মেলন বন্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এরআগে মঙ্গলবার নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নোয়াখালী সদর থানায় জিডি করেন জেলা আ’লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে জেলাব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠে।

অপরদিকে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শিল্পপতি মামুনুর রশিদ কিরণ বুধবার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে জানান, শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্মেলন হলে আমিই সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবো।

তিনি আরো জানান, আমি একজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হলেও এখনো পর্যন্ত আমাকে কাউন্সিলরদের তালিকা দেয়া হয়নি।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শান্তিপূর্ণ ভাবে হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন একাধিক কাউন্সিলর। মূলত জেলা সম্মেলনকে ঘিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবিএম খায়রুল আলম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মামুনুর রশিদ কিরণের গ্রুপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সবার মধ্যে একটা সংশয় কাজ করছে শনিবার সম্মেলন হবে কিনা।

এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলনটা হোক। যারা সম্মেলন বানচাল করতে চায় তারা গণতন্ত্র ও দলের শত্রু।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শিল্পপতি আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরণ বলেন, সম্মেলনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে নির্বাচিত হবে আমি তাকে সাধুবাদ জানাবো।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরিফ বলেন, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ কোনো প্রকার বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।